ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ আষাঢ় ১৪২৭, ০৩ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

‘প্রযুক্তি আশীর্বাদ, যদি হই ব্যবহারে সচেতন’

রহিম জমাদ্দার : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৬-৩০ ১:১৭:২৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৬-৩০ ১:১৭:২৫ পিএম

ঢেঁকিতে ধান ভানার শব্দ এখন আর শোনা যায় না। শোনা যায় না মেয়েদের ঢেঁকির তালে তালে গান গাওয়ার শব্দ। দেখা যায় না শাড়ির আঁচল দিয়ে ক্লান্ত হয়ে কপালের ঘাম মোছার দৃশ্য। আগেকার দিনে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঢেঁকিতে ১০ থেকে ১৫ কেজি ধান থেকে চাউল বের করতে পারতেন কৃষক বউ ও কন্যারা।

বড় পরিবারের সংসারে এই চাউলে একদিন চলতো, পরের দিনের জন্য চাউলের চিন্তা করতেন তারা। ধান কাটা, গরুর খাবারের জন্য বিচুলি কাটা, সবই চলতো হাতে। সারাদিনের পরিশ্রমে নির্জীব দেহ নিয়ে তবুও কৃষক, কৃষাণীরা হাতে কাজগুলো করতেন। এসব কষ্ট দূর হয়েছে প্রযুক্তির কল্যাণে।

শহরের পাশাপাশি এখন গ্রামের খুঁটিনাটি কাজসহ প্রায় সব কাজই করা হচ্ছে প্রযুক্তির মাধ্যমে। বর্তমানে ধান লাগানো থেকে শুরু করে ধান কাটা, মাড়াই করা সব কিছুই হচ্ছে এখন প্রযুক্তির মাধ্যমে। শুধু কি তাই! ভাত রান্না, পানি গরম করা, চা বানানো প্রভৃতি চলছে বিজ্ঞানের আবিষ্কৃত বিভিন্ন প্রযুক্তি যেমন- রাইস কুকার, ওয়াটার হিটার, ওভেন, বিলিন্ডার, ইন্ডাকশন কুকার, হিটার, ইত্যাদির মাধ্যমে।

কাপড় পরিষ্কার করতেও এখন ব্যবহৃত হচ্ছে ওয়াশিং মেশিন। কাপড় ইস্ত্রি করতে ব্যবহার করছি আমরা বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি। কিন্তু একটু অসতর্ক হলেই পুড়ে যেতে পারে কাপড়। রান্না, কাপড় ধোয়া, বাসাবাড়ি পরিপাটি রাখতে ও নিজেদের সব কাজকে সহজতর করতে ব্যবহৃত অধিকাংশ এই প্রযুক্তি বিদ্যুৎচালিত। এসব বিদ্যুৎচালিত যন্ত্রপাতির ব্যবহার বিধি সঠিকভাবে না জানলে হারিয়ে যেতে পারে মূল্যবান জীবন। তখন আমরা প্রযুক্তিকে আশীর্বাদ না বলে অভিশাপ বলে দোষারোপ করতে থাকি। প্রত্যেকটা জিনিসের ভালো খারাপ দুটো দিকই থাকে। প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে যেমন সহজ করেছে, তেমনি দুর্ভোগেও ফেলেছে।

যদি অসচেতন হই, যদি সঠিক নিয়মে এগুলো ব্যবহার না করি তাহলে প্রযুক্তি হবে দুর্ভোগের কারণ। শহর থেকে গ্রামে, সব জায়গায় এখন পৌঁছে গিয়েছে প্রযুক্তির এই সব অবদান। কিন্তু গ্রামের অধিকাংশ মানুষ প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে জানেন না। ফলে নানা রকম দুর্ঘটনা ঘটে যায়। ওয়াটার হিটারে পানি গরম করতে দিয়ে অনেকে আঙ্গুল দিয়ে দেখতে চান অথবা চামচ দিয়ে উঠিয়ে দেখতে চান পানি গরম হয়েছে কিনা। যা জীবননাশের অন্যতম কারণ। বিদ্যুৎ সংযোগ অবস্থায় ওয়াটার হিটারের মধ্যে আঙুল বা স্টিলের চামচ দিলে সমস্ত শরীরে বিদ্যুৎ হয়ে যায়, যা জীবননাশের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়াও সঠিক ব্যবহার বিধি না জানার ফলে যন্ত্রপাতিও তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়।

এছাড়াও ছোট বাচ্চারা মোবাইল চার্জে দিতে যায়, চার্জ থেকে খুলতে যায় বার বার। অনেক সাবধানে না রাখলে সবার চোখ ফাকি দিয়ে বাচ্চারা এগুলো করতে থাকে। ফলে বিদ্যুৎ আক্রান্ত হয় তারা। অন্য সদস্যরা না বোঝার ফলে বিদ্যুৎ আক্রান্ত ব্যক্তিকে ধরায় তারাও আক্রান্ত হয়। এজন্য নির্দিষ্ট ক্ষমতা সম্পন্ন ফিউজ ব্যবহার করতে হবে, যাতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে ফিউজ কেটে গিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়। সর্বপ্রথম বাড়িতে বৈদ্যুতিক ওয়ারিং করার সময় ভালোভাবে আরথিং করতে হবে।

এছাড়াও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহারে আমাদের কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চলতে হবে। ভেজা হাতে কখনো বিদ্যুতের সুইচ ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম স্পর্শ করা যাবে না। বর্জপাতের সময় অবশ্যই টিভি, ফ্রিজ, রাউটার, এসির বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখতে হবে। খালি হাতে ওভেনের মধ্যে খাবার পাত্র প্রবেশ করানো এবং বের করা যাবে না। ইলেকট্রিক হিটারে দুধ গরম করার ক্ষেত্রে বিশেষ খেয়াল এবং তাপমাত্রা কম রাখতে হবে। বৈদ্যুতিক কাজ এবং ইলেকট্রিক আয়রন ব্যবহারের সময় পায়ে রাবারের জুতা পরতে হবে এবং হাত শুকনা রাখতে হবে। চালু বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম থেকে ছোটদের দূরে রাখতে হবে। বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহারের পর ঠান্ডা হলে তারপর পরিষ্কার করতে হবে।

এছাড়াও বাচ্চাদের উপর যাতে চাপ না পড়ে এজন্য প্রাথমিক পর্যায়ে বিজ্ঞান বইয়ের মধ্যে অথবা অন্য বইয়ের মধ্যে কম গুরত্বপূর্ণ যেকোনো একটা অধ্যায় বাদ দিয়ে প্রযুক্তি ও তার ব্যবহার সম্পর্কে একটা অধ্যায় যুক্ত করতে হবে। যাতে বাচ্চাদের পড়াতে গিয়ে বাবা-মা ও এগুলোর ব্যবহার সম্পর্কে জানতে পারেন ও শিশুরাও জানতে ও সচেতন হতে পারে। বিদ্যুৎ যেহেতু আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এটা ছাড়া কোনো কাজ করা সম্ভব নয়, তাই দুর্ঘটনা এড়াতে বিদ্যুৎচালিত এসব প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতাও খুবই প্রয়োজন।

একটু অসচেতন হলে প্রযুক্তি হবে অভিশাপ। তাই সবারই প্রযুক্তির আবিষ্কারকে, আশীর্বাদে রূপ দিতে সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে জানতে হবে।

লেখক: শিক্ষার্থী, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

 

ইবি/হাকিম মাহি