ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২১ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ৭ ১৪৩৩ || ৪ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

রামিসা হত্যার বিচার দ্রুত করতে যা দরকার সবই করব: আইনমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:৪০, ২১ মে ২০২৬  
রামিসা হত্যার বিচার দ্রুত করতে যা দরকার সবই করব: আইনমন্ত্রী

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। 

ঢাকার পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনার বিচার দ্রুত করতে যা যা প্রয়োজন তার সবই করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। 

তিনি বলেন, “শিশুটার জন্য সবার মন খারাপ। বিচারটা যেন ঝুলে না থাকে, সেটাই এখন সরকারের মাথাব্যথা।”  

আরো পড়ুন:

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। 

তিনি বলেন, “দেখেন, আছিয়ার পর আবার রামিসা। মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙছে। আমাদের হাতে যা আছে, সবটুকু করব। দ্রুত চার্জশিট, দ্রুত ট্রায়াল যেভাবে পারি।”

মন্ত্রী জানান, আজ সকালেই তিনি পুলিশ কমিশনারকে ফোন দিয়েছেন। তদন্ত রিপোর্ট এক সপ্তাহের মধ্যে চেয়েছেন।

রামিসার বাবা আদালতের ওপর ভরসা হারাচ্ছেন এই অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন,“ বাবার রাগ-অভিমান ফেলে দেওয়া যায় না। তার জায়গায় আমি থাকলেও একই কথা বলতাম। বিচারব্যবস্থার গতি নিয়ে মানুষের ক্ষোভ আছে, মানি। ওই জটটা খুলতেই হবে।”

আছিয়ার মামলার কথা টানলেন তিনি। সাত দিনে চার্জশিট, এক মাসে বিচার শেষ ওই গতিতেই রামিসারটা করতে চান জানিয়ে তিনি বলেন, “তবে একটা বাধা আছে। ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে যাবে। ওখানে পেপার বুক, সন তারিখ এসব নিয়ম আছে। আমি নিজে মনে করি এটা ভুল সিস্টেম। গুরুত্ব বুঝে ফাইল আগে তোলা দরকার। এটা নিয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলব।”

রামিসার বাবার হতাশার জবাবে তিনি বলেন, “আমরা কাজে প্রমাণ দিয়েই দেব।” 

এর আগে গত ১৯ মে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর–১১ নম্বরের সেকশনের বি ব্লকের সাত নম্বর সড়কের ৩৯ নম্বর বাড়ির তিনতলার একটি ফ্ল্যাট থেকে রামিসার খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শিশুটিকে হত্যার পর তার মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। বিচ্ছিন্ন মাথা শৌচাগারে পাওয়া যায়। শিশুটির শরীরের মূল অংশটি পাওয়া যায় খাটের নিচ থেকে।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত  সোহেল রানা ওই কক্ষে দুই মাস আগে স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস শুরু করেন। ঘটনার পর তিনি শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান। তবে ওই বাসা থেকে তার স্ত্রীকে তখনই আটক করা হয়।

পুলিশ ও পরিবার জানায়, রামিসা আক্তার স্থানীয় একটি স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত। তার বাবার নাম আবদুল হান্নান মোল্লা। তিনি একটি রিকুটিং এজেন্সিতে চাকরি করেন। মায়ের নাম পারভীন আক্তার। তাদের দুই মেয়ের মধ্যে রামিসা ছোট। বড় মেয়ে রাইসা আক্তার স্থানীয় একটি স্কুলের নবম শ্রেণিতে পড়ে। পরিবারটি প্রায় ১৭ বছর ধরে পল্লবীর মিরপুর–১১ নম্বরের সেকশনের বি ব্লকের সাত নম্বর সড়কের ৩৯ নম্বর বাড়ির তিনতলার উত্তর পাশের ফ্ল্যাটে বসবাস করছে। শিশুটির লাশ পাওয়া যায় পাশের ফ্ল্যাটের একটি কক্ষ থেকে।

ঢাকা/এএএম/ইভা 

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়