ভোটের নিরাপত্তায় রাজধানীতে থাকবে ২৫ হাজার পুলিশ
ছবি: এআই দিয়ে তৈরি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা মহানগরীতে ১৩টি সংসদীয় আসন। এসব আসনে ২ হাজার ১৩১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে প্রায় ৭৬ শতাংশ ঝুঁকিপূর্ণ।
এদিকে, এসব কেন্দ্রের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। এজন্য রাজধানীতে ৪টি পুলিশ কন্ট্রোল রুম এবং ৮টি সাব পুলিশ কন্ট্রোল রুম স্থাপন করছে পুলিশ। ভোটের মাঠের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৫ হাজার পুলিশ মোতায়েন থাকবে বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, ঢাকার ঝুঁকিপূর্ণ সব ভোটকেন্দ্রে ক্যামেরাসহ একজন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। কয়েকটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে ক্যামেরাসহ দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যের দায়িত্ব তদারকি করা হবে।এর মধ্যে প্রতিটি থানায় ডক সেন্টার স্থাপন করা হচ্ছে। থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা এই ডক সেন্টারের দায়িত্বে থাকবেন। কোনো ভোটকেন্দ্রে গোলযোগ শুরু হলে সেখানকার পরিস্থিতি পুলিশ কন্ট্রোল রুম ছাড়াও পুলিশ সদর দপ্তরের কমান্ড সেন্টার থেকেও মনিটর করা হবে।
ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় থাকবেন ২৫ হাজার পুলিশ সদস্য। এর মধ্যে কম ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে ৩ জন এবং অতি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় থাকবেন ৪ জন করে পুলিশ। পুলিশের বাইরে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় ১০ জন আনসার সদস্য ও সহকারী সেকশন কমান্ডার পদের একজন আনসার সদস্য অস্ত্রসহ থাকবেন।
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, “যেখানে একাধিক ভোটকেন্দ্র থাকবে সেখানে নিরাপত্তা বেশি জোরদার থাকবে।ঢাকার ৪টি পুলিশ কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বে থাকবেন একজন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার।বিভিন্ন এলাকায় স্থাপিত ৮টি সাব পুলিশ কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বে থাকবেন একজন যুগ্ম কমিশনার।পুলিশ কন্ট্রোল রুম এবং সাব পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে পুরো ঢাকার ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তাসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তদারকি করা হবে। আর এসবই করা হচ্ছে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করা।”
সূত্র জানায়, সম্প্রতি সব আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতিনিধির উপস্থিতিতে নির্বাচনি নিরাপত্তা নিয়ে ডিএমপির উচ্চ পর্যায়ে একটি সভা হয়। ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর সভাপতিত্বে সভায় নিরাপত্তা পরিকল্পনার নানা দিক কীভাবে সমন্বয় হবে তা নিয়ে আলোচনা হয়। মোবাইল টিমগুলো কীভাবে করবে, স্ট্রাইকিং ফোর্স কীভাবে দায়িত্ব করবে, সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব সমন্বয় করবে তা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। ভোটের দিন ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ৫০০ ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন থাকবে।তারা সড়কে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করবেন।পুলিশ প্রায় তিন হাজার যানবাহন রিকুইজিশন করার পরিকল্পনা করেছে। এসব যানবাহন নির্বাচনি সামগ্রী ভোটকেন্দ্রে পাঠানো, ভোট গ্রহণ শেষে সেগুলো আবার নির্ধারিত স্থানে আনা হবে।
এছাড়া ফোর্স এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় আনা নেওয়ায় ব্যবহার করা হবে।আবার আসনগুলোর ভোট কেমন হলো তা দিয়েই মূল্যায়ন করা হয় নিবাচন।এ কারণেই ঢাকার ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
এছাড়া রাষ্ট্রদূতরা ঢাকার বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শনে যেতে পারেন।তাদের নিরাপত্তায় থাকছে বিশেষ ব্যবস্থা। ৫১৭টি ভোটকেন্দ্রে কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখা হচ্ছে না। তারপরও সেগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারির আওতায় থাকবে।
ঢাকা/এমআর/এসবি