ঢাকা     শনিবার   ০৮ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২৪ ১৪২৭ ||  ১৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

অনলাইনে মিলছে গরু জবাই ও মাংস হোম ডেলিভারি সেবা

|| রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৭:৫৪, ২৫ জুলাই ২০২০  

অনলাইনে কোরবানির পশুর সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে মাংস কাটা, গরু জবাই ও হোম ডেলিভারি সেবা। ডিএনসিসি ও ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ডিজিটাল হাট-এ পাওয়া যাচ্ছে এই সেবা। 

এই সেবার মধ্যে রয়েছে ঈদের তিনদিন আগে থেকে কসাইখানায় গরুর থাকা-খাওয়া, রাখালদের থাকা খাওয়া, গরুর স্বাস্থ্য ও ওজন পরীক্ষা, ইসলামী বিধান অনুযায়ী গরু জবাই, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাংসকাটা, গরুর ভূড়ি পরিষ্কার, মাংস, পায়া, কলিজা, মগজ ইত্যাদি ৪ কেজির নিরাপদ প্যাকে করে দ্রুত সময়ের মধ্যে বাসায় পৌঁছে দেয়া। এতে অন্যান্য সহযোগিতায় রয়েছে আইসিটি ডিভিশন ও বাংলাদেশ ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশন। সহযোগিতায় রয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। 

ডিজিটাল হাট থেকে সারা দেশের ক্রেতারা গরু ক্রয়-বিক্রয় করতে পারলেও মাংস প্রক্রিয়াকরণ ও হোম ডেলিভারি সেবা শুধুমাত্র ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ বাসীদের জন্য প্রযোজ্য হবে। কেউ চাইলে গরু ছাগল কেনার সময় এই সেবা একসঙ্গে কিনতে পারবেন অথবা অন্যকোনো স্থান বা স্থানীয় হাট থেকে গরু কিনেও ডিজিটাল হাটের কসাই বা স্লটারিং সেবা নিতে পারবেন। 

এছাড়া যারা দেশের বাইরে আছেন কিন্তু তাদের আত্মীয়স্বজন দেশে রয়েছেন অথবা দেশে আত্মীয়স্বজন নেই কিন্তু কোরবানি দিতে চান, তাদের জন্য বিদেশ থেকে পেমেন্ট দিলেই দেশে কোরবানির ব্যবস্থা করবে www.digitalhaat.net। প্রবাসীদের জন্য হেল্পলাইন নম্বর: ০১৮৮৬৮৮৮০০০।

ডিএনসিসির ডিজিটাল হাট থেকে যারা এই সেবা নিবেন তাদের জন্য মূল্য ঠিক করা হয়েছে বুকিং মানি- গরু ও মহিষের ক্ষেত্রে ৫০০০ টাকা, ছাগল ও ভেড়ার জন্য ১০০০ টাকা। যারা শুধু স্লটারিং সেবা নিবেন তাদের সেবার মূল্যের-বাকি টাকা পশুর লাইভ ওজনের ওপর নির্ভর করবে। পশুর লাইভ ওজনের প্রতি কেজির জন্য মাংস প্রসেসিং ও অন্যান্য খরচ হিসেবে ৮৬.২৫ পয়সা করে প্রযোজ্য হবে। বুকিং এর টাকা মোট প্রদেয় টাকার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। উদাহরণস্বরূপ গরুর লাইভ ওজন যদি ২০০ কেজি হয়, তবে মাংস প্রসেসিং চার্জ হবে ১৭২৫০ টাকা। বুকিং এর ৫০০০ টাকা সমন্বয় করে গ্রাহককে আরো ১২,২৫০ টাকা গরু ডেলিভারির সময় প্রদান করতে হবে।

ছাগল, খাসি, দুম্বা ও ভেড়ার জন্য কেজি প্রতি ১২৬.৫০ টাকা। যারা গরু ছাগল ও কসাইসেবা একসাথে ক্রয় করবেন তাদের পশুমূল্যের সঙ্গে ২৩ শতাংশ চার্জ যুক্ত হবে। এক্ষেত্রে ওজন প্রযোজ্য হবে না। এই মূল্যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে গরুর থাকা খাওয়া, জবাই, মাংসকাটা, ভূড়ি পরিষ্কার, ৪ কেজি করে প্যাকেজিং ও বাসায় ডেলিভারি পর্যন্ত। ঈদের তিন ধরে চলবে এই কার্যক্রম। আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে এই সেবার বুকিং নিচ্ছে ডিজিটাল হাট। তবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনের জন্য এই সেবামূল্য কিছুটা কমতে পারে। বিস্তারিত জানতে সাপোর্ট সেন্টার: 09614102030, অথবা ভিজিট: www.digitalhaat.net

ডিজিটাল হাট ছাড়াও এই সেবা দিচ্ছে আজকের ডিল, দারাজ, দেশীগরুবিডি, গরুহাট, ইভ্যালি ও যাচাই ডটকমসহ বেশকিছু অনলাইন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান। 

ই-কমার্স মার্কেটপ্লেস দারাজের হেড অব ইকুইজিশন সাইমুন সানজিদ চৌধুরী বলেন, ‘এটা নগরবাসীর জন্য একটা অনন্য সুযোগ। যারা এই কোভিড সংক্রমণ থেকে নিরাপদ থাকতে চান বা বাসায় কসাই কিংবা গরুর কোনো ঝামেলা নিতে চান না, তাদের জন্য এক দারুন সমাধান। কারণ আপনি দারাজ থেকে গরু ক্রয়ের পর আমরাই আপনার গরু ডিজিটাল হাটের স্লটারিং হাউজে পৌঁছে দেব। পুরো ব্যাপারটাতে গ্রাহকের টেনশন বা হয়রানির কিছু নেই। বরং গ্রাহক চাইলে স্লটারিং হাউজে গিয়ে তাদের গরু দেখে আসতে পারবেন।’

গরুহাট ডটকমের প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ শাহীন বলেন, ‘পরিচ্ছন্ন ঢাকা শহর চাইলে এ ধরনের উদ্যোগ নিতেই হবে। পাড়ায় পাড়ায় গরু জবাই করে পরিবেশ নষ্ট করার চেয়ে এটা অনেক নিরাপদ। আমাদের গরুহাট ডটকম থেকে যারা গরু কিনছেন তারা এই সেবা নিচ্ছেন। কারণ এখানে একদিকে পুরো কাজটা স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে করা হবে। অন্যদিকে দক্ষকর্মীরা কোভিড নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজটি করবেন। ডিএনসিসি, ই-ক্যাব এবং অন্যান্য মার্চেন্টদের তত্ত্বাবধানে ঈদের তিনদিন ধরে চলবে এই কর্মযজ্ঞ।’ 

ই-ভ্যালির সিইও মোহাম্মদ রাসেল বলেন, ‘আমরা ডিজিটাল হাটের কসাইসেবাকে স্বাগত জানাই। গরু এবং ছাগলের জন্য এই সেবা ইভ্যালি থেকে কেনা যাবে। ক্রেতাদের বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছি। বুকিং মানি গরুর জন্য ৫০০০ টাকা আর ছাগলের জন্য ১০০০ টাকা। ইভ্যালি থেকে এই সেবা নিলে বুকিং মানির ওপর ৫০ শতাংশ ক্যাশব্যাক অফার চলছে। ’

এ প্রসঙ্গে দেশীগরুবিডি’র প্রধান নির্বাহী টিটু রহমান বলেন, ‘আমরা মূলত গ্রামীণ কৃষকের গরুগুলো অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসেছি যাতে নগরের ক্রেতারা সেই গরুগুলো ন্যায্যমূল্যে ক্রয় করতে পারে আর কৃষকও যেন উপযুক্ত দাম পায়। পাশাপাশি কোভিড সংক্রমণ রোধ করতে আমরা ডিজিটাল হাট এর সঙ্গে মিলে স্লটারিং সেবাটা দিচ্ছি। এটা একটা কমপ্লিট প্যাকেজ। এমনভাবে মাংস প্রসেস করে দেয়া হবে, কোরবানির মাংস বাসায় নিয়ে কোনো কাটাকুটির প্রয়োজন হবে না।’

বাংলাদেশ ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ শাহ ইমরান বলেন, ‘ঈদের ৩ দিনে আমাদের সর্বোচ্চ ২০০০ গরু স্লটারিং ক্যাপাসিটি রয়েছে। আমাদের ৬০টি দক্ষ কসাই টিম একসঙ্গে কাজ করবে। ফলে আমরা যথাসময়ে ক্রেতাদের বাসায় মাংস প্রসেস করে পাঠাতে পারব। এখানে ই-ক্যাবের লজিস্টিক ও ডেলিভারি প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের সহযোগিতা করবেন।’

 

 

ঢাকা/ফিরোজ

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়