ঢাকা     বুধবার   ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ৭ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

গণভোটে ‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জিএম কাদেরের

বিশেষ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০১:১০, ২১ জানুয়ারি ২০২৬  
গণভোটে ‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জিএম কাদেরের

মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে এসে জুলাই জাতীয় সনদের সমালোচনা করে ‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বান রাখেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে দেশকে অচল হওয়া থেকে রক্ষা করতে গণভোটে জনগণকে ‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এর মাধ্যমে সরকারের প্রতি অনাস্থা দেখানোরও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জাতীয় পক্ষে-বিপক্ষে জাতির রায় গ্রহণের জন্য ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট আয়োজন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষ নিয়ে সর্বাত্মক প্রচারে নেমেছে স্বয়ং সরকার। হ্যাঁ-এর পক্ষে সমর্থন রয়েছে বিএনপি, জামায়াত নেতৃত্বাধীন এনসিপিসহ ১০ দলীয় জোট ও নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী অধিকাংশ দলের। এই বাস্তবতার মধ্যে স্পষ্ট উচ্চারণে জিএম কাদের তার দলের অবস্থান ‘না’-এর পক্ষে জানিয়ে বললেন, গণভোট প্রতিষ্ঠা হোক, সেটি তারা চান না।

আরো পড়ুন:

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর এক হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে এসে জুলাই জাতীয় সনদের সমালোচনা করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি ও জাতীয় পার্টির চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে দলটি। সারা দেশে ১৯৬ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী।

সংবাদ সম্মেলনে জিএম কাদের বলেন, “সংবিধান সংশোধনে যেটা (সংস্কার প্রস্তাব) এনেছে, তাতে করে দেশ অচল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আমাদের দেশে ওনারা স্বৈরাচার বন্ধ করার নামে সংবিধানে যে সংশোধন করেছেন, সেখানে যিনি প্রধান নির্বাহী বা প্রধানমন্ত্রী তাকে কোনো রকম ক্ষমতাই দেওয়া হয় নাই। তার হাত-পা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।”

চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারকে উৎখাতের পর দেশে যাতে আর কর্তৃত্ববাদী শাসন ফিরতে না পারে, সেজন্য রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোগ নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। সংসদ, সংবিধান, বিচার বিভাগ, নির্বাচন ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন খাতে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংস্কারের প্রস্তাব এনে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে, যেখানে ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমিয়ে দুই মেয়াদ করার কথা বলা হয়েছে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ করা হবে, একই দিন গণভোট আয়োজন করেছে সরকার। দেশের প্রত্যেক ভোটার এ দিন পছন্দের প্রার্থীকে একটি এবং গণভোটের পক্ষে-বিপক্ষে একটি, মোট দুটি ভোট দেওয়ার ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ পাবেন। আর এই ভোটের মাধ্যমে গঠিত হবে নতুন সরকার।

জিএম কাদের বলেছেন, “দেশ পরিচালনার দায়িত্ব যিনি পাবেন, তাকে ক্ষমতা দিতে হবে। ক্ষমতা যদি না দেন, সে (প্রধানমন্ত্রী) কোনোদিন দায়িত্ব পালন করতে পারবে না।” 

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বিগত মহাজোট সরকারের মন্ত্রী ছিলেন জিএম কাদের।

তিনি বলেন, “যারা প্রধানমন্ত্রী হবেন মনে করছেন বা স্বপ্ন দেখছেন, আমি তাদের হুঁশিয়ার করে দিতে চাই। আমি আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, এই সংবিধান সংশোধনকে এক কথায় এটা বেআইনি সংবিধান। এটা অবাস্তব এবং সত্যিকার কথা বলতে এটা বাস্তবায়ন হলে দেশ ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাবে।”

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সংবিধান সংশোধন হলে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে দাবি করে বলেন, “দেশে কোনো রকম কোনো স্থিতিশীলতা থাকবে না। একটি সরকার তিন-চার-পাঁচ দিনের মধ্যেই পরিবর্তন হবে। কোনো আইন সঠিকভাবে পাস করতে পারবে না। এইভাবে কোনো দেশ চলতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি একটা লোককে দায়িত্ব দেবেন, তাকে ক্ষমতা দিতে হবে। আপনি সম্পূর্ণ ক্ষমতা বাদ দেবেন, সেটা হতে পারবে না।”

গণভোটকে ‘সম্পূর্ণভাবে সংবিধানপরিপন্থি’ বলে অভিযোগ তুলে জিএম কাদের বলেন, “এটা (গণভোট) সংবিধান বিরুদ্ধ এবং ওনারা (উপদেষ্টা) শপথ ভঙ্গ করছেন এবং এটাতে সাধারণভাবে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, দেশ অচল হয়ে যাবে।”

জিএম কাদের বলেন, “দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে এবং আইনের শাসনের স্বার্থে আমরা বিশ্বাস করি যে, এই গণভোটকে আমাদের সকলকে প্রত্যাখ্যান করা উচিত।”

“না ভোট দেওয়া উচিত এবং এই গণভোট প্রতিষ্ঠিত না হোক সেটাই আমরা চাই,” যোগ করেন তিনি।

বর্তমান সরকারই জুলাইয়ের আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে দাবি করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, “জুলাই আন্দোলনের প্রথম থেকে জাতীয় পার্টি সক্রিয় সমর্থন দিয়ে গেলেও রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে তারা আমাদের স্বৈরাচারের দোসর আখ্যা দিচ্ছে। অথচ আমরা দেখতে পাচ্ছি তারাই আজ জুলাই শহীদের রক্ত-মাংস বিক্রি করে খাচ্ছে।”

জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, “লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ ঠিক নাই প্রমাণ করার জন্য হলেও জাতীয় পার্টি নির্বাচনি মাঠে থাকবে।”

অন্যান্যের মধ্যে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আবদুস সবুর আসুদ, শেরিফা কাদের, সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, রেজাউল ইসলাম ভুইয়া, এমরান হোসেন মিয়া, আলমগীর শিকদার লোটন, ইকবাল হোসেন তাপস, মাইনুর রাব্বি রুম্মন চৌধুরী, শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ।

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়