ঢাকা     শনিবার   ২৩ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ৯ ১৪৩৩ || ৬ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

গাবতলী হাটে এখনো আসছে পশু, ক্রেতার অপেক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:০০, ২২ মে ২০২৬  
গাবতলী হাটে এখনো আসছে পশু, ক্রেতার অপেক্ষা

ছবি: রাইজিংবিডি

ঈদুল আজহার আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কোরবানির পশু এসে পৌঁছাচ্ছে রাজধানীর সবচেয়ে বড় ও ঐতিহ্যবাহী গাবতলী পশুর হাটে। তবে বিক্রেতারা বলছেন, সমাগম বাড়লেও এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি বেচাকেনা।

শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে গাবতলী হাট ঘুরে দেখা যায়, চারপাশ খড়, ভুসি আর পশুর ডাকে মুখরিত। মাঠজুড়ে সারি সারি খুঁটিতে বাঁধা রাজকীয় গরু, মহিষ ও ছাগল। কিন্তু বিশাল এই সমাগমের মাঝেও বেচাকেনার চিরচেনা উত্তাপ এখনো অনুপস্থিত।

আরো পড়ুন:

বিক্রেতারা চড়া দাম হাঁকাচ্ছেন, আর ক্রেতারা ঘুরে ঘুরে দরদাম করে বাজার যাচাই করছেন। ফলে পশুর অভাব না থাকলেও কেনাবেচার গতি এখনো ধীর।

কুষ্টিয়া থেকে ২০টি জাতের গরু নিয়ে গাবতলীর কোরবানির পশুর হাটে এসেছেন বেপারি সুমন হাওলাদার। তিনি রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “গত দুই দিন ধরে হাটে থাকলেও এখনো একটি গরুও বিক্রি করতে পারেননি। একেকটা গরুর পেছনে সারা বছর যে খাটুনি আর খাবারের পেছনে যে টাকা খরচ হইছে, এবার হাটে এসে সেই দাম তুলতে পারমু কি না তা নিয়া চিন্তায় আছি। হাটে গরুর অভাব নাই, প্রতি ঘণ্টায় নতুন নতুন ট্রাক ঢুকতাছে।”

তিনি বলেন, “কাস্টমার যারা আইতাছে, তারা খালি দাম শুনে চলে যায়। যে গরুর দাম আমি সাড়ে তিন লাখ টাকা আশা করতাছি, ক্রেতারা সেটার দাম বলে দুই লাখ। এই দামে বিক্রি করলে আমার আসল টাকাই উঠব না। হাট এখনো জমে নাই, সবাই খালি দেখতাছে। আশা করি শেষের দিকে আসবে, তখন বেচাকেনা ভালো হবে।”

গাইবান্ধা থেকে ৫০টি মাঝারি আকারের দেশি গরু নিয়ে এসেছেন খামারি রাজিব মোল্লা। তিনি রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি থাকলেও এবার এখনো তেমন বিক্রি হয়নি। হাটের অবস্থা এখনো ঠান্ডা। ঢাকার মানুষ মনে হয় আরো একটু দেখতে চায়। গতবার এই সময়ে আমার ৮ থেকে ১০টা গরু বিক্রি হয়েছিল। এবার এখনো খাতা খুলতে পারি নাই। তবে আমরা অভিজ্ঞ মানুষ, জানি ঢাকার হাট জমে শেষ তিন-চার দিনে। এখন যদি কম দামে ছাড়ে দেই, পরে আফসোস করা লাগবে। তাই একটু ধৈর্য ধরে আছি, হাট জমলে ঠিকই ন্যায্য দাম পাব।”

গাবতলী কোরবানির পশুর হাটে পরিবারসহ গরু দেখতে এসেছেন জিসান খাঁন। তিনি রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “কোরবানি তো দিতেই হবে, তাই প্রতি বছরের মতো এবারও গাবতলীতে এসেছি। কিন্তু বিক্রেতারা এবার যে দাম চাচ্ছেন, তা মধ্যবিত্তের বাজেটের বাইরে। যে সাইজের গরু গত বছর দেড় লাখ টাকায় কেনা যেত, এবার সেটার দাম চাচ্ছে আড়াই লাখ টাকা। বিক্রেতারা বলছেন গোখাদ্যের দাম বেশি, কিন্তু আমাদের বেতন তো আর সেভাবে বাড়েনি। হাট এখনো জমেনি কারণ আমার মতো অনেকেই বাজার যাচাই করতে এসেছেন। আরো দুদিন দেখব, দাম একটু স্বাভাবিক না হলে কোরবানি দেওয়াটাই কঠিন হয়ে যাবে।”

গাবতলী কোরবানির পশুর হাটে হাসিল ঘরে দায়িত্বরত আজিজুল ইসলাম বলেন, “এখনো হাট জমে উঠেনি। অল্পকিছু বিক্রি হচ্ছে। তবে ঈদের দুই তিন আগে বেশি বিক্রি হয়। আমরা আশা করছি গতবারের তুলনায় এবার বিক্রি বেশি হবে।”

ঢাকা/রায়হান/সাইফ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়