ভিড় নেই সায়েদাবাদে, স্বস্তিতে যাত্রীরা
যাত্রীর চাপ কম থাকায় অধিকাংশ গাড়ি আসন ফাকা রেখেই ছাড়ছে টার্মিনাল। ছবি: রাইজিংবিডি
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা সরকারি ছুটি শুরু হওয়ায় ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়েছে। তবে ঢাকার অন্যতম ব্যস্ত সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে দেখা গেছে ঘরমুখো মানুষের ভিড় কম। সকাল কিছুটা যাত্রী থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীদের উপস্থিতি কমছে টার্মিনালে,স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছেন মানুষ। দূরপাল্লার গাড়িগুলোর অধিকাংশই সিট ফাঁকা রেখে ঢাকা ছেড়েছে।
সরেজমিনে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, টার্মিনালের বিভিন্ন কাউন্টার ও প্ল্যাটফর্মে যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন নেই। টার্মিনালে যেসব যাত্রী আসছে তারা অনেকটা স্বস্তিতে শহর ছাড়ছে। যাত্রীর চাপ কম থাকায় অধিকাংশ গাড়ি আসন ফাকা রেখেই ছাড়ছে টার্মিনাল।
টার্মিনালের প্রবেশমুখ নেই চিরচেনা যানজট, যাত্রীদের ডাকাডাকির চিত্র। যাত্রীর অপেক্ষায় টার্মিনালে সারি সারি বাস দাঁড়িয়ে আছে।
নেই টিকিট সংকট ও বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ
ঈদ যাত্রায় বাড়ি ভাড়া ও টিকেট সংগ্রহে অভিযোগ থাকলেও মঙ্গলবার যাত্রীদের এমন কোনো অভিযোগ নেই। কয়েকটা বাসকে কিছু আসন ফাঁকা রেখেই টার্মিনাল ছাড়তে দেখা গেছে।
বরিশালগামী যাত্রী আব্দুর রব হাওলাদার বলেন, “যেসব বাস বরিশাল যাচ্ছে এর মধ্যে অনত্যম সাকোরা পরিবহন। এসব বাসে আগে পথে নামলে ভাড়া কম নিত। এখন পথে নামলেও বরিশালের ভাড়া নিচ্ছে। তবে অতিরিক্ত কোনো ভাড়া নেই। তাছাড়া যাত্রীও কম। তাই স্বস্তিতেই বাড়ি ফিরছি।”
সাকোরা পরিবহনের কাউন্টারের ম্যানেজার সুমন মিয়া বলেন, “টানা ছুটির কারণে গতকালই যাত্রীদের বড় একটি অংশ ঢাকা ছেড়েছে। আজ সকাল থেকে যাত্রীর চাপ কম। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরো কমেছে যাত্রীর চাপ। অনেক গাড়ি আসন খালি রেখেই চলে যাচ্ছে। ”
যাত্রীর জন্য গাড়ির অপেক্ষা
টার্মিনালে রাজধানী থেকে গ্রামে ফিরতে নেই কোনো বিরম্বনা। বরং যাত্রীর জন্য সারি সারি গাড়ি অপেক্ষা করছে। ধারন ক্ষমতার অর্ধেক আসন পরিপূর্ণ হলেই ছেড়ে যাচ্ছে দূরপাল্লার বাসগুলো। তারা পথে পথেও অনেকটা যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করবে বলে জানান কাউন্টার কর্মীরা।
কাউন্টারগুলোতেও যাত্রীদের তেমন ভিড় নেই। ছবি: রাইজিংবিডি
সোহাগ পরিবহনের কাউন্টার ব্যবস্থাপক মানিক মিয়া বলেন, “গতকাল যাত্রীর চাপ ছিল। কিন্তু আজ যাত্রী নেই বললেই চলে। গতকাল আমরা লোকাল স্টপেজ থেকে কোনো যাত্রী নিতে পারিনি। আজ বাস গুলোর অনেক আসন ফাঁকা যাচ্ছে। যে গাড়ি ১০ টায় যাত্রী নিয়ে যাওয়ার কথা সেটি যাত্রী সংকটের কারণে ৩০ মিনিট বিলম্বে ছেড়ে যাচ্ছে। তবুও আসন খালি যাচ্ছে। এসব আসন লোকাল দুয়েকটি স্টোপেজ থেকে পূরণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সিলেটগামী যাত্রী নুসরাত পুতুল বলেন, “বেলা ১১ টায় গাড়ি ছাড়ার কথা, নির্দিষ্ট সময় টার্মিনালে এসে দেখি গাঁড়ি ফাঁকা। যাত্রী কম থাকায় সেটি সোয়া ১২টায় টার্মিনাল ছেড়ে যাচ্ছে।” এমন পরিবেশে শিশু ও বৃদ্ধ যাত্রীরা আরো স্বস্তিতে আছে বলে জানান তিনি।
পুলিশি নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
ঈদযাত্রাকে নিরাপদ করতে টার্মিনাল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী পুলিশ সদস্যরা টার্মিনালের প্রবেশপথ, ও বাসের প্ল্যাটফর্মে টহল দিচ্ছেন।
দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা শিহাব উদ্দিন বলেন, “যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সার্বক্ষণিক কাজ করছি। কোনো ধরনের হয়রানি বা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ এখনো পাওয়া যায়নি। এমন কোনা অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এছাড়া সন্দেহজনক ব্যক্তিদের নজরদারি, পকেটমার প্রতিরোধ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাদা পোশাকেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।
স্বস্তিতে যাত্রীরা
সব ভোগান্তির কথা মাথায় রেখে অনেক যাত্রী আগেই টিকিট কেটে রেখেছেন। যারা টার্মিনালে এসে টিকিট কাটবে বলে টেনশনে ছিল, যাত্রীর চাপ কম থাকায় তাদের মধ্যেও স্বস্তি বিরাজ করছে।
কুমিল্লাগামী যাত্রী রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমি দুই দিন আগে টিকিট কেটে রেখেছিলাম। মনে করেছিলাম অনেক ভিড় হবে। কিন্তু এসে দেখি টার্মিনালে গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। গাড়িতে উঠে দেখি অধিকাংশ আসন ফাঁকা।”
মর্ডাণ পরিবহণের হবিগঞ্জগামী যাত্রী নেছার শেখ বলেন, “আমাদের লাইনে কোনো ভাড়া বাড়ায়নি। আগে যা ছিল সেই ভাড়াই আছে। ঈদ ছাড়া অন্যান্য সময় টিকিটে ছাড়া দামাদামী করে কম ভাড়া দিয়ে যাওয়া যেত সেটি এখন সম্ভব নয়।”
চট্টগ্রামগামী যাত্রী আনোয়ার হোসেন বলেন, “অনেক পরিবহন প্রতিষ্ঠানের বাস যাত্রীর অভাবে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। যাত্রীর চাপ কম হওয়ায় অনেকটা ঈদ যাত্রায় স্বস্তি পেলাম।”
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের আর কয়েকদিন বাকি। সরকার অতিরিক্ত একদিনের ছুটি দেওয়ার কারণে আগে যে বড় ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হতো সেটা নেই। তবে পোশাক কারখানা ছুটি হলে যাত্রীর চাপ একদিন কিছুটা বাড়বে বলে মনে করছেন তারা।
ঢাকা/নাজমুল/ইভা