ঢাকা     রোববার   ২৯ মে ২০২২ ||  জ্যৈষ্ঠ ১৫ ১৪২৯ ||  ২৭ শাওয়াল ১৪৪৩

মিষ্টির অভিযানে আমরা ক’জন 

সুকান্ত দাস, ইবি  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:২২, ২৭ জানুয়ারি ২০২২  
মিষ্টির অভিযানে আমরা ক’জন 

সেদিন দুপুরে ক্লাস শেষ করে মাত্র আমতলায় এসে দাঁড়িয়েছি। তখনই অনন্যার ফোন। এখনই হলের সামনে চলে আয়, ব্রজেন দা ডাকছে। কোনোকিছু চিন্তা না করেই চলে গেলাম। পথিমধ্যে ব্রজেন দা এবং রিয়ার ফোন৷ একই কথা তাড়াতাড়ি চলে এসো। ওখানে গিয়ে দেখলাম আমাদের সবার বড় এবং প্রিয় সুদিপ্ত দা, ব্রজেন দা, হৃদয় দা, আশিক দা, অপু দা, বন্ধু রতন, বান্ধবী অনন্যা, অর্পিতা এবং স্নেহের রিপা, রিয়া, স্বপ্না এবং হৃদয় দাড়িয়ে আছে। 

সুদীপ্ত দা এবং ব্রজেন দার নেতৃত্বে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সংলগ্ন ত্রিবেণী গ্রামে মিষ্টি খেতে যাবে বলে সবাই একজায়গায় হয়েছেন। আমি আসার পর সবাই রওনা হলাম। বঙ্গবন্ধু হলের পকেট গেট থেকে বের হয়ে দুইটা ব্যাটারিচালিত ভ্যানে উঠে ত্রিবেণীর সেই মিষ্টির দোকানের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। দুইপাশের ফাঁকা মাঠের মাঝে রাস্তা। মাঠে সরিষাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ করেছে কৃষকেরা। যেতে যেতে নিজের গ্রামের মেঠোপথের অপার সৌন্দর্যের স্মৃতিচারণ হচ্ছিল। কিছুক্ষণের জন্য অসাধারণ এই পরিবেশের মধ্যে হারিয়ে গেছিলাম। কিছুদূর যাওয়ার পর দেখলাম রাস্তার পাশে একটা বড় পুকুরে মাছ ধরা হচ্ছে। বড় বড় মাছ উঠেছে জালে। সবাই ভ্যান থেকে নেমে কিছুক্ষণ মাছ ধরা দেখলাম। 

প্রায় বিশ মিনিট পর আমরা ত্রিবেণী বাজারে পৌঁছলাম। ভ্যান থেকে নেমেই দেখি একটি দোকানে পুরি, আলুর চপ, পেঁয়াজু ভাজি করছে একজন। সবাই হামলে পড়লো সেখানে। গরম গরম পেঁয়াজু, চপ আর পুরি খাওয়া হলো। খাবারগুলো খুব মজার ছিল। হঠাৎ সুদীপ্ত দা বকা দিলেন সবাইকে। এত ভাজাপোড়া খেলে মিষ্টি খেতে পারবো না এজন্য। এরপর সবাই দাদার সাথে মিষ্টির দোকানে গেলাম। আসলে দোকানে ঠিক না, চলে গেলাম দোকানদারের বাসায়, যেখানে তিনি মিষ্টি তৈরি করেন। সেখানে যেতেই বাড়ির মানুষের আতিথিয়েতায় মুগ্ধ হয়ে গেলাম। মনে হচ্ছিল নিজের বাড়ি এসেছি। 

এই বাড়িতে সুন্দর একটি মন্দির আছে। সবাই মন্দিরটা ঘুরে দেখলাম। কারিগর মিষ্টি বানাচ্ছেন বসে বসে। সবাই বানানো দেখলাম। একদিকে মিষ্টি বানানো হচ্ছে, অন্য দিকে আমরা সবাই খোশগল্পে মগ্ন। একটু পরেই গরম গরম রসগোল্লা এবং কালোজাম নিয়ে এলেন একজন। ব্রজেন দা আগে থেকে পাউরুটি নিয়ে এসেছিলেন সবার জন্য। মিষ্টি দিয়ে রুটি খেতে মজা হবে এটা ভেবে। তিনি সবাইকে রুটি ভাগ করে দিলেন। মজা করে খেলাম। সবাই খুনসুটিতে মেতে ছিল পুরো সময়টায়। 

হঠাৎ অনন্যা হাত ধুতে উঠলে আমি ওর বসার চেয়ারটা সরিয়ে নিলাম, ও বসতে গিয়ে তো চিৎপটাং হয়ে পড়ে যায়। এটাতে সবাই খুব মজা পেয়েছে। হাসতে হাসতে পেট ব্যাথা হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়ে গেছিল। সবাই মিষ্টি খেতে খেতে অনেক মজা করলাম। অনেক গল্প হলো। কিছুক্ষণ ওখানে থাকার পর আমরা সবাই আবার ক্যাম্পাসে ফিরে আসি।

 

ফেরার সময় পথিমধ্যে ভ্যান থেকে অপু দা পড়ে যায়৷আমরা ভাবলাম খুব ব্যাথা পেয়েছেন। তড়িঘড়ি করে এগিয়ে গেলাম সবাই। কিন্তু না উনি একটুও ব্যথা পাননি। সবাই তো হেসেই খুন। কোনো রকম পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়া দারুণ একটা সময় কাটিয়েছি সবাই মিলে। স্মৃতির পাতায় অমলিন হয়ে থাকবে এই ঘটনাটা।

লেখক: শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

/মাহি/

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়