প্রতিটি দলে ১৪০-১৫০ কিমি গতির বোলার থাকে, নাহিদ প্রসঙ্গে বাবর
ক্রীড়া প্রতিবেদক, সিলেট থেকে || রাইজিংবিডি.কম
চার ইনিংসে যখন তিনবারই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয় তখন প্রশ্ন উঠা স্বাভাবিক নয় কী?
নাহিদ রানার বিপক্ষে আপনার কী দূর্বলতা আছে? সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে বাবর আজকে এই প্রশ্নটাই করা হয়েছিল। প্রশ্নটা বাবর ভালোভাবে নেননি। উত্তরটা দিয়েছেন সাদামাটা।
রাওয়ালপিণ্ডিতে দুই বছর আগে দুইবার এবং সিলেটে আজ নাহিদ রানার বলে আউট হয়েছেন বাবর। দ্রুতগতির বল ফ্লিক করতে গিয়ে মিড অনে ধরা পড়েন ৬৮ রান করা বাবর। পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ রান করা বাবর ফিফটি করেও দলকে লিড এনে দিতে পারেননি। ২৭৮ রানের জবাবে ২৩২ রানে গুটিয়ে যায় অতিথিরা।
দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ কিছুটা এগিয়ে থাকলেও নিরাপদ অবস্থানে নেই। খেলা শেষে বাবর এসেছিলেন সংবাদ সম্মেলনে, নানা প্রশ্নের ফাঁকে উঠে আসে নাহিদ রানা প্রসঙ্গও…
প্রশ্ন: উইকেট কি ব্যাটিংয়ের জন্য সহায়ক ছিল?
বাবর আজম: সত্যি বলতে, উইকেট খুবই ভালো ছিল। বল খুব সুন্দরভাবে ব্যাটে আসছিল। হ্যাঁ, আমরা বড় কোনো পার্টনারশিপ গড়তে পারিনি। আমরা ভালো শুরু করেছিলাম, কিন্তু আমি আর আগা যখন মাঝখানে খেলছিলাম, তখন আমরা একটা পার্টনারশিপ গড়ার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, আমরা লম্বা পার্টনারশিপ গড়তে পারিনি।
প্রশ্ন: বোলিং কি এত ভালো ছিল যে আপনারা পার্টনারশিপ করতে পারেননি?
বাবর আজম: না, আমি তা মনে করি না। বোলিং ভালো ছিল, কিন্তু আমরা কিছু সফট ডিসমিসাল করেছি।
প্রশ্ন: নাহিদ রানা আপনাকে তিন টেস্ট ম্যাচে তিনবার আউট করেছে। সে কতটা ভালো বোলার, নাকি তার বিপক্ষে আপনার কোনো দুর্বলতা আছে?
বাবর আজম: না, আমি তা মনে করি না। সে এখনকার সময়ে রেড-বল ক্রিকেটের অন্যতম ফাস্ট বোলার। আপনি দেখবেন, প্রায় প্রতিটি দলে ১৪০-১৫০ কিমি গতির বোলার থাকে। তাই আপনাকে সেগুলো সামলাতে হয়। আমি আমার স্বাভাবিক খেলা খেলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। কখনো রান হয়, কখনো আউট হয়ে যায়।
প্রশ্ন: বাবর, আপনি খুব সুন্দরভাবে খেলছিলেন। হঠাৎ আউট হয়ে গেলেন, আর সবকিছু বদলে গেল। আসলে কী ভুল হলো? ইনিংসের টার্নিং পয়েন্ট কী ছিল?
বাবর আজম: আমার মনে হয় টার্নিং পয়েন্ট ছিল আমার উইকেট আর সালমান আলী আগার উইকেট। কারণ এরপর আমরা আর কোনো পার্টনারশিপ গড়তে পারিনি। আমার মনে হয় এই দুই ডিসমিসালই ম্যাচের গতি বদলে দেয়।
প্রশ্ন: আপনার কি মনে হয় বাংলাদেশের বোলারদের বিপক্ষে পাকিস্তানের ব্যাটারদের মধ্যে কোনো মানসিক বাধা তৈরি হয়েছে?
বাবর আজম: না, আমরা অনেক দিন ধরেই ক্রিকেট খেলছি। আমি মনে করি না কোনো মানসিক বাধা আছে। হ্যাঁ, ব্যাটসম্যান হিসেবে আমরা পার্টনারশিপ গড়তে পারছি না। ছোট ছোট পার্টনারশিপ হয়েছে, কিন্তু টেস্ট ম্যাচে আপনার দুই-তিনটা ভালো পার্টনারশিপ দরকার হয়।
প্রশ্ন: বাবর, আপনি পিএসএলে নাহিদ রানার সঙ্গে খেলেছেন। বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য সে কতটা বিশেষ প্রতিভা?
বাবর আজম: আমার মনে হয় সে খুবই প্রতিভাবান। সবচেয়ে বড় বিষয় তার গতি। সে অসাধারণ, আর তার নিয়ন্ত্রণও ভালো। দিন দিন সে নিজের বোলিং আরও উন্নত করছে। আমি তার ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানাই।
ঢাকা/ইয়াসিন/আমিনুল