ঢাকা     রোববার   ১৭ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ৩ ১৪৩৩ || ২৯ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

সংগ্রাম করে বেঁচে আছে নাটোরের আদিবাসীরা

|| রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:৩০, ১৬ আগস্ট ২০১৩   আপডেট: ০৮:৪৫, ১১ আগস্ট ২০২০
সংগ্রাম করে বেঁচে আছে নাটোরের আদিবাসীরা

জেলা সংবাদদাতা
নাটোর, ১৭ আগস্ট : নাটোরে ওঁরাও, পাহান, পাহাড়ী, সিং, মাহাতো, মুন্ডারী, সাঁওতাল, লোহার, তেলী, রায়, চৌহান, মাল পাহাড়ী, বাগদি, রামদাস, রবিদাস, মল্লিক, গারো, হাড়ী, তুড়ি, ভান্ডারী, ঋষি, কোনাই, মালো নৃগোষ্ঠির ৪৫ হাজার আদিবাসীর বসবাস।

তাদের রয়েছে নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্ম ও আচার-অনুষ্ঠান। সময়ের পরিক্রমায় সহস্র বছরের পুরনো ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে। লিখিত রূপ বা বর্ণমালা না থাকায় অনেকেই ভুলতে বসেছেন নিজস্ব ভাষা।

প্রকৃতি পূজারী আদিবাসীরা প্রকৃতিকে কেন্দ্র করে এবং প্রকৃতির সাথে মিল রেখে বিভিন্ন উত্সব পালন করে। এসব উত্সবের সাথে জড়িয়ে থাকে তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস, শুভ-অশুভ বোধ। এদের মধ্যে অল্প কিছু খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী আছে। তাঁরা জন্ম-মৃত্যু, বিবাহ বা পরিবারের শান্তির উদ্দেশ্যেও কিছু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান করে। এসবের মধ্যে রয়েছে ধান বান গাড়ী, কারাম উত্সব, সহরাই উত্সব, পুংটাডী, ডান্ডা-কাটনা, ফাগুয়া প্রভৃতি।

ধান বান গাড়ী উত্সব: তাঁরা ধান লাগানো ও কাটার সময় উত্সব করে। এ সময় তারা মাদল-ঢোলক ও নিজস্ব কিছু বাদ্যযন্ত্র নিয়ে নিজস্ব ভাষায় নৃত্য-গীত উত্সবে মেতে ওঠে। উত্সব চলে গভীর রাত পর্যন্ত। এরা নিজ সম্প্রদায়ের বাইরে বিয়ে করে না। বিয়েতে ছেলে পক্ষ মেয়ের পিতাকে পণ দেয়। আদিবাসীরা বাঙালিদের সকল খাদ্যই গ্রহণ করে। তবে খরগোশ, শূকর, কুইচ্চা, ব্যাঙ, কচ্ছপ, কাঁকড়া, বনমোরগ, শামুক ইত্যাদি পছন্দ করে। নাটোরের আদিবাসীরা বাংলা ছাড়াও সাদ্রি, কুরুখ, সাঁওতালী, নাগরী (পশ্চিমা), উড়িয়া, পাহাড়ী ভাষায় কথা বলে।

নাটোরের আদিবাসীরা লেখাপড়ায় এখনও অনেক পিছিয়ে। জীবিকার্জনের জন্য ভালো কিছু করার যোগ্যতা তাদের বেশির ভাগেরই নেই। আদিবাসীদের জমি বিক্রি করতে জেলা প্রশাসকের অনুমতি নেয়ার বিধান থাকলেও অনুমতি ছাড়াই অধিকাংশ জমি বিক্রি হয়ে গেছে। আদিবাসী সমাজে শিক্ষার হার বৃদ্ধি, নিজেদের অধিকার আদায়, নিজ ভাষা রক্ষা, নিজ ভূমি রক্ষা, পারিবারিক ও সামাজিক সমস্যার সমাধান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ, সম্প্রদায়ের মধ্যে সমন্বয় সাধন, এডভোকেসি কার্যক্রম, নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, আদিবাসীদের ভূমি জবর-দখলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, স্যানিটারী ল্যাট্রিন স্থাপন, বয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রম, এইচআইভি/এইডস সচেতনতা বৃদ্ধিসহ নানা উন্নয়নমূলক কাজে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো অংশ নিয়েছে।

 

 

রাইজিংবিডি/ আরিফুল/ এমএএস

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়