ঢাকা     মঙ্গলবার   ০৭ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ২৪ ১৪৩২ || ১৮ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ডিজেল সংকটে সিরাজগঞ্জে বোরো উৎপাদনে শঙ্কা

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:০৫, ৭ এপ্রিল ২০২৬  
ডিজেল সংকটে সিরাজগঞ্জে বোরো উৎপাদনে শঙ্কা

সিরাজগঞ্জে জমি সেচ দিতে বসানো একটি পাম্প।

সিরাজগঞ্জে ডিজেল সংকটে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। বোরো মৌসুমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সেচ ব্যাহত হওয়ায় উৎপাদন নিয়ে তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। জেলার বিস্তীর্ণ মাঠে ধানের শীষ বের হওয়ার সময় পানি না পেলে বড় ধরনের ক্ষতি হবে বলে জানান চাষিরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ৫২ হাজার ৭০২ হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়া হচ্ছে ৩৬ হাজার ১১৭টি ডিজেলচালিত পাম্পের মাধ্যমে। হঠাৎ করে ডিজেলের সংকট দেখা দেওয়ায় এসব পাম্প সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে কৃষকদের জন্য।

আরো পড়ুন:

কৃষক শুক্কুর আলী বলেন, ‍“ডিজেল সংকটের কারণে অন্যান্য বারের চেয়ে এবার বোরো ধান উৎপাদনে খরচ বেড়ে যাচ্ছে কয়েক গুণ। তাও আবার সঠিকভাবে এবার ধান ঘরে তুলতে পারব কিনা সেটাও বলতে পারছি না। কারণ ডিজেল সংকটে জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।”

কাওয়াকোলা চরের কৃষক শফিকুল শেখ বলেন, “চলতি মৌসুমে ৫ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছি। প্রতিদিন প্রায় ৫-৬ লিটার ডিজেল লাগে জমিতে সেচ দিতে। তিন লিটার ডিজেল কিনে এনেছি ১৩০ টাকায়। যা আগে কিনতাম ১০৫ টাকা লিটার। ডিজেল সংকটের কারণে সঠিকভাবে জমিতে সেচ দিতে পারছি না। যদি এভাবে চলতে থাকে তাহলে ফসল ঘরে তুলতে পারব না। ফলে আমাদের মতো কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।”

উৎপাদনে বড় ধাক্কার আশঙ্কার কথা জানিয়ে আরেক কৃষক বলেন, “সময়মতো সেচ নিশ্চিত করতে না পারলে জেলার বোরো উৎপাদনে বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে, যা খাদ্য নিরাপত্তার ওপর বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে।”

নলকা এলাকার আজিজ পাম্পের ম্যানেজার সাগর শেখ বলেন, “অনেকেই বাধ্য হয়ে সীমিত সময় পাম্প চালাচ্ছেন। ডিজেল না থাকলে পাম্প চালাব কীভাবে? কৃষকেরাও চাপ দিচ্ছে, কিন্তু আমাদের হাতে কিছু নেই।”

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ. কে. এম মনজুরে মাওলা বলেন, “পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ চলছে। প্রকৃত কৃষকদের কাছে ন্যায্যমূল্যে ডিজেল পৌঁছে দিতে প্রশাসন এবং সেচ পরিচালনা কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে আমাদের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের তালিকা তৈরি করছেন।” 

তিনি বলেন, “ফুয়েল কার্ডের মতো আমরাও কৃষকদের জন্য কার্ডের ব্যবস্থা করেছি। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা তাদের প্রয়োজনীয় অনুযায়ী ডিজেল সংগ্রহ করে জমিতে সেচ কার্যক্রম চালাতে পারবেন।”

চর অঞ্চলের কৃষকরা ডিজেল পাচ্ছে না এমন প্রশ্নে কৃষি কর্মকর্তা বলেন, “আমাদের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের একটি অংশ পেট্রোল পাম্পগুলোতে ট্যাগ অফিসার হিসেবে কাজ করছেন। যার কারণে অনেক কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। কৃষকরা অফিসে যোগাযোগ করে তাহলে অবশ্যই তাদের ডিজেল সংগ্রহের জন্য কার্ড দেওয়া হবে।”

সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “সাধারণ মানুষসহ কৃষকেরা যাতে তেল পান এ কারণে পাম্পগুলো মনিটরিং করা হয়েছে। খুব দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।”

ঢাকা/অদিত্য/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়