ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৯ মে ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

করোনাভাইরাসের উত্স চোরাই পথে চীনে আসা প্যাঙ্গোলিন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৩-২৯ ১:৪৩:৩৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৩-২৯ ১:৫৯:৩০ পিএম

ধারণা করা হয়, মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া রোগের বেশি ধরনের সংক্রমণ বিভিন্ন প্রাণী থেকে, বিশেষ করে বন্যপ্রাণী থেকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞরা নতুন করোনাভাইরাসটি বাদুর থেকে ছড়ানোর সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন। অনেকের ধারণা, করোনা মহামারির উত্পত্তি হয়েছে চীনের উহান শহরে সামুদ্রিক মাছ পাইকারি বিক্রি হয় এমন একটি বাজার থেকে। বিজ্ঞানীদের আরো গবেষণার পর করোনাভাইরাসের উৎস হিসেবে নতুন করে উঠে এসেছে প্যাঙ্গোলিন নামের একটি প্রাণী। পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি চোরাই পথে পাচার হওয়া স্তন্যপায়ী প্রাণী প্যাঙ্গোলিন, তার দেহে করোনাভাইরাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত একটি ভাইরাস পাওয়ো গেছে।

এই প্যাঙ্গোলিন চীনে খাবার হিসেবে যেমন ব্যবহার করা হয়, তেমনই ঐতিহ্যবাহী ওষুধ তৈরির জন্যও ব্যবহৃত হয়। এই প্রাণীর মাংস চীনাদের কাছে উপাদেয় খাবার, ঐতিহ্যবাহী ওষুধ তৈরিতে এর গায়ের আঁশের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। জার্নাল ন্যাচারে প্রকাশিত গবেষণায় গবেষকরা বলেছেন, এসব প্রাণী নিয়ে নাড়াচাড়া করার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। করোনাভাইরাসের মতো কোনো প্রাণঘাতী রোগ বিশ্বব্যাপী সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে হলে বন্যপ্রাণীর বাজারে প্যাঙ্গোলিনের মতো প্রাণী বিক্রি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা উচিত। তবে এই প্রাণী থেকে রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কতটা সেটা জানতে আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষা দরকার।

আপাতত বিশ্বব্যাপী প্রাণঘাতী হয়ে ওঠা এই করোনার সঙ্গে সম্পর্কিত ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে চীনে পাচার হওয়া মালয়ান প্যাঙ্গোলিনের শরীরে। হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. টমি ল্যামের দাবি, নোভেল করোনাভাইরাসের সঙ্গে মিল থাকা দুই ধরনের করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে এর দেহে। তিনি বলেছেন, ‘সার্স-কোভ-২ এর প্রাদুর্ভাবের সরাসরি পোষক হিসেবে প্যাঙ্গোলিনের ভূমিকা আসলেই আছে কিনা সেটা নিশ্চিত হওয়ার জন্য এখনও সময় দরকার, তবে ভবিষ্যতে এধরনের প্রাণী থেকে পৃথিবীতে মহামারি ছড়ানো ঠেকাতে হলে কঠোর হাতে এগুলো বিক্রি নিষিদ্ধ করা উচিত।’

বাদুড়ের দেহেও করোনাভাইরাস আছে, তার সঙ্গে মানুষের দেহে সংক্রমিত ভাইরাসের আরো বেশি মিল আছে। শুধু একটি অংশ- যা মানুষের দেহের কোষ ভেদ করে ভেতরে ঢুকতে ভাইরাসটিকে সহায়তা করে- তার সঙ্গে মিল নেই।

সহ-গবেষক সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এডওয়ার্ড হোমস বলেন, ‘এর অর্থ হলো মানুষকে সংক্রমিত করার ক্ষেত্রে এমন কিছু ভাইরাস বন্যপ্রাণীদের মধ্যে আছে যা নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে। করোনাভাইরাসের সঙ্গে বাদুড়ের সম্পর্ক নিশ্চিত আছে, হয়তো প্যাঙ্গোলিনও সম্পর্কিত, তবে অন্য কোনো প্রাণীর জড়িত থাকারও জোর সম্ভাবনা রয়েছে।’

ঠিক কীভাবে ভাইরাসটি একটি বন্যপ্রাণীর দেহ থেকে বেরিয়ে আরেকটি প্রাণীর দেহে গেলো এবং তারপর সেখান থেকে মানুষের শরীরে প্রবেশ করলো তা এখনো বিজ্ঞানীদের কাছে রহস্যজনক। সম্ভবত হর্সশু প্রজাতির বাদুড় আর প্যাঙ্গোলিন দুই ধরণের প্রাণীই এর সঙ্গে সম্পর্কিত, কিন্তু ভাইরাস বিস্তারের ঘটনাক্রম এখনো অজানা।

চোরাই পথে চীনে ঢোকা মালয়ান প্যাঙ্গোলিনের দেহে এ ভাইরাস পাওয়ার পর থেকে প্রশ্ন উঠেছে- তার দেহে ভাইরাস ঢুকলো কীভাবে? ডা. ল্যামেরও একই প্রশ্ন। তাহলে সেটা কি চোরাই পথে আসার সময় আশপাশে থাকা বাদুড় থেকে এসেছিল নাকি দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থলেই তাদের দেহে ঘটেছিল ভাইরাসের সংক্রমণ?

অবশ্য বন্যপ্রাণী থেকে এ ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি রোধে এরই মধ্যে চীন বণ্যপ্রাণীর মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

লন্ডনের প্রাণীবিজ্ঞানী অধ্যাপক এন্ড্রু কানিংহ্যাম বলছেন, এই গবেষণাপত্র থেকে একলাফে কোনো উপসংহারে পৌঁছানো সঠিক হবে না। তার মতে, করোনাভাইরাসের উৎস এখনো অজানা। হয়তো প্যাঙ্গোলিনের দেহে প্রাকৃতিক কোনো ভাইরাস ছিল কিংবা এটি ধরা বা হত্যার সময় অন্য কোনো প্রাণীর থেকে ‍ঢুকেছিল।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. ড্যান চ্যালেন্ডার বলেছেন, করোনাভাইরাসের উৎস হিসেবে প্যাঙ্গোলিনকে ভাবা হচ্ছে। তবে বর্তমান মহামারির উদ্ভব জানতে হলে এবং ভবিষ্যতে এধরনের পরিস্থিতি ঠেকাতে সার্স-কোভ-২ এর সঠিক উৎস জানাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।



ঢাকা/ফাহিম