চেয়ারম্যানের দায়িত্ব এখনই নিতে চান না তারেক রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম
ফাইল ফটো
চেয়ারম্যানের দায়িত্ব এখনই নিতে চান না তারেক রহমান। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবেই কাজ চালিয়ে যেতে আগ্রহী। তৃণমূলের মতামতের পর পূর্ণ দায়িত্ব নিতে চান তিনি।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিএনপির চেয়ারপারসন পদ শূন্য হয়েছে। এ পদ কী প্রক্রিয়ায় পূরণ হবে- জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে নাকি দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী- তা নিয়ে দলীয় অঙ্গনে আলোচনা চলছে। শোকের সময় পার হওয়ার পর বিষয়টি আরো স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছেন নেতারা।
বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭-এর ‘গ’ উপধারার ২ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, চেয়ারম্যানের সাময়িক অনুপস্থিতিতে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে সব দায়িত্ব পালন করবেন। আর একই উপধারার ৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো কারণে চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সে দায়িত্বে বহাল থাকবেন।
দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা তারেক রহমানকে পূর্ণাঙ্গভাবে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে তারেক রহমান এখনই সে দায়িত্ব নিতে আগ্রহী নন বলে জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠরা। তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবেই কাজ চালিয়ে যেতে চান এবং সরাসরি তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়ে আগ্রহী।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলের এক শীর্ষ নেতা বলেন, “স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মতামত থাকলেও তারেক রহমান তা এখনই কার্যকর করতে চান না। খালেদা জিয়ার মৃত্যু ও পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে কিছুদিন অপেক্ষা করার পক্ষেই মত দিয়েছেন তিনি।”
এই মুহূর্তে তারেক রহমানকে পূর্ণ চেয়ারম্যান ঘোষণা করে রেজোলিউশন করার পক্ষে কমিটির অধিকাংশ নেতা। তবে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিজেই এতে সম্মতি দেননি। তার মতে, মায়ের শোকের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তারেক রহমানের চেয়ারম্যান হওয়ায় কোনো বাধা নেই। কাউন্সিল ছাড়াও এটি করা সম্ভব। তবে এ প্রস্তাবও আপাতত কার্যকর হচ্ছে না।
বিএনপির ইতিহাসে দেখা যায়, ১৯৮৩ সালের মার্চে খালেদা জিয়া সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন। বিচারপতি আবদুস সাত্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন এবং ১৯৮৪ সালের ১০ মে দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এ পদে বহাল ছিলেন।
এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় থেকেই তারেক রহমান রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৮৮ সালে ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত হন, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে দেশজুড়ে প্রচারে অংশ নেন। ২০০২ সালে তিনি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হন এবং ২০০৫ সালে দেশব্যাপী তৃণমূল সম্মেলনের নেতৃত্ব দেন। ২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেনের সময় গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হন।
২০০৯ সালে তিনি সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং ২০১৮ সালে খালেদা জিয়া কারাবন্দি হলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান। এরপর থেকেই তিনি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।
গঠনতন্ত্রে কোনো বাধা না থাকলেও আপাতত চেয়ারম্যান পদে আনুষ্ঠানিকভাবে অধিষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সময় নিচ্ছেন তারেক রহমান।
ঢাকা/আলী/এস