ঢাকা     রোববার   ০৫ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ২৩ ১৪৩২ || ১৭ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

মালয়েশিয়া শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট ভাঙার দাবিতে অনশনের হুমকি বায়রা সদস্যদের

নিজস্ব প্রতিবেদক  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:১১, ৫ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ১৭:১২, ৫ এপ্রিল ২০২৬
মালয়েশিয়া শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট ভাঙার দাবিতে অনশনের হুমকি বায়রা সদস্যদের

মালয়েশিয়া শ্রমবাজারকে সিন্ডিকেটের হাত থেকে মুক্ত করে বৈধ বিক্রুটিং এজেন্সির জন্য বাজারটি উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের (বায়রা) সদস্যরা। অন‌্যথায়, তারা আমরণ অনশন করবেন বলে হুমকি দিয়েছেন। 

রবিবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিক কবির মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ হুমকি দেন বায়রার সদস্যরা।

আরো পড়ুন:

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বায়রারর সাবেক ইসি কমিটির সদস্য মোস্তফা মাহমুদ বলেন, “আপনারা সিন্ডিকেট না ভাঙলে আমরা আমরণ অনশনে যাব। বার বার এই বাজারকে সিন্ডিকেটের কবলে পড়তে দেব না। আমরা সবার জন্য ব্যবসা চাচ্ছি। নির্দিষ্ট ১০০ জন কেন ব্যবসা করবে। সিন্ডিকেটের এই ১০০ জন চাচ্ছে, শুধু তারাই ব্যবসা করুক। এই সিন্ডিকেট ২৪ হাজার কোটি টাকা লোপাট করেছে। আমাদের দাবি, দেশে তাদের যথাযথ বিচার নিশ্চিত করা হোক।” 

তিনি বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি, পুনরায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মালয়েশিয়ান শমবাজার উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। ২০১৬ সাল থেকে FWCMS নামের একটি সফটওয়্যার সিস্টেমের মাধ্যমে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সিন্ডিকেটের প্রধান হোতা দাতো শ্রী মোহাম্মদ আমিন নুর ও মোহাম্মদ রুহুল আমিন স্বপন বাজারটি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। Bestinet SDN BHD, FWCMS, SPPA নামক টুলস ব্যবহার করে তারা সিন্ডিকেট প্রতিষ্ঠা করেছে, এসব টুলস হচ্ছে অভিবাসী কর্মীদের শোষণ করার হাতিয়ার। এই নামগুলো নিয়ে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় বয়ে গেছে। ILO, IMOসহ আন্তর্জাতিক বহু সংস্থা এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল।”

“বাংলাদেশের প্রতিটি মিডিয়াতে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সচিত্র প্রতিবেদন বহুবার প্রকাশ হয়েছে। সাবেক স্বৈরাচারী সরকার সিন্ডিকেটের পক্ষে থাকায় সিন্ডিকেটকে বিলুপ্ত করা যায়নি এবং কোনো শাস্তি তাদের হয়নি। ওই দুই পিরিয়ডে সরকারের নির্ধারিত সবোর্চ্চ অভিবাসন ফি ছিল ২০১৬ সালে ৪৭ হাজার এবং ২০২১ সালে ৭৯ হাজার টাকা। দুর্ভাগ্যবশত প্রতিটি কর্মীকে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য ৪ থেকে ৬ লক্ষ টাকা দিতে হয়েছে সিন্ডিকেটের শিকার হয়ে।”

বায়রারর সাবেক ইসি কমিটির এই সদস্য অভিযোগ করে বলেন, “পুরনো পদ্ধতির ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও বদনামের কারণে তারা এই বার নতুন সফটওয়্যার TURAP (The universal recruitment advance platform) ব্যবহার করছেন কর্মী রিক্রুট করা, টাকা নেওয়া ও এজেন্সি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য। Global employment facilitation center এর নাম দিয়ে একটা one stop service center প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে এজেন্সি ও কর্মী নিয়ন্ত্রণ করার জন্য। এবার তাদের স্লোগান হলো— জিরো কষ্টে কর্মী প্রেরণ। বিগত দুইবার যেই টাকা নেওয়ার কথা ছিল, তার থেকে অনেক গুণ বেশি টাকা নেওয়ার কারণে এবার জিরো কষ্টের প্রস্তাব দিচ্ছে। জিরো কষ্টে বাজার উন্মুক্ত করা তাদের একটি কৌশল মাত্র। তাদের প্রস্তাবিত পদ্ধতিতে কর্মী রপ্তানি হলে প্রতিটি কর্মীকে এইবার দিতে হবে ৬-৭ লক্ষ টাকা।”

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি, জিরো কষ্টে কর্মী রপ্তানির আড়ালে তারা ২৫টি এজেন্সি নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। ২৫ এজেন্সির বাইরে অন্য কোনো এজেন্সি কোনো কর্মী রপ্তানি করতে পারবে না বলেও সিন্ডিকেটের সদস্যদের তারা নিশ্চয়তা দিচ্ছেন। যারা সিন্ডিকেটের সদস্য হতে আগ্রহী, তাদের কাছ থেকে ১৫ কোটি টাকা অগ্রিম নিচ্ছে বলেও শোনা যাচ্ছে। একদিকে তারা সরকারকে জিরো কষ্টের কথা বলছে, অন্যদিকে সিন্ডিকেটের সদস্য হওয়ার জন্য ১৫ কোটি টাকা নিচ্ছে।”

“প্রয়োজনে বাংলাদেশ থেকে কর্মী রিক্রুট করার জন্য বাংলাদেশ সরকার তার নিজস্ব সফটওয়্যার সিস্টেম প্রয়োগ করবে, তবু সিন্ডিকেট প্রণীত TURAP মাধ্যমে করব না। আমরা প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী মহোদয়ের নিকট জানাচ্ছি যে, আমরা যেন কিছুতেই সিন্ডিকেটের হোতাদের পাতানো ফাঁদ TURAP এর ফাঁদে পা না দিই। দাতো আমিন ও মোহাম্মদ রুহুল আমিন স্বপনেরা দীর্ঘ অনেক বছর থেকে মালয়েশিয়ান শ্রমবাজারকে জিম্মি করে রেখেছে। তাদের জিম্মি দশা থেকে বাজারটি মুক্ত করে সকল বৈধ এজেন্সির জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানাচ্ছি।”

ঢাকা/রায়হান/রফিক

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়