রিশাদের ‘কিপটে’ বোলিংয়ে কুপোকাত সিডনি, বিফলে ওয়ার্নারের সেঞ্চুরি
ক্রিকেটে একটি প্রচলিত কথা আছে- ‘সেঞ্চুরি তখনই সার্থক হয়, যখন দল জেতে’। সিডনি থান্ডারের জন্য আজ শনিবার (০৩ জানুয়ারি, ২০২৬) ডেভিড ওয়ার্নারের ইনিংসটি ছিল ঠিক তার উল্টো। ১৪ বছর পর বিগ ব্যাশের মঞ্চে ওয়ার্নারের মহাকাব্যিক শতরানও সিডনিকে পরাজয়ের গ্লানি থেকে বাঁচাতে পারল না। বাংলাদেশি লেগ-স্পিনার রিশাদ হোসেনের নিয়ন্ত্রিত স্পিন আর হোবার্ট হারিকেন্সের ব্যাটারদের তাণ্ডবে ২০৬ রানের পাহাড় টপকে দারুণ জয় তুলে নিয়েছে হোবার্ট।
ঘরের মাঠে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়েছিল সিডনি। প্রথম দুই বলেই দুই উইকেট হারিয়ে যখন দলটি ধুঁকছিল, তখন ত্রাতা হয়ে দাঁড়ান অভিজ্ঞ ডেভিড ওয়ার্নার। বিধ্বংসী মেজাজে মাত্র ২৮ বলে অর্ধশতক এবং ৫৭ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৬৫ বলে ১৩০ রানের এক অপরাজিত টর্নেডো ইনিংস খেলেন এই বাঁহাতি ওপেনার, যা সাজানো ছিল ১১টি চার ও ৯টি ছক্কায়। এটি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তার নবম শতক। যেখানে তার ওপরে আছেন কেবল ক্রিস গেইল ও বাবর আজম।
বোর্ডে ২০৫ রানের বিশাল পুঁজি থাকলেও হোবার্টের বোলারদের মধ্যে উজ্জ্বল ছিলেন বাংলাদেশি তরুণ রিশাদ হোসেন। উইকেট না পেলেও তার ৪ ওভারের স্পেলটিই ছিল ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। যখন সিডনির ব্যাটাররা চার-ছক্কার বৃষ্টি বইয়ে দিচ্ছিলেন, তখন রিশাদ ৪ ওভারে খরচ করেন মাত্র ২৯ রান। ৭.২৫ ইকোনমিতে বল করে তিনিই ছিলেন দলের সবচেয়ে মিতব্যয়ী বোলার। যদিও ব্যক্তিগত ২৫ রানে রিশাদের বলেই একবার জীবন পেয়েছিলেন ওয়ার্নার, তবে রিশাদের করা ডট বলগুলোই সিডনিকে শেষমেশ বড় সংগ্রহের পথে কিছুটা হলেও টেনে ধরেছিল।
২০৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে হোবার্টকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন মিচেল ওয়েন (৪৫) ও টিম ওয়ার্ড। উদ্বোধনী জুটিতেই আসে ১০৮ রান। দুর্ভাগ্যজনকভাবে টিম ওয়ার্ড মাত্র ১০ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করলেও তার ৪৯ বলে খেলা ৯০ রানের ইনিংসটি হোবার্টের জয়ের পথ মসৃণ করে দেয়। শেষ দিকে নিখিল চৌধুরীর ১৪ বলে ২৯* এবং ম্যাথু ওয়েডের ৫ বলে ১৩* রানের ক্যামিওতে ১৩ বল বাকি থাকতেই ৬ উইকেটের বড় জয় নিশ্চিত করে হোবার্ট।
বিগ ব্যাশের এবারের আসরে রিশাদ হোসেনের বোলিং শৃঙ্খলা আলাদাভাবে নজর কাড়ছে। উইকেটের চেয়েও রানের গতি থামিয়ে দেওয়ার যে দক্ষতা তিনি দেখাচ্ছেন, তা হোবার্টের সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পয়েন্ট টেবিলের চিত্র:
হোবার্ট হারিকেন্স: ৭ ম্যাচে ৫ জয়ে টেবিলের শীর্ষে।
সিডনি থান্ডার: ৬ ম্যাচে ৫ হারে টেবিলের তলানিতে।
ঢাকা/আমিনুল