ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ আষাঢ় ১৪২৭, ০২ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

কেমন বাজেট চান নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা?

আহমেদ ফাহিম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৬-০৩ ১:০৯:৫৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৬-০৩ ১:১৫:৪৬ পিএম

জাতীয় বাজেট একটি দেশের চালিকাশক্তি। আগামী অর্থবছর কেমন চলবে অনেকটা নির্ভর করে বাজেটের উপর। করোনাভাইরাসের সংকটকালীন সময়ে বাংলাদেশের মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু এখন ২০২০-২১ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট।

আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে এই জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে। বিপর্যস্ত অর্থনীতি, কর্মক্ষেত্রে স্থবিরতা এবং ভবিষ্যৎ চাকরির বাজারের অনিশ্চয়তার কারণে এ বাজেট ঘিরে সবার প্রত্যাশা অনেক।

করোনাকালীন সময়ে কেমন হবে দেশের বাজেট? কোন খাতে বেশি বরাদ্দ দিলে ভালো হবে, সে সম্পর্কে মতামত দিয়েছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। মতামতগুলো লিখে পাঠিয়েছেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এস আহমেদ ফাহিম

নকিবুর রহমান, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ

করোনার ভয়াবহতায় এবার বিশেষ বাজেট প্রণয়ন করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। বিশ্বের সব উন্নত দেশ গবেষণা সেক্টরে অনেক এগিয়ে গেছে। কিন্তু আক্ষেপের বিষয়, আমাদের দেশ গবেষণা সেক্টরে পিছিয়ে আছে। ফলে, এ খাতে বরাদ্দ তুলনামূলক কম। এবারের বাজেটে গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি এ খাতে বিশেষ কোনো জোর দেওয়া উচিৎ।

গবেষণায় পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ ও উৎসাহ দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা খাতে আরও জোর দেওয়া উচিত। গবেষণার জন্য আমাদের জনবল আছে, তাদের সুযোগ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। দুর্যোগ মোকাবিলায় সচেতন হতে হবে এবং সঠিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখতে হবে। স্বাস্থ্য খাতে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। চিকিৎসা, ঔষধশিল্প, নিরাপত্তার সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের উৎসাহিত করতে হবে। খাদ্য ও জরুরি সরঞ্জাম মজুদ রাখতে হবে।

মহিউদ্দীন খন্দকার, অর্থনীতি বিভাগ

করোনার এই দিনে বাংলাদেশের মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু এখন জাতীয় বাজেট। অর্থনীতির অচলাবস্থা, কর্মক্ষেত্রে কর্মী ছাটাই এবং ভবিষ্যৎ চাকরির বাজারের অনিশ্চয়তার কারণে এ বাজেট ঘিরে সবার প্রত্যাশা অনেক।

একজন তরুণ হিসেবে আমার ভাবনা এ বাজেটটি যাতে হয় তরুণবান্ধব এবং শ্রমজীবীদের জন্য কল্যাণমূলক একটি স্টিমুলাস প্যাকেজ। যেখানে থাকবে সব তরুণ উদ্যোক্তাদের বর্তমান ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা আর ভবিষ্যৎ ক্ষেত্রে আগ্রহী করার জন্য আর্থিক অনুদান। সব শ্রমজীবী মানুষের পরিবারের জন্য কমপক্ষে আগামী এক বছরের খাদ্য সহায়তা, যাতে শিশুখাদ্যসহ প্রসূতি মায়েদের জন্য পুষ্টিকর খাদ্যের ব্যবস্থা থাকবে।

এছাড়াও কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে সব কর্মস্থলে পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার যথাযথ ব্যবস্থা ছাড়া কাউকে কাজে যোগ দেওয়ার জন্য বাধ্য করা যাবে না এবং এই সময়ে কর্মরত শ্রমিকদের ঝুঁকি ভাতা প্রদান করতে হবে। অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের জন্য বেসিক ইনকাম গ্র‍্যান্ট প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে।

কৃষি ক্ষেত্রে বাজেটের পরিমাণ বাড়ানো এবং কৃষকদের জন্য নামমাত্র সুদে কৃষি ঋন চালু করতে হবে। শিক্ষা গবেষণায় আগ্রহী করে তুলতে বিভিন্ন বৃত্তি চালু এবং অনলাইন শিক্ষার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করা যেতে পারে। দুর্যোগে নারী ও শিশুদের সংকট মোকাবিলায় বরাদ্দ রাখতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পর্যটন শিল্পের জন্য বিশেষ প্রণোদনা রাখাও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সর্বোপরি এই করোনার আর্থিক সংকট মোকাবিলায় স্থায়ী এবং দূরদর্শী পদক্ষেপই সবার আশা।

সৈয়দ মুমতাহিন মান্নান সিয়াম, ফার্মেসি বিভাগ

করোনা বিপর্যয় বাংলাদেশ তথা পুরো পৃথিবীকেই একটি বার্তা দিয়েছে, দেশের শক্তিমত্তার মাপকাঠি আজ পারমাণবিক সামর্থ্য বা অস্ত্রের ঝনঝনানি নয় বরং হবে এখন তুলনামূলক স্বাস্থ্যসেবার দাঁড়িপাল্লায়। করোনাকালীন বাজেটে সবচেয়ে যে জিনিসটা গুরুত্ব দেওয়া উচিৎ বলে মনে হয়, সেটা হলো স্বাস্থ্য খাত এবং শিক্ষা।

আমরা ঠিকই মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছি, কিন্তু আমাদের দেশের বাজেটে এই দুই খাতের বরাদ্দ এখনো নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্ত নেপাল, শ্রীলঙ্কা এমনকি দ্বীপদেশ মালদ্বীপের চেয়েও কম। এই দুটি খাতে বিগত বাজেটে বরাদ্দ ছিল যথাক্রমে জিডিপির ০.৯ ও ২ শতাংশ। এই কারণে বাজেট ঘাটতির মধ্যেও স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ অন্তত দ্বিগুণ করা উচিৎ।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের স্বল্পসুদে ঝণ দিয়ে কিছুটা ক্ষতিপূরণ করা যেতে পারে। বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠানে কাঁচামাল আমদানিতে শুল্কছাড় এবং জ্বালানিখাতে ভর্তুকি দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিতে কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস দেবে। এখন সরকারের ক্রমবর্ধমান বাজেট ঘাটতি মেটাতে বৃহৎ ধনীগোষ্ঠীর উপর কর আরোপের পরিমাণ বাড়িয়ে রাজস্বের ভারসাম্য আনয়ন করা যেতে পারে। সেই সাথে আগামী অর্থবছরে বৃহৎ নতুন প্রকল্প গ্রহণ না করে চলমান প্রকল্পগুলো দ্রুত শেষ করে প্রকল্পব্যয় সাশ্রয়ের কৌশল হাতে নিতে হবে। পাশাপাশি দেশীয় অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও সরকারের আইন বিভাগকে তৎপর হয়ে মুদ্রাস্ফীতি, ঋণখেলাপি ও বিদেশি অর্থপাচারকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে সামগ্রিকভাবে মন্দার হাত থেকে রেহাই পাওয়া যেতে পারে।

আব্দুল কবীর ফারহান, বাংলাদেশ অ্যান্ড লিবারেশন ওয়ার স্টাডিজ বিভাগ

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে হুমকির মুখে পড়েছে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা। এই সংকটকালীন সময়ের মধ্যেই ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য নতুন বাজেট প্রণয়ন করা হবে। অন্য সময়ের তুলনায় এবারের বাজেট ভিন্নধর্মী ও চ্যালেঞ্জিং হবে বলে আমি মনে করি। করোনার প্রাদুর্ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্য খাত, শিক্ষা খাত, অর্থনীতি, কৃষি খাতগুলো বেশি প্রাধান্য দেওয়া উচিৎ বলে আমি মনে করি। পাশাপাশি বেকার তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি এবং উদ্যোক্তাদের জন্যও পর্যাপ্ত বরাদ্ধ আসন্ন বাজেটে রাখা প্রয়োজন বলে মনে করি। করোনার পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত খাত এবং ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় দক্ষ জনবল প্রস্তুতের জন্য বাজেটে বরাদ্দ রাখা উচিৎ বলে মনে করি। সর্বোপরি, এবারের বাজেট মুজিবশতবর্ষে এক নতুন মাইলফলক হবে বলে আমি আশা করি।

 

নোবিপ্রবি/হাকিম মাহি