বাইসাইকেলের ইতিহাস
সাতসতেরো ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
ছবি: চ্যাটজিপিটির সাহায্যে তৈরি
বর্তমান বিশ্বে জ্বালানি সংকট, পরিবেশ দূষণ এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি—এই তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ মানুষের জীবনযাত্রাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। এমন পরিস্থিতিতে সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্যকর যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে বাইসাইকেল আবারও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। জ্বালানিনির্ভর যানবাহনের বিকল্প হিসেবে এটি যেমন ব্যয় কমায়, তেমনি শরীরচর্চারও একটি সহজ উপায়। ফলে আধুনিক ব্যস্ত জীবনে বাইসাইকেল শুধু একটি বাহন নয়, বরং একটি সচেতন জীবনধারার প্রতীক হয়ে উঠেছে।এই আধুনিক জনপ্রিয়তার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস ও ধারাবাহিক উদ্ভাবনের গল্প। নিচে সময়রেখা অনুযায়ী বাইসাইকেলের সেই বিবর্তন তুলে ধরা হলো—
১৪১৮ সাল: ইতালীয় প্রকৌশলী জিওভান্নি ফন্টানা চারটি চাকার সঙ্গে দড়ি সংযুক্ত করে মানুষচালিত এক ধরনের যান তৈরি করেন। এটি ছিল বাইসাইকেলের প্রাথমিক ধারণা।
১৮১৭ সাল: জার্মান উদ্ভাবক কার্ল ভন দ্রাইস দুই চাকার একটি বাহন তৈরি করেন, যা আধুনিক সাইকেলের আদিরূপ হিসেবে বিবেচিত। এতে প্যাডেল বা চেইন ছিল না—পা দিয়ে ঠেলে চালাতে হতো।
১৮৬৬ সাল: প্যাডেলযুক্ত সাইকেল নিয়ে মতভেদ থাকলেও ফরাসি উদ্ভাবক পিঁয়েরে ল্যালমেন ১৮৬৬ সালে এর প্যাটেন্ট পান। তখন সাইকেল পরিচিত ছিল ‘ভেলোসিপেড’ নামে।
১৮৬৭ সাল: ফরাসি সহোদর এইম অলিভার ও রেনে অলিভার তাঁদের বন্ধু জর্জ দে লা ব্যুজিলিসকে সঙ্গে নিয়ে ভেলোসিপেড উৎপাদন শুরু করেন। ইউরোপজুড়ে এটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
১৮৭১ সাল: ব্রিটিশ উদ্ভাবক জন কেম্প স্টার্লি ‘এরিয়েল’ নামের উন্নত সাইকেল বাজারে আনেন, যা আগের নকশার ত্রুটি অনেকটাই দূর করে।
১৮৭৪ সাল: স্টার্লি পাতলা স্পোকযুক্ত সাইকেল তৈরি করেন। এতে সাইকেলের ওজন কমে যায় এবং নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।
১৮৮৪ সাল: ব্রিটিশ পরিব্রাজক টমাস স্টিভেন্স একটি উচ্চ চাকার সাইকেলে চড়ে বিশ্বভ্রমণে বের হন—যা ইতিহাসে প্রথম সাইকেলভিত্তিক বিশ্বভ্রমণ হিসেবে পরিচিত।
১৮৮৫ সাল: স্টার্লির উদ্ভাবিত ‘রোভার’ বাইসাইকেল বাজারে আসে। সমান আকারের চাকা, চেইন ও গিয়ার ব্যবস্থার কারণে এটিকেই আধুনিক সাইকেলের সূচনা ধরা হয়।
১৮৯২ সাল: মার্কিন উদ্ভাবক আর্থার হচকিস যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে সাইকেল চলাচলের জন্য বিশেষ ‘বাইক রেলপথ’ তৈরি করেন, যা নিরাপদ যাত্রায় নতুন দিগন্ত খুলে দেয়।
১৯৭০ সাল: বিশ্বজুড়ে বাইসাইকেলের ব্যাপক জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই তখন প্রায় সাড়ে সাত কোটি সাইকেল ব্যবহারকারী ছিলেন।
ঢাকা/লিপি
অফিস ৯টা-৪টা, সন্ধ্যা ৬টার পর বন্ধ মার্কেট