এবার কলম্বিয়া ও কিউবায় সরকার পতনের হুমকি ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন বিশেষ বাহিনীকে দিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের পর, এবার তার মিত্র কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকেও হুমকি দিয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরো বলেছেন, কিউবার সরকারও খুব শিগগির পতনের মুখে পড়বে। খবর আল-জাজিরার।
স্থানীয় সময় রবিবার ফ্লোরিডা থেকে ওয়াশিংটন ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, কলম্বিয়া এবং ভেনেজুয়েলা উভয় দেশই ‘খুব অসুস্থ’ এবং বোগোটা (কলম্বিয়ার রাজধানী) সরকার একজন ‘অসুস্থ মানুষ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, যিনি কোকেন তৈরি করতে এবং তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করতে পছন্দ করেন।’
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট পেত্রোর কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, “এবং সে এটি খুব বেশিদিন করতে পারবে না। আমি আপনাদের বলছি।”
কলম্বিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অভিযানের কথা তিনি বোঝাচ্ছেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “শুনতে তো ভালোই লাগছে।”
ট্রাম্পের এমন মন্তব্যে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে কলম্বিয়া থেকে। দেশটির প্রেসিডেন্ট লাতিন আমেরিকার সব দেশকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অন্যথায় তাদেরকে ‘সেবক এবং দাসের মতো আচরণ’ সহ্য করতে হবে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ একটি দীর্ঘ পোস্টে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট লেখেন, “আমেরিকা হলো বিশ্বের প্রথম দেশ যারা মানব ইতিহাসে দক্ষিণ আমেরিকার কোনো রাজধানীতে বোমা হামলা চালিয়েছে।” তিনি আরো বলেন, “এই ক্ষত দীর্ঘকাল খোলা থাকবে, তবে প্রতিশোধ এর সমাধান নয়।”
পেত্রো বলেন, “লাতিন আমেরিকাকে অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং এমন একটি অঞ্চলে পরিণত হতে হবে যার ‘পুরো বিশ্বের সঙ্গে আলোচনা, বাণিজ্য করার এবং একত্রিত হওয়ার ক্ষমতা আছে’ এবং যারা ‘কেবল উত্তরের দিকে নয় বরং সব দিকে তাকাবে।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানে ‘অনেক কিউবান’ নিহত হয়েছে। কিউবায় মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা কম কারণ দ্বীপটি এমনিতেই পতনের জন্য প্রস্তুত বলে মনে হচ্ছে।
ট্রাম্প বলেন, “কিউবা পতনের জন্য তৈরি। কিউবাকে দেখে মনে হচ্ছে এটি পতনের জন্য প্রস্তুত। আমি জানি না তারা কীভাবে এটি ধরে রাখতে পারবে, তবে কিউবার এখন কোনো আয় নেই। তারা তাদের সব আয় ভেনিজুয়েলার তেল থেকে পেত। তারা এখন তার কিছুই পাচ্ছে না। কিউবা আক্ষরিক অর্থেই পতনের জন্য প্রস্তুত।”
রবিবার কলম্বিয়া এবং কিউবার বিরুদ্ধে ট্রাম্পের হুমকি এটিই প্রথম নয়। গত সপ্তাহের শেষের দিকেও ট্রাম্প বলেছিলেন, কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টকে ‘সাবধানে থাকতে হবে’ এবং কিউবার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এমন একটি বিষয় যা নিয়ে ‘শেষ পর্যন্ত আমাদের কথা বলতে হবে, কারণ কিউবা একটি ব্যর্থ জাতি।”
বিশেষজ্ঞরা আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, ট্রাম্প কলম্বিয়া ও কিউবার বিরুদ্ধে তার হুমকি কার্যকর করবেন কিনা, নাকি ওয়াশিংটনের সঙ্গে সহযোগিতা করতে তাদেরকে বাধ্য করাই তার লক্ষ্য- তা বলা এখনই খুব দ্রুত হয়ে যাবে।
ইউনিভার্সিটি অব সিডনির ইউএস স্টাডিজ সেন্টারের সহযোগী অধ্যাপক ডেভিড স্মিথ বলেন, “এটি ভবিষ্যদ্বাণী করা খুব কঠিন। ট্রাম্প যেভাবে কাজ করেন তা দেখলে বোঝা যায়, তিনি সবসময় আশা করেন অন্য দেশগুলো খুব বেশি শক্তি প্রয়োগ ছাড়াই তার কথা শুনবে। ইরানে বোমা হামলা বা ভেনেজুয়েলায় এই অভিযানের মতো সংক্ষিপ্ত ও নাটকীয় শক্তি প্রদর্শন অন্য দেশগুলোকে ট্রাম্পের ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করতে ভয় দেখায়।”
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকার ও মেক্সিকোর বিরুদ্ধে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
শনিবার মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে এক আকস্মিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে অপহরণ ও আটক করে। মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আজ সোমবার নিউ ইয়র্কের একটি আদালতে মাদক সংক্রান্ত অভিযোগে হাজির করার কথা রয়েছে।
রবিবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন ভেনেজুয়েলার ‘দায়িত্বে’ রয়েছে। এদিকে, ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিযুক্ত করেছেন।
ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেন, “ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকার যদি যুক্তরাষ্ট্রের কথা না মেনে চলে তাহলে, দেশটিতে আবারো ভয়াবহ হামলা চালানো হবে।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রতিবেশী মেক্সিকোকেও সতর্ক করে বলেন, দেশটির ‘অবস্থা ঠিক করতে হবে কারণ মেক্সিকো দিয়ে মাদক উপচে পড়ছে এবং আমাদের কিছু একটা করতে হবে।”
তিনি মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবাউমকে একজন ‘চমৎকার ব্যক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং বলেন যে, যখনই তিনি তার সঙ্গে কথা বলেছেন তখনই মেক্সিকোতে মার্কিন সেনা পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। মেক্সিকান সরকার এই সমস্যা মোকাবিলায় সক্ষম, “কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত মেক্সিকোতে কার্টেলগুলো (মাদক চক্র) খুব শক্তিশালী”, ট্রাম্প বলেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরো যোগ করেন, “আপনি পছন্দ করেন বা না করেন, কার্টেলগুলোই মেক্সিকো চালাচ্ছে।”
ঢাকা/ফিরোজ