বোরোর বাম্পার ফলন, ধান সংগ্রহে ব্যস্ত কৃষক
মো. মামুন চৌধুরী || রাইজিংবিডি.কম
হবিগঞ্জ জেলাজুড়ে বোরো ধান সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। শনিবার (২৪ এপ্রিল) পর্যন্ত হাওরে ৫৫ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। বাকী ধান কাটতে কৃষকরা অতিরিক্ত শ্রমিক ও কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন নিয়ে মাঠে কাজ করছেন।
এসব তথ্য দিয়ে হবিগঞ্জ কৃষিবিভাগ জানায়, আশা করা হচ্ছে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত হাওরে ৮০ শতাংশ ধান কাটা হবে। পুরোপুরি ধান সংগ্রহ করতে ৭ মে পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। তবে বন্যার আভাস থাকায় দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে কৃষকদের।
জানা গেছে, হাওরে বোরো ধানই হলো কৃষকদের মূল সম্পদ। সেখানে বছরে ৬ থেকে ৭ মাস পানি থৈ থৈ করে। তাই এই মৌসুমে বোরো ধানের ব্যাপক চাষাবাদ করেন কৃষকরা। ফসলটির উপর নির্ভর করে কৃষকদের পুরো বছরের চলার পথ তৈরি হয়। কিন্তু এ মৌসুমের ঝড়বৃষ্টি বোরো ধানের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। এসময়ে পানিতে ডুবে যাওয়ার আগেই ধান সংগ্রহ করতে হয়।
এখন পর্যন্ত বড় কোনো ধরনের বৃষ্টিপাত হয়নি, তবে সম্ভাবনা আছে। আকাশে মেঘ রয়েছে। এরইমধ্যে জেলার অনেক স্থানে ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি হয়েছে।
জেলার বাহুবল উপজেলার স্নানঘাট হাওরের কৃষক তাহির মিয়া, ফুল মিয়া, সামাদ মিয়া, মাসছু মিয়া, কামাল মিয়া, বছির মিয়া জানালেন, তারা এখন পুরোদমে ধান সংগ্রহে ব্যস্ত। শ্রমিক সংকট থাকায় কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটা হচ্ছে। এ মেশিনে এক দিনেই প্রায় পাঁচ একর জমির ধান কাটা ও মাড়াই করা যায়।
এদের ন্যায় জেলার নবীগঞ্জ, আজমিরীগঞ্জ, মাধবপুর, লাখাই, বানিয়াচং, হবিগঞ্জ সদর উপজেলার হাওর এলাকায় শত শত কৃষক-শ্রমিক সংকটে পড়ে কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিনের সহায়তা নিয়েছেন। তবে নিচু জমিতে এ মেশিনে ধান কাটা কঠিন। তাই শ্রমিকদের মাধ্যমেই নিচু জমি থেকে ধান কাটা অব্যাহত রয়েছে।
জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান বলেন, ‘হবিগঞ্জে বড় ধরনের বৃষ্টিপাতের আভাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। আকস্মিক বন্যারও শঙ্কা রয়েছে। এজন্য জেলার নয়টি উপজেলার কৃষকদের ৮০ শতাংশ পাকা ধান কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত তেমন কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি। আশা করছি, কৃষকদের কষ্টে অর্জিত ফসল ভালোভাবেই সংগ্রহ হবে। আমরা কৃষকদের পাশে আছি। মাঠে গিয়ে কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন হস্তান্তর করছি। কৃষকদের মাঝে ইফতারি বিতরণ করা হচ্ছে। দেওয়া হচ্ছে উৎসাহ।’
হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. তমিজ উদ্দিন খান বলেন, ‘জেলায় এ মৌসুমে প্রায় এক লাখ ২২ হাজার ১৩০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে পাঁচ লাখ ১৪ হাজার মেট্রিক টন। ৮ এপ্রিল থেকে ধান কাটা শুরু হয়েছে। আশা করছি, হাওরে মে মাসের ৭ তারিখের মধ্যে ১০০ শতাংশ বোরো ধান কাটা হয়ে যাবে। ধানের বাম্পার ফলন পেয়ে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে।’
হবিগঞ্জ/মাহি