ঢাকা     রোববার   ১৭ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ৩ ১৪৩৩ || ১ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

সাগরের নিচে থাকা ইন্টারনেট কেবলের জন্য শুল্ক আদায় করতে চায় ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:৫০, ১৭ মে ২০২৬  
সাগরের নিচে থাকা ইন্টারনেট কেবলের জন্য শুল্ক আদায় করতে চায় ইরান

হরমুজ প্রণালিতে সফল অবরোধের পর ইরান এখন বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম গোপন ধমনীর দিকে ঝুঁকছে। দেশটি জলপথের নিচে থাকা সমুদ্রগর্ভস্থ সাবমেরিন কেবল ব্যবহারের জন্য বিশ্বের বৃহত্তম প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর কাছ থেকে মাশুল আদায় করতে চায়।

পারস্য উপসাগরের তলদেশ দিয়ে পাতা কেবলগুলো ইউরোপ, এশিয়া এবং পারস্য উপসাগরের মধ্যে বিপুল পরিমাণ ইন্টারনেট ও আর্থিক লেনদেন বহন করে।

আরো পড়ুন:

ইরানের সরকার সমর্থিত গণমাধ্যমগুলো অস্পষ্টভাবে হুমকি দিয়েছে যে, সংস্থাগুলো অর্থ পরিশোধ না করলে এই লেনদেন ব্যাহত করা হতে পারে। তেহরানের আইনপ্রণেতারা গত সপ্তাহে একটি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন, যা আরব দেশগুলোকে ইউরোপ ও এশিয়ার সাথে সংযোগকারী সমুদ্রগর্ভস্থ কেবলগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।

গত সপ্তাহে ইরানের সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম যুলফাগারি ঘোষণা করেছেন, “আমরা ইন্টারনেট কেবলের ওপর মাশুল আরোপ করব।” 

ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম জানিয়েছে, প্রণালিটি থেকে রাজস্ব আদায়ের তেহরানের পরিকল্পনা অনুযায়ী গুগল, মাইক্রোসফট, মেটা এবং অ্যামাজনের মতো কোম্পানিগুলোকে ইরানের আইন মেনে চলতে হবে। একইসাথে, সাবমেরিন কেবল কোম্পানিগুলোকে কেবল চলাচলের জন্য লাইসেন্স ফি দিতে হবে এবং মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের অধিকার একচেটিয়াভাবে ইরানি সংস্থাগুলোকেই দেওয়া হবে।

এই কোম্পানিগুলোর মধ্যে কয়েকটি হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরের মধ্য দিয়ে যাওয়া কেবলগুলোতে বিনিয়োগ করেছে, কিন্তু সেই কেবলগুলো ইরানের জলসীমা অতিক্রম করে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

এটাও স্পষ্ট নয় যে, ইরানের শাসকগোষ্ঠী কীভাবে প্রযুক্তি সংস্থাগুলোকে তাদের নির্দেশনা মেনে চলতে বাধ্য করতে পারে। কারণ কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা ইরানকে অর্থ প্রদান করতে পারে না; ফলে, সংস্থাগুলো নিজেরাই ইরানের বিবৃতিগুলোকে গুরুতর নীতির পরিবর্তে লোকদেখানো আচরণ হিসেবে দেখছে।

তবুও, রাষ্ট্র সমর্থিত গণমাধ্যমগুলো প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে সতর্ক করেছে যে, ইরানে চাইলে কেবলের ক্ষতি করতে পারে, যা বিশ্বব্যাপী ট্রিলিয়ন ডলারের ডেটা ট্রান্সমিশনকে প্রভাবিত করতে পারে এবং বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগকে ব্যাহত করতে পারে।

ব্লুমবার্গ ইকোনমিক্স-এর মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক প্রধান দিনা এসফান্দিয়ারি জানিয়েছেন, ইরানের হুমকিগুলো হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের প্রভাব প্রদর্শন এবং শাসনব্যবস্থার টিকে থাকা নিশ্চিত করার কৌশলের অংশ, যা এই যুদ্ধে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের একটি মূল উদ্দেশ্য।

তিনি বলেন, “এর লক্ষ্য হলো বিশ্ব অর্থনীতির ওপর এমন এক বিশাল বোঝা চাপিয়ে দেওয়া, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ ইরানকে আক্রমণ করার সাহস না করে।”
 

ঢাকা/শাহেদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়