ঢাকা     মঙ্গলবার   ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২৭ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

গাইবান্ধায় ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৩৭৯টি, ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি সম্পন্ন

গাইবান্ধা প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:৫৩, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১৮:০৭, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
গাইবান্ধায় ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৩৭৯টি, ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি সম্পন্ন

গাইবান্ধা জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট গ্রহণের সময় এবং এর আগে-পরে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে ব্যাপক নিরাপত্তার প্রস্তুতি নিয়েছে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গাইবান্ধা জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের ৬৭৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৭৯টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কেন্দ্রকে অতিঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে।

আরো পড়ুন:

নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্র জানিয়েছে, আগের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক উত্তেজনা, প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাত্রা, ভৌগোলিক অবস্থান ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।

নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গাইবান্ধা জেলায় মোতায়েন থাকবে ১ হাজার ১০০ সেনা সদস্য। দায়িত্ব পালন করবেন ৪০ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও ১৫ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে থাকবেন ২ হাজার ৫০০ পুলিশ সদস্য।

প্রতিটি উপজেলায় দুটি করে মোট ১৪টি র‍্যাব টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে। পরিস্থিতির অবনতি হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) সদস্যও মাঠে থাকবেন বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

বিশেষ করে, দুর্গম চরাঞ্চলের ভোট কেন্দ্রগুলোতে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হবে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা, চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থা বা দ্রুত ফোর্স পাঠানোর প্রয়োজন হলে এ হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হবে।

আসনভিত্তিক ঝুঁকিপূর্ণ ও অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র
গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) 
একটি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসনে ১২৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৪১টি। এর মধ্যে অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ১১টি।

গাইবান্ধা-২ (সদর) আসন
১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনে ১১৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৫১টি। এর মধ্যে অতি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ১১টি।

গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর–পলাশবাড়ী) আসন
একটি পৌরসভা ও ১৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনের ১৪৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৮৭টি। এর মধ্যে অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ১৭টি।

এর মধ্যে সাদুল্লাপুর উপজেলার ৩৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৩১টি এবং অতিঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ৭টি।

পলাশবাড়ী উপজেলার ৪৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৩৯টি এবং অতিঝুঁকিপূর্ণ ১০টি।

গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসন
একটি পৌরসভা ও ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনের ১৪২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ১১০টি এবং অতিঝুঁকিপূর্ণ ৫টি।

গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি–সাঘাটা) আসন
১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনের ১৪৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৯০টি। এর মধ্যে অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৩৫টি।

ফুলছড়ি উপজেলার ৪৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ১৮টি এবং অতিঝুঁকিপূর্ণ ২৭টি। সাঘাটা উপজেলার ৪৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৩৭টি এবং অতি ঝুঁকিপূর্ণ ৮টি।

গাইবান্ধা জেলার নির্বাচন কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম  বলেছেন, “ভোটকেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ভোটার ও ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।”

জেলা প্রশাসক মো. মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেছেন, “সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ১ হাজার ১০০ জন সেনা সদস্য, ৪০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ১৫ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। প্রায় আড়াই হাজার পুলিশ সদস্য ও ১৪টি র‍্যাব দল মাঠে থাকবে। সাধারণ ভোটকেন্দ্রে দুজন পুলিশ সদস্য এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে তিনজন পুলিশ সদস্যের সঙ্গে ৬ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী আনসার এবং ৩ জন অস্ত্রধারী আনসার সদস্য দায়িত্বে থাকবেন।

গাইবান্ধার পাঁচটি সংসদীয় আসনে মোট ২১ লাখ ৯০ হাজার ৪০০ জন ভোটার ৬৭৫টি কেন্দ্রের ৪ হাজার ১০১টি কক্ষে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

ঢাকা/মাসুম/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়