ঢাকা     শুক্রবার   ০৩ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ২০ ১৪৩২ || ১৪ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

গোপালগঞ্জে জ্বালানির সংকটে সেচ বন্ধের আশঙ্কা

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:০৬, ৩ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ১৩:২৮, ৩ এপ্রিল ২০২৬
গোপালগঞ্জে জ্বালানির সংকটে সেচ বন্ধের আশঙ্কা

তেলের জন্য বোতল হাতে গোপালগঞ্জের একটি পাম্পে অপেক্ষা করছেন কৃষক

গোপালগঞ্জে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে কৃষি কার্যক্রম। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বোরো ধান চাষিরা। ঘন্টার পর ঘন্টা ফিলিং স্টেশনগুলোতে দাঁড়িয়ে থেকেও সেচের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তারা। চাষিদের ভাষ্য, জমি সেচ দিতে না পারলে ধানসহ অন্যান্য ফসল চাষাবাদে দেখা দিবে অনিশ্চয়তা। কৃষি বিভাগ বলেছে, কৃষকরা যাতে পর্যাপ্ত তেল পান সে ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে গোপালগঞ্জ শহরতলীর বেদগ্রাম এলাকার মিতা ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, ড্রাম, বোতল আর বিভিন্ন পাত্র নিয়ে ডিজেল পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন কৃষকরা। কখন প্রয়োজনীয় তেল পেয়ে জমি সেচ দিয়ে ফসল রক্ষা করবেন সেই চিন্তাই যেন ছিল তাদের চোখে মুখে। দীর্ঘ সময় বসে থাকার পরও অনেক চাষিকে তেল না পেয়ে খালি হাতে ফিরতে দেখা গেছে।

আরো পড়ুন:

ফিলিং স্টেশনগুলোর মালিকরা বলছেন, ডিপো থেকে চাহিদা মতো তেল পাওয়া যাচ্ছে না। ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে কৃষকসহ সাধারণ গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় তেল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। 

স্থানীয় কৃষক শারফুল শরীফ বলেন, ‍“প্রতিদিন আমার কমপক্ষে ৫ লিটার তেল দরকার। গত ৫ দিন আগে মাত্র ১ লিটার তেল পেয়েছিলাম। এ কারণে ৩-৪ দিন জমি সেচ দিতে পারিনি। বৃহস্পতিবার ভোরে পাম্পে তেল নিতে যাই। ৩ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাইনি। এভাবে চলতে থাকে তাহলে আমার জমির সব ধান নষ্ট হয়ে যাবে। তাহলে সারা বছর পরিবার নিয়ে কি ভাবে চলব আমি।”

অপর কৃষক শুহিন মোল্যা বলেন, “তেলের অভাবে কয়েকদিন ধরেই ধানের জমিতে পানি দিতে পারছি না। মাটি শুকিয়ে যাচ্ছে, গাছ নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। যদি দ্রুত তেলের ব্যবস্থা না হয়, তাহলে আমাদের বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। এমনকি কৃষি কার্ড দিয়েও আমরা তেন পাচ্ছি না।”

৮-১০টি জমিতে সেচ দেওয়ার দায়িত্বে থাকা ব্লক ম্যানেজার আব্দুস সালাম সিকদার বলেন, “প্রতিনিদ আমাকে জমিতে সেচ দিতে হয়। প্রতিদিন আমার ১৫ লিটার ডিজেল প্রয়োজন। কিন্তু বিভিন্ন পাম্পে ঘোরাঘুরি করে ২ বা ৩ লিটার তেল পাই, তা দিয়ে কোনভাবেই জমিতে প্রয়োজনীয় সেচ দেওয়া যায় না। ফলে বোরো ধানে শীষ আসলেও পানির অভাবে শীষ নষ্ট হবার উপক্রম দেখা দিয়েছে।” 

জেলা শহরের নিগি ফিলিং স্টেশনের মালিক মিজুনুর রহমান লফিজ বলেন, “পাম্পে যে পরিমান ডিজেল আসে তা দিয়ে কৃষকদের চাহিদা মতো তেল দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে অনেক কৃষক চাহিদা মতো তেল পাচ্ছেন না। যদি ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল পাওয়া যায়, তাহলে তেল বিতরণ কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে।”

গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. মামুনুর রহমান বলেন, “জেলায় ডিজেলের সংকট এখনো দেখা দেয়নি। এখন বোরো মৌসুম চলছে। চলতি মৌসুমে গোপালগঞ্জে ৮২ হাজার ৫৮৮ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। এখন জমিতে সেচ দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সময়। কোনো কৃষক যদি তেল না পায় তাহলে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে। ওই কৃষকের জমি রয়েছে কি না তা নিশ্চিত করে তেল দেওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

ঢাকা/বাদল/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়