ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০২ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ২০ ১৪৩২ || ১৪ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ঘরোয়াভাবে হবে শিকদার বাড়ির দুর্গাপূজা

বাগেরহাট প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:৪০, ৬ অক্টোবর ২০২১   আপডেট: ১৯:৪১, ৬ অক্টোবর ২০২১
ঘরোয়াভাবে হবে শিকদার বাড়ির দুর্গাপূজা

হিন্দু ধর্মালম্বীদের সব থেকে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজা। বাংলাদেশের শহর থেকে গ্রাম সব জায়গায়ই সনাতন ধর্মালম্বীরা এই উৎসব পালন করেন। দুর্গাপূজার পাঁচদিন সমগ্র দেশেই উৎসবের আমেজ লেগে থাকে। কয়েক বছর ধরে এই উৎসব আয়োজনে ভক্ত দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বাগেরহাট সদর উপজেলার হাকিমপুর গ্রামের শিকদার বাড়ির পূজা মণ্ডপ।  প্রতিমার সংখ্যার দিক দিয়ে এই মণ্ডপকে এশিয়া মহাদেশের সব থেকে বড় মণ্ডপ বলে দাবি করেছেন আয়োজকরা। 

২০১১ সালে ২৫১টি প্রতিমা নিয়ে প্রথম দুর্গাপূজার জমকালো আয়োজন শুরু হয় শিকদার বাড়িতে। সেই থেকে প্রতি বছর ধুমধামে পূজা হয়ে আসছে এই বাড়িতে। ২০১৯ সালেও ৮০১টি প্রতিমা নিয়ে এই বাড়িতে পূজা উদযাপিত হয়। 

আরো পড়ুন:

 করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে ২০২০ সালে শিকদার বাড়িতে খুবই সীমিত পরিসরে পূজা উদযাপিত হয়েছে। এ বছরও স্বল্প পরিসরে শুধুমাত্র জরুরী ধর্মীয় আচার রক্ষার্থে পূজার আয়োজন করেছে কর্তৃপক্ষ। 

করোনা পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এবারের শিকদার বাড়ির পূজায় বাইরের দর্শনার্থীদের না আসার অনুরোধ করেছেন আয়োজকরা। তবে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবারও বড় পরিসরে পূজা আয়োজনের কথা জানিয়েছেন শিশির কুমার শিকদার।

শিশির কুমার বলেন, ‘প্রতিবছর পূজা শুরুর ছয় মাস আগে থেকেই মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করি আমরা। কিন্তু এ বছর দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে বড় করে পূজার আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ পূজা দেখতে দেশ বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কয়েক লাখ দর্শনাথীর সমাগম হয় শিকদার বাড়িতে। এছাড়া সরকারের স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে এই উৎসব করা সম্ভব হবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘এ বছর সংক্ষিপ্ত পরিসরে পারিবারিকভাবে শুধু মা দুর্গার প্রতিমা স্থাপন করে পূজা-আর্চোনা করা হবে।’
হাকিমপুর গ্রামের বাসিন্দা জতিন্দ্রনাথ সাহা বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে শিকদার বাড়িতে দেশের সবচেয়ে বড় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এই এলাকার ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সবাই পূজার সময় এক হয়ে কাজ করে। ওই কয়েকদিন এখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বড় মিলনমেলায় রুপ নেয় ।‘

আতিয়ার রহমান নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘শিকদার বাড়ির পূজাকে কেন্দ্র এই এলাকায় অনেক বড় উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। সারা দেশ থেকে লাখ লাখ মানুষ এই পূজা দেখতে আসেন। পূজা মণ্ডপের আশপাশের এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বসে বিভিন্ন খাবার ও খেলনার পসরা। কিন্তু গেল বছর করোনার কারণে এখানে স্বল্প পরিসরে পূজা হয়েছে। এবার আরও স্বল্প পরিসরে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। আমরা দোয়া করি করোনা যেন পৃথিবী থেকে বিদায় নেয় এবং শিকদার বাড়িতে আবারও মিলন মেলা বসে।’

শিকদার বাড়ির দূর্গা পূজার প্রধান প্রতিমা শিল্পী বিজয় ভাস্কর বলেন, ‘এ বছর প্রতিমা তৈরির জন্য খুবই অল্প সময় লেগেছে। কারণ এবছর শুধু দুর্গার প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। তবে এ সময়ে আমরা শিকদার বাড়িকে সাজানোর জন্য অনেক কাজ করেছি। শিকদার বাড়ির পুকুর ঘাট, প্রবেশ ফটক ও ভবনের সামনে একটি আকর্ষনীয় ভাস্কর্য তৈরি করেছি আমরা।’ 

হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের বাগেরহাট জেলার সাধারণ সম্পাদক মিলন কুমার ব্যানার্জী বলেন, ‘ব্যক্তি উদ্যোগে দেশের সবচেয়ে বেশি প্রতিমা নিয়ে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয় শিকদার বাড়িতে। করোনা সংক্রমণ ও জন সমাগম এড়াতে এ বছরও বড় আয়োজন করছেনা ওই পরিবার। আমরাও স্বাস্থ্যবিধি রক্ষার্থে অতিরিক্ত বড় আয়োজন করতে অনুৎসাহিত করেছি ভক্তদের।’

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়