ঢাকা     সোমবার   ১৮ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ৪ ১৪৩৩ || ২ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

মুশফিকুরের রাঙা দিনে পাকিস্তান রানের পাহাড়ে চাপা

ইয়াসিন হাসান, সিলেট থেকে || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:১৮, ১৮ মে ২০২৬   আপডেট: ১৮:২৪, ১৮ মে ২০২৬
মুশফিকুরের রাঙা দিনে পাকিস্তান রানের পাহাড়ে চাপা

০/০ -পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসের স্কোরবোর্ডের চিত্র। তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলামের করা প্রথম দুই ওভার সামলেও কোনো রান তুলতে পারেনি সফরকারীরা। উইকেট বাঁচাতে পেরেছে সেটাও অনেক!

এখন এই স্কোরবোর্ডেই আগামী দুই দিনে আরও ৪৩৭ রান যোগ করতে পারলে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখবে পাকিস্তান। কারণ, টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড এখনো ওয়েস্ট ইন্ডিজের দখলে। ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া ৪১৮ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে ইতিহাস গড়েছিল ক্যারিবীয়রা। এরপর আর কেউ সেই রেকর্ড ভাঙতে পারেনি।

আরো পড়ুন:

সেঞ্চুরিয়ান মুশফিকুর রহিম আউট হওয়ার সময় বাংলাদেশের লিড দাঁড়ায় ৪৩৬ রান। নিরাপদ সংগ্রহ পেয়ে বাংলাদেশের শিবিরে স্বস্তির হাসি, আর পাকিস্তান অপেক্ষায় কঠিন এক পরীক্ষার। মুশফিকুরের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে রানের পাহাড়ে চাপা পড়েছে সফরকারীরা। প্রথম ইনিংসের ৪৬ রানের লিডসহ বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে রান ৩৯০। ১৪তম সেঞ্চুরি পাওয়া মুশফিকুর রহিমের একার রানই ১৩৭।

শেষ দুই দিনে এখন চোখ দুটি সম্ভাবনার দিকে। পাকিস্তান বিশ্বরেকর্ড গড়ে অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে কি না, কিংবা বাংলাদেশ প্রত্যাশিত জয় তুলে নিয়ে আবারও পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করতে পারে কি না।

সমীকরণটা সহজ। বাংলাদেশের প্রয়োজন ১০ উইকেট, আর পাকিস্তানের দরকার ৪৩৭ রান।

আজকের দিনটা কেবলই ছিল মুশফিকুরময়। আলো জ্বালিয়ে লিটনও সামনে এসেছিলেন। কিন্তু সেঞ্চুরির আগেই নিভে যায় এবারের লড়াই। ব্যাট হাতে করেন ৬৯ রান। টেস্টে এক ইনিংসে সেঞ্চুরি ও ফিফটির এর আগে দুইটি রেকর্ড আছে তার। ২০২১ সালে পাকিস্তান, ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একটি সেঞ্চুরি ও ফিফটি পেয়েছিলেন। টেস্টে জোড়া সেঞ্চুরির রেকর্ড আছে কেবল মুমিনুল হক ও নাজমুল হোসেন শান্তর। লিটনের সুযোগ ছিল সেখানেই নাম তোলার। কিন্তু আগেভাগেই তিনি আউট।

লিটনের সেঞ্চুরির আক্ষেপ ভুলিয়ে দেয় মুশফিকুরের অনবদ্য ১৩৭ রানে। ২৩৩ বলে ১২ চার ও ১ ছক্কায় সাজানো ইনিংসটি পাকিস্তানকে ভুগিয়েছে বেশ। দিনের শুরু থেকে মাঠে মুশফিকুর। প্রথমে নাজমুল হোসেন শান্ত, এরপর লিটন, মিরাজ ও তাইজুলের সঙ্গে জুটি বেঁধে সেঞ্চুরিতে পৌঁছান। শান্তর সঙ্গে জুটি ছিল মাত্র ৫ রানের। ১৫ রান করে নাজমুল খুররাম শেহজাদের বলে এলবিডব্লিউ হন।

এরপর লিটন ও মুশফিকুরের ম্যারাথন জুটির সূচনা। যেখানে ম‌্যাচটা পাকিস্তানের থেকে নাগালের বাইরে চলে যায়। ১৮৮ বলে ১২৩ রানের জুটি তাদের। যেখানে লিটন দ্রুত ব‌্যাট চালালেও মুশফিকুর ছিলেন রয়েশয়ে। পরিস্থিতি বুঝে এগিয়েছেন টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান করা মুশফিকুর। লিটন ফিফটিতে পৌঁছান চোখের পলকে। লাঞ্চের পর ফিরে মুশফিকুরও তাকে অনুসরণ করেন। বিরতি থেকে ফিরে লিটন মারমুখী ব‌্যাটিং শুরু করেন। তাতেই ডেকে আনেন বিপদ। হাসান আলীর শর্ট বল আপার কাট করে থার্ড ম‌্যান অঞ্চলে ক‌্যাচ দেন।

নতুন সঙ্গী মিরাজ হতাশ করেন। ৩৪ রানের জুটি গড়ে মিরাজ খুররামের বলে বোল্ড হন। এরপর তাইজুলই মুশফিকুরকে সাহস দেন। দুজনের ১২৮ বলে ৭৭ রানের জুটিতে মুশফিকুরের অবদান এখন পর্যন্ত ৫১ রান। ৫১ বল খেলে তাইজুল যোগ করছেন ২২। তাইজুলের এই সঙ্গই মুশফিকুরকে নিয়ে গেছে সেঞ্চুরির চূঁড়ায়। বাংলাদেশকে নিয়ে গেছে নিরাপদ অবস্থানে। শেষ পর্যন্ত মুশফিকুরের ইনিংস থামে ১৩৭ রানে। সাজিদ খানের বল উড়াতে গিয়ে সীমানায় ক‌্যাচ দেন। 

যদিও বাংলাদেশ এতোক্ষণ ব‌্যাটিং করতো কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ইনিংস ঘোষণা করে ফিল্ডিংয়ে প্রায় নেমে যেতে চাচ্ছিলেন নাজমুল। বাকিরাও ছিলেন প্রস্তত। কিন্তু বারবার কোথায় যেন আটকে যাচ্ছিলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক!

পড়ন্ত বিকেলে তাসকিন ও শরিফুল এক ওভার থেকে হাত ঘুরিয়ে কাঁপন ধরিয়ে দেন অতিথি শিবিরে। কাল নতুন বলে সকালের সেশনে একই ধারাবাহিকতা থাকলে পাকিস্তানকে বড় পরাজয়ের সম্মুখীন হতে হবে।

ঢাকা/ইয়াসিন/আমিনুল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়