প্রথম দেখায়ই প্রেম কেন হয়?
কাজী আশরাফ || রাইজিংবিডি.কম
ফাইল ফটো
কাজী আশরাফ : প্রেম-ভালোবাসার বিষয়টি অনেকটাই ভাব বা চেতনাগত ব্যাপার। চোখের দেখা সাহয়কের ভূমিকা পালন করে; সেখান থেকে আবেগ ও তারপর প্রেম। সুতরাং প্রেমকে চোখের ব্যাপার বলে ধরে নেওয়া হয়। তবে সম্ভাব্য জুটি একে অন্যের চিন্তাভাবনা, চালচলন, দৃষ্টিভঙ্গি, মানবতাবোধ প্রভৃতিও বিচার করে। সব দিক বুঝেশুনে তবেই না ভালোবাসা। আজকাল বলা হয়, ভালোবাসা শুধু দৃষ্টির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অনেকে বলেন, এখানে প্রসাধনেরও কিছু ভূমিকা রয়েছে। মানুষ যে নিজেকে আরও সুন্দর ও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপনের জন্য পাউডার, ক্রিম ও সুগন্ধি ব্যবহার করছে, তার পেছনে নিশ্চয়ই কিছু কারণ আছে।
সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের এক গবেষক কিছু নারী কর্মীকে কয়েকজন ছেলের তিন দিনের ব্যবহৃত টি-শার্ট দিয়ে একটি পরীক্ষা চালান। তিনি দেখতে চান, কার কাছে কার গায়ের গন্ধ ভালো লাগে। এরপর তিনি ছেলে ও মেয়েদের ডিএনএ বিশ্লেষণ করেন। বিশেষভাবে তিনি এমএইচসি (মেজর হিস্টোকম্প্যাটাবিলিটি কমপ্লেক্স) জিনটি পর্যবেক্ষণ করেন। এই জিন রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করার পাশাপাশি প্রেমাবেগ সৃষ্টিতেও অবদান রাখে।
দেখা গেছে, যে মেয়ের কাছে যে ছেলের টি-শার্ট ভালো লেগেছে, তার এমএইচসি জিন মেয়েটির ওই জিনের চেয়ে ভিন্ন ধরনের। আরও দেখা গেছে, একই ধরনের এমএইচসি জিনের অধিকারী মেয়েরা একই ধরনের বাণিজ্যিক সুগন্ধি (পারফিউম) পছন্দ করে। এতে বোঝা যায়, এসব পারফিউম যতটা না শরীরের দুর্গন্ধ দূর করে, তার চেয়ে বেশি হয়তো বন্ধু বা বান্ধবীকে আকর্ষণে অবদান রাখে।
এমএইচসি জিনের ভিন্ন ধরন যে পরস্পরকে আকর্ষণে অবদান রাখে, সে বিষয়টি বিবর্তনবাদের দৃষ্টি থেকে বিশ্লেষণ করা যেতে পারে। কারণ, ভিন্ন ধরনের এমএইচসি জিনের মিশ্রণ পরবর্তী বংশধরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রসারে সাহায্য করে। তাই প্রকৃতিই হয়তো প্রেমের পেছনে চোখের সঙ্গে নাকের একটি ভূমিকা নির্ধারণ করেছে। আর প্রসাধনশিল্পের মালিকেরা সেই সুযোগে ব্যবসা জুড়ে বসেছে। তবে হাজার মাইল দূর থেকে ই-মেইলেও প্রেমের সূত্রপাত ঘটে। সেখানে চেখের দেখা বা পারফিউম বিকল। তাই এটা বলা যেতেই পারে- প্রেম বড়ই রহস্যময়! সুতরাং প্রথম দেখায় প্রেম কথাটা যতটা সত্য, কারণ ততটাই অজানা।
রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬/তারা
রাইজিংবিডি.কম
নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারে আসা মার্কিন বিমান ধ্বংসের দাবি ইরানের