বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী, প্রধান সমন্বয়ক ইসমাইল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মাহদী আমিন এবং প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ইসমাইল জবিউল্লাহ।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান।
তিনি বলেন, বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটি নিয়মিতভাবে কাজ করবে। নির্বাচন-সংক্রান্ত সব বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করবেন কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন এবং সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবেন প্রধান সমন্বয়ক ইসমাইল জবিউল্লাহ।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো সরকারি অফিসে ফোন দিয়ে কারো মনোনয়নপত্র বাতিলের কথা বলা হয়নি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেসব খবর প্রচার হচ্ছে, সেগুলোর সত্যতা যাচাই করা গণমাধ্যমের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপির দীর্ঘ আন্দোলনের ফসল। দেশের মানুষ বহু বছর ভোট দিয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থী নির্বাচন করতে পারেনি। বিএনপির প্রত্যাশা, এবার জনগণ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের পছন্দের প্রার্থী ও সরকার বেছে নিতে পারবে।
একটি দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার আইডি সংগ্রহ করছে, এমন অভিযোগের বিষয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, এটি উদ্বেগজনক বিষয়। যদি সত্যিই এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে সরকারের উচিত বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা।
তিনি জানান, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। কোনো রাজনৈতিক দলের ওপর আইনি বাধা না থাকলে কিংবা কেউ স্বেচ্ছায় নির্বাচনে অংশ না নিলে, সে বিষয়ে বলার কিছু নেই।
নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রথম বৈঠক প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম খান বলেন, বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল—একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং আগামী দিনে কমিটি কীভাবে কাজ করবে, সে বিষয়ে একটি রূপরেখা নির্ধারণ করা।
তিনি জানান, কমিটির সদস্যরা বিভিন্ন বিষয়ে টিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং তাদের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একাধিক উপ-কমিটি গঠন করা হবে। আগামী দুই দিনের মধ্যে উপ-কমিটির সদস্যদের নাম প্রস্তাব আকারে জমা দিতে বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচন পরিচালনায় প্রার্থীদের সার্বিক সহযোগিতা, শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করা, ভোটারদের যথাসময়ে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হতে উদ্বুদ্ধ করা এবং দলীয় প্রতীক ও প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চাইতে গণসংযোগ জোরদার করার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
অনেকেই অভিযোগ করেন, নির্বাচন হলেই বিএনপি ক্ষমতায় যাবে, এই আশায় দলটি দ্রুত নির্বাচন চায়, বিষয়টি এমন নয় উল্লেখ করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতেই বিএনপি বরাবর দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানিয়ে এসেছে।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের মাধ্যমে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি গুম, খুন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছে বিএনপি এবং এর নেতাকর্মীরা।
গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, একসময় অনেক কথা বলা সম্ভব ছিল না, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে গণমাধ্যম দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে পারছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সাংবাদিকরা তাদের বিবেক, অভিজ্ঞতা ও পেশাগত দায়িত্ববোধ দিয়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সহযোগিতা করবেন।
তিনি জানান, গণমাধ্যমের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখবেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন। প্রধান সমন্বয়ক ইসমাইল জবিউল্লাহ ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গেও প্রয়োজন অনুযায়ী যোগাযোগ করতে পারবেন সাংবাদিকরা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিজন কান্তি সরকার, জিয়াউদ্দিন হায়দার, মঞ্জুর হোসাইন আলমগীর, মাহদী আমিন, এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান, সাইমুম পারভেজ, রেহান আসাদ, জুবায়ের বাবু, গিয়াসউদ্দিন রিমন, হুমায়ুন কবির, মোহাম্মদ জাকারিয়া, মোস্তাকুর রহমান, বেলায়েত হোসেন মৃধা, মেহেদুল ইসলাম, ফরহাদ হালিম ডোনার এবং অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান।
ঢাকা/আলী/রফিক