Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৩ এপ্রিল ২০২১ ||  চৈত্র ৩০ ১৪২৭ ||  ২৮ শা'বান ১৪৪২

আমি নারী, আমি অদম্য

সানজানা হোসেন অন্তরা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:৩৬, ৮ মার্চ ২০২১  
আমি নারী, আমি অদম্য

আমি নারী, আমি পারি। আমি নারী এই পরিচয়ের আগে আমার পরিচয় আমি একজন মানুষ। হ্যাঁ শুধু নিজেকে মানুষ হিসেবে পরিচয় দেওয়ার জন্যই নারী-পুরুষের এই সমান অধিকার চাওয়া। বর্তমানে প্রায় সবক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ লক্ষণীয় কিন্তু সেই অংশগ্রহণের জন্য রাস্তাটি সবার জন্য সহজ নয়। ‘নারী’ শব্দের প্রথমেই আসে ‘না’ কথাটি, তাই হয়তোবা একবিংশ শতাব্দীতে এসেও নারীকে শুনতে হয় ‘না’। তুমি যেতে পারবে না, তুমি কাজটি করতে পারবে না, এমন হাজারো না কথা উপেক্ষা করে যে এগিয়ে যাওয়ার সাহস দেখায়, সেই দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে। 

‘বেগম রোকেয়া’ এমনই এক দৃষ্টান্তের নাম। হাজার বাধা উপেক্ষা করে যিনি মেয়েদের শিক্ষা চালু করেন, কঠোর পর্দাপ্রথার নাম করে মেয়েদের যে পিছিয়ে রাখা হতো, সেখান থেকে তিনি স্বামী সাখাওয়াত হোসেনের অনুপ্রেরণায় মেয়েদের এনেছে আলোর পথে। আজ কর্মক্ষেত্রে প্রতিটি স্তরে নারীদের অংশগ্রহণ দেখা যায়। শুধু ঘরকন্যার কাজ নয়, মেয়েরা বাড়ি ও বাইরে সমান তালে সামলে যেতে পারে তা এখন এই সমাজ অনেকটাই বুঝে।

নারীর মতামত, সিদ্ধান্ত, তার কাজের গুরুত্ব দেওয়াই নারীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন। রাস্তায় কোনো নারীর দিকে চোখ তুলে তাকাবেন না অথচ নিজের বাড়িতে মা, বোন, স্ত্রীর মতামতের, সিদ্ধান্তের মূল্য দিবেন না তাহলে আর যাই হোক আপনার নারীর প্রতি সম্মান নেই। নারীর প্রতি সম্মানের কথা সকল ধর্মে উল্লেখ রয়েছে। নারী কখনো আপনার মা, কখনো বোন, কখনো স্ত্রী। যারা হাসতে হাসতে অপরের জন্য বিলিয়ে দেয় নিজের ইচ্ছা, আনন্দ সে হলো নারী আপনার মা আপনার জন্য সব ছাড়তে রাজি হবে, আপনার স্ত্রী  আপনার সন্তানের সুখের কথা ভেবে নিজের সব ছাড়তে রাজি। এভাবেই নারীরা একাই সমস্যা ও সমাধানের হালটি নিজের কাধে তুলে নেয় অপরকে ভালো রাখতে। সেই নারীর জন্য যাই করার হোক তাই কম বলে মনে হবে। তবুও নারীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে সারাবিশ্বে ৮ মার্চ নারী দিবস হিসেবে পালিত হয়। 

নারী দিবস পালিত হওয়ার পেছনে রয়েছে এক ইতিহাস। ঘটনাটি সেই ১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একটি সুচ কারখানার নারী শ্রমিকরা দৈনিক শ্রম ১২ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে আট ঘণ্টায় আনা, ন্যায্য মজুরি এবং কর্মক্ষেত্রে সুস্থ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে সোচ্চার হয়েছিলেন। আন্দোলন করার অপরাধে সে সময় গ্রেফতার হন বহু নারী। কারাগারে নির্যাতিত হন অনেকেই। তিন বছর পরে ১৮৬০ সালের একই দিনে গঠন করা হয় ‘নারী শ্রমিক ইউনিয়ন’। ১৯০৮ সালে পোশাক ও বস্ত্রশিল্পের কারখানার প্রায় দেড় হাজার নারী শ্রমিক একই দাবিতে আন্দোলন করেন। অবশেষে আদায় করে নেন দৈনিক আট ঘণ্টা কাজ করার অধিকার।

১৯১০ সালের এই দিনে ডেনমাকের্র কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক সম্মেলনে জার্মানির নেত্রী ক্লারা জেটকিন ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই সারাবিশ্বে দিবসটি আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

জাতিসংঘ ১৯৭৫ সালে আন্তর্জাতিক নারীবর্ষে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করা শুরু করে। এর দুই বছর পর ১৯৭৭ সালে জাতিসংঘ দিনটি আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

বর্তামানে সারা বিশ্বে দিনটি পালন করা হয় বিভিন্ন ভাবে। এছাড়া নারী দিবসকে ঘিরে বেগুনি রঙের শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ কিংবা নারী তার পছন্দের মতো পোশাকটি পরে দিনটি উদযাপন করে।ভারতে দিনটিকে ঘিরে নানা আয়োজন করা হয়। এইদিনে নারীদের তাদের কর্মস্থলে সবচেয়ে বড় পদে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়। যেমন একটি পুরো বিমানের প্রত্যেকটি পদে দেওয়া হয় নারীকে এবং সেই উড়োজাহাজটি ফেরত আসে ঠিক দুদিন পর। কানাডায় নারীর প্রতি সম্মান জানিয়ে ব্যাকনোটে যুক্ত করা হয় নারীর ছবি। যা দেশটির মুদ্রার দেড়শ’ বছরেও হয়নি। নারী দিবসকে ঘিরেই এ আয়োজন করেন তারা। এছাড়া নারীর প্রতি সম্মান জানিয়ে সৌদি আরবেও পালিত হয় বিশ্ব নারী দিবস। তবে তারা তা ৮ মার্চ পালন করে না। তারা তাদের মতো দিন ঠিক করে দিনটি পালন করে আসছে। অন্যদিকে চীন, জাপানে দিনটিতে নারীদের কর্মস্থল থেকে ছুটি ঘোষণার রেওয়াজ আছে।

আমাদের দেশেও নারী দিবস পালন করা হয়। প্রতিবছর এ দিবসের একটা প্রতিপাদ্য বিষয় নির্ধারণ করে জাতিসংঘ। ২০২১ এর প্রতিপাদ্য বিষয়টি হলো, করোনাকালে নারীর নেতৃত্ব গড়বে নতুন সমতার বিশ্ব। স্বার্থক হোক নারী দিবস। সত্যি যেন নারী পুরুষের ভেদাভেদ দূর হয় সমাজ থেকে, পরিবার থেকে। নারীকে মানুষ হিসেবে মূল্য দিতে শিখি আমরা। একজন নারী হিসেবে যেন বলে উঠতে পারি ‘আমি নারী, আমি অদম্য’।

লেখক: শিক্ষার্থী, তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

ঢাবি/মাহি 

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়

শিরোনাম

Bulletলকডাউন: ১৪-২১ এপ্রিল। যা যা চলবে: ১. বিমান, সমুদ্র, নৌ ও স্থল বন্দর এবং তৎসংশ্লিষ্ট অফিস। ২. পণ্য পরিবহন, উৎপাদন ব্যবস্থা ও জরুরি সেবাদানের ক্ষেত্রে এ আদেশ প্রযোজ্য হবে না ৩. শিল্প-কারখানা ৪. আইনশৃঙ্খলা এবং জরুরি পরিসেবা, যেমন, কৃষি উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি), খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, কোভিড-১৯ টিকা প্রদান, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস/জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরগুলোর (স্থল, নদী ও সমুদ্রবন্দর) কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারি-বেসরকারি), গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাক সেবাসহ অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহ, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতা বর্হিভূত থাকবে। ৫. ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন/সৎকার ৬. খাবারের দোকান ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা এবং রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কেবল খাদ্য বিক্রয়/সরবরাহ করা যাবে। ৭. কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে || যা যা বন্ধ থাকবে: ১. সব সরকারি, আধাসরকারি, সায়ত্ত্বশাসিত ও বেসরকারি অফিস, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে ২. সব ধরনের পরিবহন (সড়ক, নৌ, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট) বন্ধ থাকবে ৩. শপিংমলসহ অন্যান্য দোকান বন্ধ থাকবে