ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ আষাঢ় ১৪২৭, ০৭ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

‘তরুণদের এগিয়ে নিতে পদক্ষেপ নিতে হবে’

মেহেরুজ্জামান সেফু : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৬-২৯ ৭:২৫:২৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৬-২৯ ৭:২৫:২৫ পিএম

করোনা সংক্রমণের কথা চিন্তা করে বেড়েই চলেছে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি। ফলে এর প্রভাব পরছে তরুণ প্রজন্মের উপর। জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রকৃতির এমন পরিস্থিতি বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত করেছে তাদের গতিপ্রকৃতি। সরকারের চতুর্মুখী প্রচেষ্টার পরেও শিক্ষাব্যবস্থা চালু রাখার চেষ্টাটা থেকে যাচ্ছে একটা নির্ধারিত গণ্ডির মধ্যে। এসব বিষয় নিয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী মেহেরুজ্জামান সেফু।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শেখ নূর উদ্দীন বলেন, করোনার প্রকোপ যুব সমাজের উপরে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ যুবসমাজ। ছাত্র, পেশাজীবী, ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণীর তরুণরা আমাদের দেশের অর্থনীতিতে একটা বড় প্রভাবক। স্কুল, কলেজ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কমে আসছে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড৷ লোকসানে পড়ছে দেশ।

তরুন সমাজের একটা বড় অংশ রেমিট্যান্স যোদ্ধা অর্থাৎ প্রবাসী। আর বাংলাদেশের জাতীয় আয়ের প্রায় সিংহ ভাগ রেমিট্যান্স থেকে আসে। করোনার প্রকোপের বিশ্বের প্রায় সব দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা স্থবির হয়ে আছে। ফলে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠাতে পারছে না। তাছাড়া দেশের অভ্যন্তরে নানা পেশাজীবী তরুণদের অনেকেই করোনাকালীন সংকটে চাকরিচ্যুত হয়েছেন। পরিবহন সংকটের কারণে অনেক উদ্যোক্তা তাদের ব্যবসায়ে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। শিক্ষাক্ষেত্রও করোনার হাত থেকে রেহাই পায়নি। বাংলাদেশ সরকার দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সেশনজট নিরসনে যখন প্রায় সফলতার দ্বারপ্রান্তে, ঠিক তখনই করোনার প্রকোপে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে আছে অনির্দিষ্টকালের জন্য। মোটকথা করোনার প্রকোপ তরুণ সমাজে বেশ নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে ফেলেছে।

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান ইমন বলেন, করোনার প্রকোপ আমাদের তরুণ প্রজন্মের উপর খুব বাজেভাবে পড়বে। বেকারত্ব সমস্যা বেড়ে যাবে, কারণ অনেক তরুণ চাকরি হারাচ্ছে। তাছাড়া আমাদের দেশে বেকারত্বের হার অনেক বেশি, প্রতিবছর প্রায় এক লাখের মতো তরুণ আন্ডারগ্র্যাজুয়েশন শেষ করে বের হলেও চাকরির বাজার সীমিত।

করোনা মহামারি শেষে শুধু দক্ষ জনগোষ্ঠীরাই চাকরির বাজারে এগিয়ে থাকবে, সেদিক থেকেও যদি চিন্তা করি তাহলে একটি বিষয় সামনে আসে যে আমাদের শিক্ষা কারিকুলাম বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ, তাই তরুণ প্রজন্ম প্র্যাকটিক্যাল জ্ঞানের দিক থেকে অনেকটা পিছিয়ে।

তিতুমীর কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মামুন সোহাগ বলেন, ‘একুশ বছর বয়সে এমন দুর্দিন কখনো আমি দেখিনি। শহর থেকে ঘরে ফিরে বাবা ছেলেকে বুকে নিতে পারছে না, মা মাথায় হাত বুলাতে পারছে না। সবাই দূরে, প্রয়োজনেই দূরত্ব। ঘরবন্দি থেকে মানসিক চাপে থাকছেন সব বয়সী মানুষই। তবে আমার মনে হয় তরুণদের সমস্যা একেবারে প্রবল। দূরন্তপনা নেই, ছোটাছুটি নেই। প্রায় একশো দিন। এতে করে করোনা কাটলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে অনেক কাঠকয়লা পুড়তে হবে তাদেরকে। এছাড়া পড়াশোনার ক্ষেত্রেও অনেক ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। চাকরির বাজার তো আরও নাজুক। এমন দুর্দিন আর কখনো যেন না আসে আমাদের।

একই কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী জুবাইয়া ঝুমা বলেন, আজকের সম্ভাবনাময় তরুণদের হাতেই আগামীর ভবিষ্যৎ নির্ভর করে। আজকের তরুণদের মেধাকে কাজে লাগাতে পারলে দেশ, জাতি উভয়েই উপকৃত হবে বলে আশাবাদী। কিন্তু মহামারির প্রকোপে দুর্বিষহ জনজীবন। সম্ভাবনাময় তরুণদের ভবিষ্যৎ সব থেকে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

একটি দেশের সব কার্যক্রম পরিচালিত করার মূলে অর্থনীতির ভূমিকা অপরিমেয় আর মহামারির প্রকোপে গোটা বিশ্বের অর্থনীতি স্থবির অবস্থায় রয়েছে। ফলে আজকের তরুণদের পেছনে সরকারের ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও বিনিয়োগে ঘাটতি পরিলক্ষিত হবে।

অর্থনীতি বিভাগের (তিতুমীর কলেজ) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহ তুহিন বলেন, করোনার এই দুঃসময় তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি পরীক্ষার সময়। কথায় আছে, বন্যা যে বছর হয় দুর্ভিক্ষ কিন্তু তার পরের বছরই হয়। এ কথাটি মাথায় রেখেই আমাদের প্রত্যেকের আগানো উচিৎ। তরুণ প্রজন্মের যারা আছি এ সময়টিকে হেলায় না কাটিয়ে যদি কাজে লাগাই, তাহলে দুর্ভিক্ষের ভয় আমাদের পেতে হবে না। যারা এই পরিস্থিতিতে নিজের সময়কে হেলায় খেলায় কাটাচ্ছে, তাদের অবস্থা করুণ হবে, অনেকে আর্থিক সংকটে পড়বে। কিছু ছেলে মেয়ে পড়াশোনা থেকেও ঝরে পড়বে। তরুণদের অন্তত নিজের কথা ভেবে, নিজের দেশের কথা ভেবে কল্যাণকর কাজ করার প্রতি বিনীতভাবে আহ্বান জানাচ্ছি।

ইডেন মহিলা কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া হাফসা বলেন, আজকের তরুণ আগামী দিনের ভবিষ্যত। সুশিক্ষিত জাতি গঠনেও তরুণদের ভূমিকা অপরিসীম। দেশপ্রেম আর দেশের কর্ণধার হলো সুশিক্ষিত জাতি। আর সে জাতি গঠনে তারুণ্যের শক্তি অপরিসীম।

সমাজ উন্নয়ন থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনা করে থাকে শিক্ষিত সমাজ, যার মূল কর্ণধার হলো তরুণ সমাজ। কিন্তু বর্তমান করোনার প্রভাবে থমকে গেছে শিক্ষা, স্থবির আজ মেধার বিকাশ। যার প্রভাব শুধু শিক্ষার উপর নয়, অর্থনীতির উপরও পড়ছে। করোনার কারনে তরুনরা আজ এক প্রকার অবরুদ্ধ শুধু তাই না, আজ তারা মানুষিকভাবেও ভেঙে পড়ছে। পিছিয়ে পড়ছে সব জায়গা থেকে। তাই যত দ্রুত সম্ভব, তরুণদের এগিয়ে নিতে বিশেষ পদক্ষেপ নিতে হবে। কেননা আজকের তরুণ প্রজন্মের মাধ্যমেই আগামী দিনের রাষ্ট্র পরিচালিত হবে।


ঢাকা/হাকিম মাহি