এবার পাবনায় তিন কুকুরকে বিষ প্রয়োগে হত্যার অভিযোগ
পাবনা প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
পাবনার ঈশ্বরদীতি বস্তায় ভরে পানিতে ফেলে আট কুকুর ছানা হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই পাবনা শহরের কাচারীপাড়ার কদমতলা এলাকায় তিন কুকুরকে বিষ প্রয়োগে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী কুকুর মালিকের। তবে পুলিশের দাবি, মামলার শর্তাবলি পূরণ না হওয়ায় মামলা নেওয়া হয়নি।
থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পাবনা শহরের কাচারীপাড়ার কদমতলায় এলাকার হারুনর রশিদের পোষা তিনটি কুকুর ছিল। যার মধ্যে দুইটি পুরুষ ও একটি স্ত্রী কুকুর। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল ৭টার দিকে কুকুর তিনটির চিৎকারে ঘুম ভেঙে যায় কুকুর মালিক হারুনর রশিদের।
হারুনর রশিদ জানান, তিনি ঘুম থেকে উঠে দেখেন কুকুর তিনটি যন্ত্রণায় ছটফট করছে। স্থানীয় পশু ডাক্তারকে খবর দিলে ডাক্তার এসে কুকুর তিনটিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান বিষক্রিয়ায় কুকুর তিনটি ছটফট করছে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৮টার দিকে দুইটি এবং দুপুর দেড়টার দিকে অপর একটি কুকুর মারা যায়। এ ঘটনায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের অভিযুক্ত করে মঙ্গলবার রাতে পাবনা সদর থানায় একটি অভিযোগ দেওয়া হয়।
পাবনা সদর থানার ওসি দুলাল হোসেন বলেন, মামলা না নেওয়ার কোনো কারণ নেই। মামলার শর্তাবলি পূরণ না হওয়ায় মামলা নেওয়া হয়নি। তারা শর্ত পূরণ করে আসলেই মামলা নেওয়া হবে।
কি শর্ত জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই তিনটি কুকুর যে বিষ প্রয়োগে মারা গেছে একজন অথরাইজ পশু চিকিৎসক সার্টিফাই করতে হবে। সেটা সংযুক্ত করে অভিযোগ দিতে হবে।
ওসি আরো বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে বুধবার সকালে এক পুলিশ অফিসার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে কুকুর হত্যাকারীকে শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।
কুকুর মালিক হারুনর রশিদ বলেন, আমরা পশু-প্রাণী নিয়ে কাজ করছি। থানা মামলা না নেওয়ায় আমরা হতাশ হয়েছি। আমরা চাই কুকুর হত্যাকারীকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরো বলেন, কুকুরদের আমরা সেভাবে দেখি না। ওই কুকুর তিনটি ছিল আমার আদরের। আমাকে দেখলেই ওরা ছুটে আসত, ওদের দেখে আমার ভালো লাগত। আমি এই হত্যার বিচার চাই।
এ বিষয়ে ন্যাচার অ্যান্ড ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেশন কমিউনিটি পাবনা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান মাহমুদ বলেন, মানুষ দিন দিন মানবিক মূল্যবোধ হারিয়ে ফেলছে। এর আগে আট কুকুর ছানা হত্যা করা হলো, এবার তিনটি কুকুরকে হত্যা। খুবই হতাশা আর দুঃখজনক ঘটনা। আমরা মর্মাহত। আইনের যথাযথ প্রয়োগ দরকার। কুকুর হত্যায় জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা না গেলে এমন ঘটনা বারবারই ঘটবে।
এর আগে, গত বছরের ৩০ নভেম্বর আটটি কুকুর ছানা বস্তাবন্দী করে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন কর্মকর্তা হাসানুর রহমান নয়নের স্ত্রী নিশি খাতুনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মামলা হলে তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।
ঢাকা/শাহীন/রাজীব