সাংবাদিক পরিচয়ে ‘চাঁদা’ দাবি, গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ
বরগুনা প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
ফাইল ফটো
বরগুনার আমতলীতে এক অটোচালককে মারধর করে ‘চাঁদা’ দাবির অভিযোগে স্থানীয় এক সাংবাদিকসহ তিনজনকে গণধোলাই দিয়েছে গাড়ি চালকরা। রবিবার (২ মার্চ) সন্ধ্যায় বরগুনার আমতলী উপজেলার চালিতাবুনিয়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, উপজেলার উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামের অটোচালক কবির হাওলাদারকে চালিতাবুনিয়া এলাকায় মারধর শুরু করেন সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম, মিরাজ এবং মেহেদী হাসান। এসময় অটোচালক কবিরকে অন্যান্য অটোচালকরা বাঁচাতে গেলে কবির জানায়, সাংবাদিক পরিচয়ে তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেছেন মনিরুল ইসলাম। চাঁদা দিতে রাজি না হলে তাকে তিনজন মিলে মারতে শুরু করেন।
এরই একপর্যায়ে অন্য অটোচালকরা অভিযুক্তদের গণধোলাই দেয়। পরে মনিরুল ইসলাম এবং মেহেদী হাসান পালিয়ে যান। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মিরাজকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
অটোচালক কবির হাওলাদার জানান, আমতলী পৌর শহরের মনিরুল ইসলাম, মেহেদী হাসান ও মিরাজ দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করছেন। রবিবার সন্ধ্যায় তিনি যাত্রী নিয়ে তালুকদার বাজার যাচ্ছিলেন। চালিতাবুনিয়া এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে মোটরসাইকেলে তারা তিনজন এসে অটোর গতিরোধ করে এবং যাত্রীদের নামিয়ে দেয়। গাঁজার ব্যবসা কর বলে মারধর শুরু করে। এক পর্যায় তারা ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে।
তিনি জানান, চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে আরো বেশি মারধর করতে থাকে। এর মধ্যে কয়েকজন অটোচালক এসে জড়ো হয়ে মারধরের প্রতিবাদ করে। এতে তাদের ওপর তারা ক্ষিপ্ত হন অভিযুক্তরা। এক পর্যায় অটোচালক ও স্থানীয়রা ওই সাংবাদিকদের গণধোলাই দেয়। পরে মনিরুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান পালিয়ে যায় এবং মিরাজ মিয়াকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে মনিরুল ইসলামের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল ডা. রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামান বলেন, “মনিরুল ইসলাম আহত হয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসার পর তাকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।”
বরগুনার পুলিশ সুপার মো. কুদরাত-ই খুদা বলেন, “বিষয়টি আমি জেনেছি। আমতলী থানার ওসিকে মামলা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
ঢাকা/ইমরান/মাসুদ