ঢাকা     রোববার   ০৫ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ২২ ১৪৩২ || ১৬ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ঘুরে আসুন কুষ্টিয়ার লালন মাজার

|| রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:৪৮, ১৮ এপ্রিল ২০১৩   আপডেট: ০৮:৪৫, ১১ আগস্ট ২০২০
ঘুরে আসুন কুষ্টিয়ার লালন মাজার

তানজিনা আফরিন ইভা
হাতে দু’একদিন সময় থাকলে খুব সহজেই ঘুরে আসতে পারেন কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়া গ্রাম থেকে যেখানে রয়েছে মরমী সাধক লালনের মাজার। কালী নদীর পাড়ে লালন আখড়ার আকর্ষণে প্রতিদিনই দেশ বিদেশের অনেক মানুষ সেখানে যান। এখানে বসেই বাউল সম্রাট গেয়েছিলেন মানবধর্মের গান।

শ্রেণীজাতের উর্দ্ধে উঠে মানুষের মাঝে নিজেকে খুঁজে পেতে চেয়েছিলেন ফকির লালন শাহ। তিনি দেখেছেন মানুষে মানুষে কোন ভেদ নেই, আলাদা করলে কেবল থাকে নারী পুরুষ। মানুষের ভজন সাধনার মাঝেই তিনি খুঁজে ফিরেছেন সৃষ্টি আর শ্রষ্ঠাকে। অমর সৃষ্টি আর অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্ভাসিত ছেঁউড়িয়ার লালন আখড়া এখনও বিশ্বের কোটি হৃদয়কে স্পর্শ করে। লালনভুমি দেখতে তাই মানুষের এত আঁকুতি। আপনিও যেতে পারেন একা, দলবদ্ধ হয়ে বা পরিবার নিয়ে।   

লালনের আখড়া বাড়ির আয়তন সাড়ে ১৪ একর। সরকারি সহয়তায় যেখানে নতুন করে গড়ে উঠেছে লালন একাডেমি ভবন ও কমপ্লেক্স । লালন কমপ্লেক্সে আগত দর্শনার্থীদের জন্য সুযোগ সুবিধাও বেড়েছে আগের তুলনায় অনেক। এখন দর্শনার্থীরা ছেঁউড়িয়ায় গিয়ে রাত্রিযাপনেরও বন্দোবস্ত পাবেন। থাকার ভালো ব্যবস্থা আছে কুষ্টিয়া শহরে।        

সাঁইজির আখড়া বাড়িতে দোল পূর্ণিমার তিথিতে পাঁচ দিনব্যাপি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দোল পূর্ণিমায় তার আর্বিভাব উৎসব আর পয়লা কার্তিক পালিত হয় লালনের তিরোভাব তিথি। আনুষ্ঠানে দেশী-বিদেশী পর্যটক ও লালন ভক্তানুরাগীদের সমাগম হয়। তখন লালন একাডেমি চত্বরে তিল ধারনের ঠাঁই থাকে না।

বাউল স¤্রাট ফকির লালন শাহ তাঁর জীবদ্দ¦শায় দোল পূর্ণিমার তিথিতে স্মরণোৎসব পালন করতেন। সেই ধারাবাহিকতায় প্রতি বছর দোল পূর্ণিমায় পালন করা হয় তাঁরই স্মরণোৎসব। দোল পূর্ণিমা উপলক্ষ্যে কালী নদীর তীরে অবস্থিত উন্মক্ত মঞ্চে  লালন বিষয়ক  আলোচনা, লালনগীতি পরিবেশন এবং আখড়া বাড়ির এলাকা জুড়ে বসে লালন মেলা। সাধু ভক্তরা আসেন দেশ বিদেশ থেকে। তারা জীবন সাধনায় ব্রতী হন।    

 মাজার কমপ্লেক্সে সাঁইজিসহ মোট ৩২ টি সমাধি আছে। এর মধ্যে ১৪টি সাঁইজির  মুরিদ, ১ জন প্রশিষ্য আর বাকি তার অনুসারীদের ।

ঢাকা থেকে কুষ্টিয়ার লালন মাজারে যাওয়ার জন্য বাস ট্রেন সার্ভিস রয়েছে। দেশের অন্য স্থান থেকেও লালন মাজারে যেতে সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিদ্যমান। ঢাকার কল্যাণপুর ও  গাবতলী বাসষ্ট্যান্ড থেকে নিয়মিতভাবেই কুষ্টিয়ার বাস যাচ্ছে। হানিফ, শ্যামলী, এসবি, স্কাই লাইনের বাস চলাচল করে এ পথে। শুধু বাস নয় ট্রেনেও যাওয়া যাবে লালন মাজারে। বাসের ভাড়া ৪০০-৪৫০ টাকার মধ্যে। বাস থেকে নেমে রিক্সা বা ভ্যানে উঠে লালনের মাজারে যাওয়া যায়। সময় থাকলে একই সঙ্গে কবি মীর মশাররফ হোসেনের বাড়ি ও বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়িও ঘুরে আসা যাবে।

রাইজিংবিডি/ আ.মু

রাইজিংবিডি২৪.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়