ঢাকা     শুক্রবার   ০১ জুলাই ২০২২ ||  আষাঢ় ১৭ ১৪২৯ ||  ০১ জিলহজ ১৪৪৩

শ্রেণিকক্ষ সংকটে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

আমিরুল ইসলাম, রংপুর || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:৫৭, ২৩ মে ২০২২   আপডেট: ১০:৫৮, ২৩ মে ২০২২
শ্রেণিকক্ষ সংকটে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ক্লাসরুমের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে অধিকাংশ বিভাগের শিক্ষাকার্যক্রম। শ্রেণিকক্ষ সংকট থাকায় এক বিভাগ অন্য বিভাগের শ্রেণিকক্ষ ধার করে শিক্ষাকার্যক্রম চালাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শ্রেণিকক্ষ না থাকায় তারা প্রায়ই মাঠের কোণে, গাছের নিচে ক্লাস করছেন। এ সংকটের সমাধান চান তারা।  

জানা যায়, এই সংকটে সব থেকে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে একাডেমিক ভবন তিন এবং কবি হেয়াত মামুদ ভবনের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। এদিকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ৬টি অনুষদ, ১টি ইনস্টিটিউট রয়েছে। ২২টি বিভাগ থাকলেও সেই তুলনায় ক্লাসরুম নেই। 

প্রায় প্রত্যেকটি বিভাগে কমপক্ষে ৫টি করে ব্যাচ রয়েছে, ক্লাসরুম রয়েছে কোনো বিভাগের একটি, কোনো বিভাগের দুইটি করে। ফলে এক ব্যাচের ক্লাস শেষ হতে না হতেই অন্য ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ওই ক্লাসরুমের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকেন। এতে ক্লাসরুমে অবস্থানরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মনোযোগে যেমন ব্যাঘাত ঘটে, তেমনি দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীরাও অস্বস্তি বোধ করেন। এদিকে নতুন একাডেমিক ভবন সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রসাশনের। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন তিনে চার ফ্লোরে মোট ৮টি বিভাগ রয়েছে। সেখানে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দুটি কক্ষ, রাষ্টবিজ্ঞান বিভাগের দুটি, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের তিনটি, ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের মাত্র একটি কক্ষ রয়েছে। এক ভবনে তাদের ক্লাসরুম অন্য ভবনে অফিস। এখানে একাউন্টিং বিভাগের তিনটি, ফাইন্যান্স বিভাগের তিনটি, মাকেটিং বিভাগের তিনটি, প্রত্যেক বিভাগের একটি করে সেমিনার কক্ষ আছে।

শিক্ষকদের অভিযোগ, একটি-দুটি ক্লাসরুমে ডিপার্টমেন্টের ৫/৬টি ব্যাচের ক্লাস-পরীক্ষা চালানো অসম্ভব। এ কারণে নিয়মিত ক্লাস এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণে বিঘ্ন হচ্ছে। আমরা এই সমস্যার দ্রুত স্থায়ী সমাধান চাই।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি হেয়াত মামুদ ভবনে রয়েছে ৫টি বিভাগ- বাংলা, ইংরেজি, অর্থনীতি, ইতিহাস, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ। এসব বিভাগেও রয়েছে তীব্র শ্রেণিকক্ষ সংকট। ক্লাসের সময় তীব্র সমস্যায় পড়তে হয় বলে জানান শিক্ষার্থীরা। 

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী জুনাইদ ইসলাম বলেন, ‘ক্লাসরুমের তীব্র সংকটের কারণে আমরা চরম ভোগান্তিতে আছি। শুধু দুটি বরাদ্দকৃত রুমে সব ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়া হয়, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত। এই সংকট সমাধানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রসাশনের দ্রুত পদক্ষেপ ও বাস্তবায়ন চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘মাঝে মাঝেই আমরা ক্লাস করার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাইরে দাঁড়িয়ে থাকি, যে সময়ে অন্য ব্যাচের ক্লাস চলে। কখনো কখনো স্যাররা বিরক্ত হয়ে খোলা আকাশের নিচে কোনো মাঠে ক্লাস নিতে বাধ্য হন। ক্লাসরুম সংকটের কারণে আমরা রুটিন অনুযায়ী ক্লাস করতে পারি না। আমরা আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই সংকট সমাধানে পদক্ষেপ নেবে এবং আমাদের ভোগান্তি দূর করবে।’

খোলা আকাশের নিচে ক্লাস পরিচালনার বিষয় জানতে চাইলে শিক্ষক মাহমুদুল হক বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভাগ বাড়ছে, 'শিক্ষার্থী বাড়ছে কিন্তু শ্রেণিকক্ষ বাড়ছে না। সংকট প্রকটই বলা যেতে পারে। শিক্ষকদের সংখ্যা বাড়ছে কিন্তু অনেক শিক্ষকের কক্ষ নেই। শিক্ষকদের কক্ষও এক ধরনের গবেষণাগার, শ্রেণিকক্ষ। দ্বিতীয় উপাচার্যের আমলে ভবনগুলো তৈরি হয়েছে। এরপর আর কোনো উপাচার্য নতুন কোনো ভবন নির্মাণ করেননি। বর্তমান উপাচার্য খাদে পড়া বিশ্ববিদ্যালয়কে উদ্ধার করে চলেছেন এখনও। সার্বিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ শুরু করবেন শিগগিরই বলে এমনটাই প্রত্যাশা সবার।’

ক্লাসরুম সংকটের বিষয়ে লোকপ্রশাসন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আসাদুজ্জামান মন্ডল বলেন, ‘ক্লাসরুম, বিভাগের অফিস এবং শিক্ষকদের চেম্বার ভিন্ন ভিন্ন ফ্লোরে হওয়ায় বিভাগের কার্যক্রম সমন্বয় করতে প্রায় সময় হিমশিম খেতে হয়। আমাদের শ্রেণিকক্ষ সংকট চরম পর্যায়ে। খুব কষ্ট করে আমাদের ক্লাস নিতে হচ্ছে।’

ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা পরিচালক নুরুজ্জামান খান বলেন, ‘ক্লাসরুম সংকট নিরশনের জন্য বর্তমান উপাচার্য ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছেন। আর্থিক বরাদ্দ ইতোমধ্যে পাস হয়ে গেছে। খুব দ্রুতই দুটি ভবনে দুই তলা করে কাজ শুরু হবে।’

/এইচএম/

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়