কেক খাইয়ে শিশুর কান্না থামায় ডাকাত: পুলিশ
পঞ্চগড় প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
নিজ কার্যালয়ে শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম।
পঞ্চগড়ে মধ্যরাতে ডাকাতির সময় ঘটেছে অদ্ভুত ঘটনা। অস্ত্রের মুখে পরিবারের সব সদস্যকে জিম্মি করে লুটপাট চালানো ডাকাত দলের একজন শিশুর কান্না থামাতে নিজ হাত খাইয়েছে কেক ও পানি। এরপর তারা লুট করা মালামাল নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম।
পুলিশ সূত্র জানায়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ২টার দিকে হাফিজাবাদ ইউনিয়নের যুগিভিটা এলাকায় মফিজার রহমান কলেজের অধ্যক্ষ নুরুল্লাহর বাড়িতে হানা দেয় ডাকাত দল। এ সময় নুরুল্লাহ ও তার মা ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে ছিলেন। ডাকাত দল অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে প্রায় আট ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ২ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়।
এ ঘটনায় পঞ্চগড় সদর থানায় মামলা হলে ডিবি পুলিশের একটি টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে পঞ্চগড়ের গাড়াতি ছিটমহল, পুকুরীডাঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে তারা।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- একই ইউনিয়নের মাধইপাড়া এলাকার মিনহাজ আলীর ছেলে মজিবর রহমান (৩৫), পশ্চিম মাধইপাড়া এলাকার মৃত বছির উদ্দিনের ছেলে রমজান আলী (৩০), যুগিভিটা এলাকার আবু আলমের ছেলে সাদ্দাম হোসেন (৩০), রাজমহল পূর্ব বাগান এলাকার হাবিবের ছেলে আশিক (১৯), একই এলাকার আজিজ মিয়ার ছেলে জুবায়ের ওরফে জিদান (১৯) এবং যুগিভিটা এলাকার মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে আলম (৩৭)।
পুলিশ জানায়, গ্রিলবিহীন একটি জানালা সাবল দিয়ে ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে ডাকাতদল। পরে অধ্যক্ষ নুরুল্লাহর স্ত্রী, শাশুড়ি ও সন্তানদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে। এ সময় নুরুল্লাহর শিশু সন্তান ঘুম থেকে উঠে কান্না শুরু করে। ডাকাত দলের একজন তার গলায় চাকু ধরে ভয় দেখায়। শিশুর কান্না থামাতে ডাকাত আলম নুরুল্লাহর স্ত্রীর ব্যাগ থেকে কেক বের করে শিশুটিকে খেতে দেয় এবং পরে পানি পান করায়।
গ্রেপ্তারকৃত আলম নুরুল্লাহর প্রতিবেশী। তিনি দরিদ্রতার কারণে এক সময় অধ্যক্ষ নুরুল্লাহর কাছে এক বিঘা জমি বর্গা চেয়েছিলেন। জমি না পেয়ে ক্ষোভ থেকে ডাকাতির পরিকল্পনা করেন। পরে কামরুল নামের এক সহযোগীর সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করে, তিনি তার পরিচিত কয়েকজনকে নিয়ে পরিকল্পনায় যুক্ত হন। দুই দিন আগে তারা ডাকাতির কৌশল চূড়ান্ত করে।
পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম বলেন, এ চক্রটি একটি সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা ডাকাত দল। তারা একাধিক ডাকাতির সঙ্গে জড়িত। দুজন পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার এবং অবশিষ্ট লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে অভিযান চলছে।
ঢাকা/নাঈম/মাসুদ