Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     শনিবার   ২৩ অক্টোবর ২০২১ ||  কার্তিক ৭ ১৪২৮ ||  ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

যে কারণে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম

জ‌্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:০৯, ১৩ অক্টোবর ২০২১   আপডেট: ১৮:১১, ১৩ অক্টোবর ২০২১
যে কারণে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম

করোনা শুরু হওয়ার পর থেকেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে।গত একমাস ধরে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। স্বাভাবিক হয়েছে সব ধরনের কার্যক্রম। কিন্তু নিত্যপণ্যের দাম কমার ক্ষেত্রে তার কোনো প্রভাবই পড়েনি। গত ১৮ থেকে ২০ দিনের ব্যবধানে বাজারে পেঁয়াজের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০ দিন আগেও প্রতি কেজি পেঁয়াজ খুচরা বাজারে বিক্রি হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়। এখন তা বেড়ে হয়েছে প্রতি কেজি ৮৫ টাকা।

আরও পড়ুন: নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছেই

এদিকে, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি গত সোমবার (১১ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমরা চেষ্টা করছি পেঁয়াজের দাম যতটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। গত প্রায় ২০দিন ধরে বাজারে পেঁয়াজের বাড়তি দামের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু আমাদের দেশে ৫ লাখ টন পেঁয়াজ মজুত আছে, যা দিয়ে আগামী আড়াই থেকে তিন মাস চলতে পারে। তারপরও আমরা বিভিন্ন রকম শুল্ক প্রত্যাহার করার জন্য এনবিআরকে চিঠি দিয়েছি।

মন্ত্রী বলেন, ভারত ছাড়া মিয়ানমার থেকে যদি পেঁয়াজ আনা যায়, তাহলে কিন্তু এত চাপ পড়ার কথা নয়। তবে বৃষ্টির কারণে কিছুটা দাম বেড়েছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করব, যেন দাম সহনীয় মাত্রায় রাখা যায়।

নিউমার্কেট এবং কারওয়ান বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী এবং ক্রেতাদের অনেকে বলছেন, পাইকারি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারণেই পেঁয়াজের দাম প্রতিনিয়ত বড়েছে। বন্যার অজুহাতে পেঁয়াজ আমদানি করলেও বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বিক্রি কমিয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে চাহিদান তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ার কারণে অব্যাহতভাবে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম।

পাইকারি পেঁয়াজ ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা বলছেন, ভারতে অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে পেঁয়াজের ক্ষেত ও ফলন নষ্ট হয়েছে। এছাড়াও পূজার কারণে বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি প্রায় বন্ধ। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বাজারে।

বর্তমান বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০-৮৫ টাকায়। আর আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭৫-৮০ টাকায়। অথচ ১৮ থেকে ২০ দিন আগেও দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৩৫-৪০ টাকা কেজিতে। পাশাপাশি আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৩২-৩৫ টাকায়।

পেঁয়াজসহ নিত‌্যপণ‌্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে ডাল, চিনি আর তেলের পাশাপাশি ন্যায্যমূল্যে পেঁয়াজ বিক্রিও শুরু করেছে সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি)।  তারা খোলা ট্রাকে করে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করছে ৩০ টাকা। অন্যান্য পণ্যের পাশাপাশি একজন গ্রাহক টিসিবি থেকে সর্বোচ্চ ৩ কেজি পর্যন্ত পেঁয়াজ কিনতে পারছেন।

বুধবার (১৩ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর একাধিক বাজার ঘুরে, খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ী এবং ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০-৮৫ টাকায়।  আর আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭৫-৮০ টাকায়। 

কারওয়ান বাজারের খুচরা পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মিলন আহমেদ, আড়তদাররা পেঁয়াজের দাম বাড়িয়েছেন। তারা বলছেন, পেঁয়াজের দাম আরও বাড়বে।  ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি কমেছে, এ অজুহাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে। তার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।  আমরা বেশি দামে কিনছি বলে বেশি দামে বিক্রি করছি।

নিউমার্কেটে বাজার করতে আসা ছানোয়ার আলী বলেন, ৫ জনের সংসারে গত মাসে বাজার খরচ হয়েছে ১০ হাজার টাকা।  প্রায় সব নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার কারণে চলতি মাসের প্রথম ১২ দিনেই ৮ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে। মাসের বাকি দিনগুলো কীভাবে চলব? আমাদের তো আনলিমিটেড আয় নাই, মাসে একবারই বেতন পাই। 

তিনি বলেন, তিন ছেলে-মেয়েই পড়াশোনা করছে। এতদিন ওদের স্কুল-কলেজ বন্ধ ছিল। যাতায়াত খরচ লাগছিল না। কিন্তু এখন প্রতি দিন বাড়তি খরচ লাগছে।  তার ওপর এভাবে নিত্যপণ্যের দাম বাড়লে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকাটাই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। 

নিউমার্কেটের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী সেলিম হোসেন বলেন, ভারতে অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে পেঁয়াজের ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়াও পূজার কারণে বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি প্রায় বন্ধ রয়েছে। ফলে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষকরা ক্ষেত থেকে পেঁয়াজ ওঠানো কমিয়ে দিয়েছেন। মোকামগুলোয় লোডিং কমে গেছে। তবে পূজার পর এমন দাম থাকবে না, দাম কমে যাবে। 

জাতীয় ভোক্তা অধিকার রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি মোহাম্মদ আতাউল্লাহ খান বলেন, করোনা মহামারির ধাক্কায় চাকরি হারিয়ে বেকার হয়েছে অসংখ্য মানুষ। এর মধ্যে কিছু সংখ্যক অসাধু আড়তদাররা পেঁয়াজের দাম বাড়িয়েছে। তারা বলছে পেঁয়াজের দাম আরও বাড়বে। ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি কমেছে, এ অজুহাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে। তার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও।

মেয়া/এসবি

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়