ব্যাংকার থেকে নাট্যনির্মাতা আশরাফ
আশরাফ ব্যাকুল
ব্যাংকের দায়িত্ব আর নাট্য নির্মাণ—দুই ভিন্ন জগতের এই সহাবস্থানকে নিজের মতো করে এগিয়ে নিচ্ছেন আশরাফ ব্যাকুল। পেশায় জনতা ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা হলেও মনন ও মনোযোগের বড় অংশ জুড়ে আছে নাটক ও সংস্কৃতি। সামাজিক দায়বদ্ধতা আর গল্প বলার তাগিদ থেকেই তিনি নিয়মিত নাটক নির্মাণ করছেন। সাম্প্রতিক কাজ ও ভাবনা নিয়ে রাইজিংবিডির সঙ্গে কথা বলেছেন এই নাট্যনির্মাতা।
রাইজিংবিডি: আপনি তো পেশায় ব্যাংকার। তারপরও নাট্য পরিচালনার সঙ্গে কীভাবে সম্পৃক্ত হলেন?
আশরাফ ব্যাকুল: হ্যাঁ, আমি জনতা ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা। ছোটবেলা থেকেই বাংলা নাটক ও সংস্কৃতির প্রতি আলাদা দুর্বলতা ছিল। কলেজে পড়ার সময় আমার বন্ধু মিল্টন আহমেদ নিয়মিত মঞ্চনাটকে কাজ করত। তার অনুপ্রেরণাতেই অন্বেষণ নাট্যগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত হই। পরবর্তীতে যখন বাংলা নাটকের নাম ও গল্পের দিকে তাকাই, তখন বুঝতে পারি আমাদের রুচির একটা দুর্ভিক্ষ চলছে। তখন মনে হয়, এখানে কিছু করা দরকার। সেই সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে গল্প লেখা ও নাট্য নির্মাণে আগ্রহী হই।
রাইজিংবিডি: আপনার পরিচালিত প্রথম নাটক কোনটি?
আশরাফ ব্যাকুল: আমার পরিচালিত প্রথম নাটক ‘জোসনার বিয়ে’। এরপর ‘বড় মেয়ে’, ‘সুখের সংসার’, ‘কোহিনুর চেয়ারম্যান’, ‘দুই বোন’সহ আরো বেশ কিছু নাটক নির্মাণ করেছি।
রাইজিংবিডি: নতুন বছরে দর্শকদের জন্য নতুন কী আসছে?
আশরাফ ব্যাকুল: নতুন বছরের শুরুতে দর্শকরা ইউটিউবে দেখতে পাবেন ‘মা মনি’, ‘ফুলশয্যা’ এবং ‘কোহিনুর চেয়ারম্যান–টু’ নাটক।
রাইজিংবিডি: আপনার লেখা ও পরিচালিত নাটকগুলো দর্শকরা কেন দেখবেন বলে মনে করেন?
আশরাফ ব্যাকুল: আমার রচিত ‘বড় বোন’ ও ‘জোসনার বিয়ে’ নাটকে শিক্ষার্থীরা কীভাবে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী হতে পারে এবং পরিবারের প্রতি একজন মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্য কেমন হওয়া উচিত, সেগুলো গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। আসন্ন ‘মা মনি’ নাটকে একজন সিঙ্গেল মাদার কীভাবে সমাজের নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে অসুস্থ সন্তানকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন, সেই গল্প ও গানের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। অন্যদিকে ‘কোহিনুর চেয়ারম্যান’ নাটকে আমাদের সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক রাজনীতি কেমন হওয়া উচিত, সেই ভাবনাটাই গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। সাধারণত এ ধরনের সমাজঘনিষ্ঠ গল্প নিয়েই আমি নাটক নির্মাণ করি। বিশ্বাস করি, দর্শকরা এগুলো পছন্দ করেন।
রাইজিংবিডি: মিডিয়াতে কাজ করতে গিয়ে কোন বিষয় নিয়ে সবচেয়ে বেশি অস্বস্তি বোধ করেছেন?
আশরাফ ব্যাকুল: কিছু অস্বস্তি তো আছেই। সত্যি বলতে, মিডিয়াতে একটি অঘোষিত সিন্ডিকেট রয়েছে, আর অনেক শিল্পীর মধ্যেই আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি দেখা যায়। তারা গল্পের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় জুটি বা হিরো-হিরোইনের বিষয়টিকে। অনেকে মনে করেন, ছেলে হলে হিরো আর মেয়ে হলে হিরোইন। কিন্তু আসলে গল্পের মূল চরিত্র যিনি লিড দেন, তিনিই হিরো—সে ছেলে হোক বা মেয়ে। এই বিষয়টা এখনো অনেকেই বুঝতে চান না। কারণ তাদের অনেকেরই থিয়েটার বা স্কুলিংয়ের অভিজ্ঞতা নেই। ফলে একা একটি গল্প লিড দেওয়ার সাহসও খুব কম শিল্পীর থাকে। আমি মনে করি, শিল্পীদের থিয়েটার ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের সঙ্গে আরো বেশি যুক্ত হওয়া প্রয়োজন।
রাইজিংবিডি: আলোচিত নাটক ‘কোহিনুর চেয়ারম্যান’ নিয়ে কিছু বলুন।
আশরাফ ব্যাকুল: ‘কোহিনুর চেয়ারম্যান’-এর প্রথম পার্ট দর্শকমহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল এবং ব্যবসায়িকভাবেও সফল হয়। এ কারণে নাটকটির দ্বিতীয় পার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই কোহিনুর চেয়ারম্যান চরিত্রে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য সকলের প্রিয় অভিনেত্রী এবং এই গল্পের প্রকৃত হিরো অলংকার চৌধুরীকে। তিনি সত্যিকার অর্থেই গল্প বোঝেন এবং চরিত্র অনুযায়ী নিজের সর্বোচ্চটা দেন। তাছাড়া ‘কোহিনুর চেয়ারম্যান–টু’ নাটকে নাদের চৌধুরী, টুটুল চৌধুরী, সুজাত শিমুল, কবির টুটুল, শ্যামলসহ অনেক গুণী শিল্পীর অভিনয় নাটকটিকে প্রথম পার্টের চেয়েও আরো বেশি বৈচিত্র্যময় ও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে।
রাইজিংবিডি: দর্শকদের উদ্দেশ্যে কী কোনো বার্তা দিতে চান?
আশরাফ ব্যাকুল: প্রিয় দর্শকবৃন্দ, আপনারা যদি ভালো গল্পের নাটক বেশি করে দেখেন, তাহলে নির্মাতারাও মৌলিক ও মানসম্মত গল্প নিয়ে কাজ করতে উৎসাহিত হবেন। অর্থাৎ পরিবর্তনটা আপনাদের চাওয়ার মাধ্যমেই আসে। নতুন বছরে ‘মা মনি’, ‘ফুলশয্যা’ ও ‘কোহিনুর চেয়ারম্যান–টু’ আসছে। নাটকগুলো দেখার জন্য আপনাদের প্রতি আন্তরিক আমন্ত্রণ রইল।
ঢাকা/রাহাত/শান্ত