সাপ্তাহিক বন্ধের দিনেও পাম্পগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি
রাজধানীর একটি পাম্প থেকে মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল নিচ্ছেন গ্রাহক।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত ঘিরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারেও। এরই প্রেক্ষাপটে সাপ্তাহিক বন্ধের দিন শুক্রবারও (৪ এপ্রিল) রাজধানীর জ্বালানি তেল পাম্পগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারির চিত্রে কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।
ঢাকার রমনা, বিজয় সরণি, মতিঝিল ও সংসদ ভবন সংলগ্ন বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা গেছে- ভোর থেকেই যানবাহনের সারি। যা কোথাও কোথাও এক কিলোমিটারেরও বেশি দূর পর্যন্ত চলে গেছে। মোটরসাইকেল-প্রাইভেটকার চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন তেলের অপেক্ষায়।
আরো পড়ুন: প্যানিক বায়িং হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: জ্বালানিমন্ত্রী
কয়েকজন চালক জানান, অনেক ভেবেছিলেন, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে হয়তো চাপ কিছুটা কম থাকবে। বাস্তবে এসে তাদের সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে।
মতিঝিল এলাকায় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেল চালক হাশেম মিয়া বলেন, “আজকে ছুটির দিন, তাই একটু দেরিতে এলেও তেল পাওয়া যাবে ভেবেছিলাম। এসে দেখি লাইনের শেষই নেই। এখন প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি।”
রমনা এলাকায় তেলের জন্য দাঁড়িয়ে থাকা প্রাইভেটকার চালক মিনহাজ উদ্দিন বলেন, “প্রতিদিন একই অবস্থা। ১৫০০ টাকার বেশি তেলও দিচ্ছে না, ফলে বারবার আসতে হচ্ছে।”
সরেজমিনে দেখা যায়, তেল সরবরাহ সীমিত রাখার কারণে প্রতিটি যানবাহনে নির্দিষ্ট পরিমাণে জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে। মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার এবং প্রাইভেটকারে ১৫০০ টাকার তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে চালকদের ভোগান্তি বাড়ছে বহুগুণে।
তেলের জন্য পাম্পের বাইরে যানবাহনের সারি
এদিকে নির্ধারিত সময়সূচি মেনেই তেল বিতরণ কার্যক্রম চলছে। তেল মজুত থাকা সাপেক্ষে শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এবং শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত পাম্প খোলা রাখা হচ্ছে।
পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হক রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “ডিপো থেকে আমাদের যতটুকু সরবরাহ করা হচ্ছে, সবটুকুই আমরা ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রি করছি। এর বেশি আমি আর কিছু বলতে পারব না।”
জ্বালানি সংকটের অভিযোগের মধ্যেই জাতীয় সংসদে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। সম্প্রতি সংসদ অধিবেশনে তিনি জানান, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই, বরং গত বছরের তুলনায় সরবরাহ আরো বৃদ্ধি করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি পরিবহনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবুও সরকার আগাম প্রস্তুতি, ধারাবাহিক আমদানি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রেখেছে।
সংসদে দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে ডিজেলের মজুদ রয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার মেট্রিক টন। সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত ৪১ দিনে ৪ লাখ ৮২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল বিক্রি হয়েছে। এত বিপুল সরবরাহের পরও মজুত বৃদ্ধি পাওয়াকে কার্যকর ব্যবস্থাপনার প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
সরকার ডিজেলের পাশাপাশি অকটেনের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য ইতোমধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী এপ্রিলে মাসে ৫০ হাজার মেট্রিক টন অকটেন আমদানির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ ছাড়া দেশীয় উৎস থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন পাওয়া যাবে। অর্থাৎ মাসে অকটেনের যে চাহিদা ৩৫ হাজার মেট্রিক টন হলেও সরকারের মজুতের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে তাতে আরো দুই মাসের চাহিদা পূরণ হবে।
তবে, মাঠপর্যায়ে পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সারি, সীমিত সরবরাহ এবং বাস্তব চিত্রের সঙ্গে সরকারি বক্তব্যের এই পার্থক্য সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ তৈরি করছে। সরবরাহ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই দুর্ভোগ অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা/এমএসবি/মাসুদ
অফিস ৯টা-৪টা, সন্ধ্যা ৬টার পর বন্ধ মার্কেট