চুপ হয়ে গেছেন ইমরান খানের সমর্থকরা, তবে...
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে শনিবার যখন দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তখন দেশের কোথাও প্রতিবাদ-বিক্ষোভ হয়নি।
গ্রেপ্তারের পর দু’দিন পেরিয়ে গেলেও দেশের কোথাও কোনো বড় ধরনের বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায়নি।
তবে কয়েক মাস আগে প্রথম দফায় যখন ইমরানকে গ্রেপ্তার করা হয়, তখন চিত্রটি ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। ৭০ বছর বয়সী ইমরানকে ৯ মে ইসলামাবাদের একটি আদালত প্রাঙ্গন থেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার পর সারাদেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। কিছু কিছু জায়গায় বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নিয়েছিল। খানের সমর্থকদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষও হয়। কিছু বিক্ষোভকারী সামরিক ভবনে হামলা চালায় এবং এমনকি লাহোরের সিনিয়র সামরিক কমান্ডারের বাড়িতেও লুটপাট চালায়।
কিন্তু শনিবার ইমরান খানকে দণ্ড দেওয়ার পরপর তাকে যখন অ্যাটক শহরের একটি কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত ছিল। তার গন্তব্য গোপন রাখা হয়েছিল। গণমাধ্যমকে প্রতারিত করার জন্য পুলিশের বেশ কয়েকটি ভুয়া কনভয়ের তথ্য জানানো হয়। পুলিশ এবং সামরিক বাহিনী সব বড় শহরে উচ্চ সতর্কতায় ছিল। ইমরানের দলের কয়েক ডজন লোককে আগে থেকেই পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল।
পাকিস্তানের শাসক দল এবং সেনাবাহিনী ইমরান খানের গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অভাবের দিকে ইঙ্গিত করে দাবি করেছে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে আর জনগণের সমর্থন নেই। কিন্তু ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফ (পিটিআই) এবং সমর্থকরা বলছেন, দ্রুত ক্র্যাকডাউনের মাধ্যমে তাদের নীরব থাকতে বাধ্য করা হয়েছে। বিবিসি নিজস্ব অনুসন্ধানে জানতে পেরেছে, পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোকে পিটিআই-এর কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে কিংবা ইমরান খানের কোনো সংবাদ প্রচার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মে মাস থেকে ইমরান খানের হাজার হাজার সমর্থককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এই সমর্থকদের তারা সামরিক আদালতে বিচার করতে চায়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলেছে, এটি আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। পিটিআইকেও পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে, দলের অসংখ্য কর্মী ও নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বা মামলার আসামি করা হয়েছে। ইমরান খান নিজে এখনও প্রায় ২০০টি মামলার শিকার। বেশ কিছু পিটিআই সদস্য মে মাস থেকে রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছেন বা পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার পথে রয়েছেন।
সিনিয়র রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলি আকবর বলেছেন, কেবল কর্মী-সমর্থকরা গ্রেপ্তারের ভয় পাননি, বরংপিটিআই-তে নেতৃত্বের অভাবের কারণে তারা সমর্থন জোগাড় করতেও অক্ষম ছিলেন। এই কারণেই ইমরান খানের প্রতিবাদের আহ্বান এবার সমর্থকদের কানে গেল না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পিটিআইয়ের এক সমর্থক জানিয়েছেন, দলের নেতাদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ দেখে তিনি ভয়ে চুপসে গেছেন- এমনকি অনলাইনেও।
তিনি বলেন, ‘আমি এরপরও টুইটারে দলটিকে সমর্থন করতাম। কিন্তু একদিন আমি একটি বেনামী নম্বর থেকে ফোন কল পাই, তাতে আমাকে এই ধরনের টুইট পোস্ট করার বিরুদ্ধে সতর্ক করা হয়। আমি ভয় পেয়েছিলাম এবং আমার বাবা-মা আমাকে টুইটার অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কারণ তারা বলেছিলেন, আমি গ্রেপ্তার হলে আমাকে সাহায্য করার মতো কেউ আসবে না।’
ঢাকা/শাহেদ