নিখোঁজ এনসিপি নেতা ওয়াসিম আহমেদের সন্ধান চায় পরিবার
নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম
দুদিন ধরে নিখোঁজ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কদমতলী থানার সদস্য মো. ওয়াসিম আহমেদ মুকছানের সন্ধান চায় তার পরিবার।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ওয়াসিম আহমেদ মুকছানের নিখোঁজের তথ্য জানিয়ে তার সন্ধান চাওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এনসিপির ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সদস্যসচিব এস এম শাহরিয়ার।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি, এনসিপির সক্রিয় সদস্য ও কদমতলী থানার অধিভুক্ত ওয়াসিম আহমেদ মুকছানকে গত ৪ জানুয়ারি আনুমানিক ভোর ৪টার দিকে বাসা থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে তার স্ত্রী শারমিন আক্তার টুম্পার বরাত দিয়ে তিনি জানান, অপহরণকারীরা কেউ পরিচয়পত্র প্রদর্শন না করে, জোর করে ঘরে ঢোকে। এ সময় তাদের সঙ্গীরা বাইরে অবস্থান করছিল। তারা একটি কালো রঙের মাইক্রোবাস নিয়ে এসেছিল। কোনো ইউনিফর্ম পরা ছিল না, সবাই সাধারণ পোশাকে ছিল।
ওয়াসিমকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় তাদের প্রশ্ন করা হলে অপহরণকারীরা ওয়াসিমের স্ত্রীকে জানায়, ‘‘কাল সকালে শ্যামপুর থানা থেকে ওয়াশিমকে নিয়ে যেতে।’’
পরদিন সকাল থেকে শ্যামপুর থানা, কদমতলী থানা ও কেরানীগঞ্জ থানায় খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এমনকি ডিবি কার্যালয়ে গিয়েও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও আশানুরূপ সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না বলে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়।
এস এম শাহরিয়ার বলেন, ‘‘ওয়াসিম আহমেদ মুকছান জাতীয় নাগরিক পার্টির সচেতন সংগঠক ও মাঠপর্যায়ে সক্রিয় কর্মী। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে তিনি ধারাবাহিকভাবে গণতন্ত্র, নাগরিক অধিকার ও রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন।’’
গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত ওয়াসিম আহমেদ মুকছানের বর্ণনা দিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘‘তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আন্দোলনের সময় থেকে। গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে তিনি শুরু থেকেই মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ছিলেন। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে এনসিপির কদমতলী থানার সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিয়মিতভাবে যুক্ত থেকে তিনি স্থানীয় পর্যায়ে একজন দৃশ্যমান ও দায়িত্বশীল কর্মীতে পরিণত হন। এই সক্রিয় ও প্রকাশ্য রাজনৈতিক ভূমিকার কারণেই তার হঠাৎ নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।’’
তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা, কর্মসূচি ও সংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তৃণমূল পর্যায়ে দল শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তরুণদের রাজনৈতিকভাবে সচেতন করতে এবং গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে যুক্ত করতে নিয়মিত কাজ করেছেন। তার এই ভূমিকা ও সক্রিয়তার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের অপহরণের ঘটনা গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য গুরুতর হুমকি বলেও এ সময় উল্লেখ করেন এনসিপির ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সদস্যসচিব।
একজন রাজনৈতিক কর্মীর নিখোঁজ হয়ে যাওয়া শুধু তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং এটি নাগরিকদের রাজনৈতিক অধিকার ও নাগরিক নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত উল্লেখ করে এস এম শাহরিয়ার অনতিবিলম্বে সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করা এবং আইনের সঠিক প্রয়োগ ও ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
তিনি এ সময় মানবাধিকার সংগঠন ও গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ওয়াসিম আহমেদের সন্ধান ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তন দাবি করেন এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক তদন্তের আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে শারমিন আক্তার টুম্পা বলেন, ‘‘৪ জানুয়ারি আনুমানিক ভোর ৪টার দিকে বাসা থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে আমার স্বামীকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এখন পর্যন্ত তার খোঁজ পাচ্ছি না। সরকারের কাছে অনুরোধ আমার স্বামীকে দ্রুত উদ্ধার করে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দিন।’’
ঢাকা/রায়হান//