ঢাকা     শুক্রবার   ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

বমির পর ক্লান্তিভাব কাটাতে যেসব খাবার খেতে পারেন

দেহঘড়ি ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:০৩, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ০৯:০৪, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
বমির পর ক্লান্তিভাব কাটাতে যেসব খাবার খেতে পারেন

বমি হওয়ার পর শরীর তখন খুবই সংবেদনশীল থাকে। ছবি: সংগৃহীত

বমি বমি ভাব আর বমি—এই দুটো অভিজ্ঞতা জীবনে অন্তত একবার হলেও প্রায় সবাই অনুভব করেছেন। কখনো শারীরিক অসুস্থতা, কখনো এসিড রিফ্লাক্স, আবার কখনো গর্ভাবস্থার স্বাভাবিক পরিবর্তনের কারণেও বমি হতে পারে। বমি হয়ে যাওয়ার পরেও পেটের ভেতর অস্বস্তিকর এক বমনেচ্ছুক অনুভূতি থেকে যায়, যা বেশ ক্লান্তিকর।

তবে মনে রাখতে হবে, যদি মাথায় আঘাত পাওয়ার পর বমি হয় কিংবা বমির সঙ্গে তীব্র পেটব্যথা দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। আর যাদের ক্ষেত্রে স্ট্রেস, অ্যাংজাইটি বা মানসিক টেনশনের কারণে বমি হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়, তাদের জন্য কিছু নির্দিষ্ট খাবার পাকস্থলীকে শান্ত রাখতে এবং পুনরায় বমি হওয়া ঠেকাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

আরো পড়ুন:

চলুন জেনে নেওয়া যাক, বমি হওয়ার পরে কোন কোন খাবার শরীরের জন্য তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ও উপকারী।

বরফ
বমি হয়ে যাওয়ার পর সাধারণত পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে বেশি পানি পান করলে আবারও বমি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সে ক্ষেত্রে ২–৩ টুকরো বরফ চুষে খাওয়া ভালো বিকল্প হতে পারে। মুম্বাইয়ের পিডি হিন্দুজা হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক নিউট্রিশন থেরাপিস্ট ডা. পূর্ণিমা সুহাস প্রভু জানান, পরীক্ষার আগে মানসিক চাপে ছাত্রছাত্রীদের বমি বমি ভাব হওয়া খুবই সাধারণ। এমনকি টাইপ ‘এ’ পার্সোনালিটির মানুষদের শরীরে এসিড উৎপাদনও তুলনামূলক বেশি হয়। বরফ পাকস্থলীকে ঠান্ডা রাখতে এবং বমি বমি ভাব কমাতে সাহায্য করে।

নোনতা বিস্কুট
নোনতা স্বাদের সাধারণ বিস্কুট প্রায় সব দোকানেই পাওয়া যায়। গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে সকালের বমি ভাব কমাতে খালি পেটে নোনতা বিস্কুট খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন ডায়েটিশিয়ানরা। একইভাবে মোশন সিকনেসে ভোগা ব্যক্তিদের জন্য দূরপাল্লার ভ্রমণে এক প্যাকেট নোনতা বিস্কুট বেশ কাজে আসে।

কমলার জুস
বমি বমি ভাব অনুভব করলে কিংবা বমি হয়ে যাওয়ার পর এক গ্লাস কমলার জুস পান করা যেতে পারে। এটি শরীরে সামান্য শক্তি জোগায় এবং মুখের বিস্বাদ ভাব দূর করতেও সাহায্য করে।

ব্রাট ডায়েট
কলা, ভাত, আপেল ও টোস্ট—এই চারটি খাবার নিয়ে তৈরি ‘ব্রাট ডায়েট’ বমির পর সবচেয়ে নিরাপদ খাবারের তালিকায় থাকে। বমি হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরে ক্ষুধা অনুভূত হলে এই খাবারগুলো খাওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে কলা পাকস্থলীকে দ্রুত শান্ত করতে সাহায্য করে।

দই
বমির পরে ঠান্ডা দুধ খাওয়া যেতে পারে, তবে দই খাওয়াই তুলনামূলকভাবে ভালো। কারণ দই সহজে হজম হয় এবং এতে থাকা প্রাকৃতিক প্রোবায়োটিক পাকস্থলীকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। তবে দই যেন টাটকা হয় এবং খুব বেশি টক না হয়—সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। সাধারণত বমি হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর দই খাওয়া উপযোগী।

মশলাবিহীন খাবার
বমি হওয়ার পর সবচেয়ে খারাপ সিদ্ধান্ত হলো মশলাযুক্ত খাবার খাওয়া। এতে এসিডিটির সমস্যা বাড়ে এবং আবার বমি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এর বদলে খিচুড়ি, সাধারণ স্যান্ডউইচ বা সিদ্ধ আলুর মতো হালকা ও মশলাবিহীন খাবার বেছে নেওয়াই শ্রেয়।

বমি হওয়ার পর শরীর তখন খুবই সংবেদনশীল থাকে। তাই কী খাচ্ছেন, সে বিষয়ে সচেতন হওয়াটাই সবচেয়ে জরুরি। সঠিক খাবার বেছে নিলে পাকস্থলী দ্রুত শান্ত হবে, অস্বস্তিও কমবে—আর আপনি আবার ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারবেন।

সূত্র: হেলথ শর্টস

ঢাকা/লিপি

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়