ঢাকা     সোমবার   ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ১৩ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

বিপিএলে আম্পায়াদের পারফরম্যান্সে সাইমনের মুখে হাসি

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:৪০, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬  
বিপিএলে আম্পায়াদের পারফরম্যান্সে সাইমনের মুখে হাসি

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) স্থানীয় আম্পায়ারের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট সাইমন টাফেল। বিসিবির আম্পায়ার্স ও ম্যাচ অফিসিয়ালদের দুদিনের ট্রেনিং শেষে সাইমন গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের সন্তুষ্টির কথা জানান। সঙ্গেও এ-ও বলেছেন, বাংলাদেশের অন্যান্য ঘরোয়া ক্রিকেটে এই মানের আম্পায়ারিং নিশ্চয়তা চান তিনি।

বিপিএলে এবার মাত্র দুজন বিদেশি আম্পয়ারকে নিয়োগ দিয়েছিল বিসিবি। পাকিস্তানের আসিফ ইয়াকুব ও শ্রীলঙ্কান রুচিরা পল্লিয়াগুরুগে বিপিএলে আম্পায়ারিং করেছেন। আসিফ ইয়াকুব ১৩ ও রুচিরা ১২ ম্যাচে আম্পায়ারিং করেছেন। বাকি সব ম্যাচে দায়িত্ব সামলেছেন স্থানীয় ৮ আম্পায়ার।

আরো পড়ুন:

স্থানীয় আম্পায়াররা বেশি সংখ্যক ম্যাচে দায়িত্ব পালন করাকে বেশ ভালো নজরে দেখছেন সাইমন। তিন বছরের চুক্তিতে সাইমন বাংলাদেশের আম্পায়ারদের মানোন্নয়ন নিয়ে কাজ করছেন। গত বছর তাকে নিয়োগ দেয় বিসিবি।

এবার বিপিএলে বেশ কড়া নজরে আম্পায়াররে পারফরম্যান্স অনুসরণ করেছেন। তার মুখ থেকেই পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন শোনা যাক, ‘‘তারা খুব ভালো। বিপিএলে আন্তর্জাতিক প্যানেল আম্পায়ারদের মান অনেক উঁচুতে ছিল। আর ফাইনালে তিনজন বাংলাদেশি আম্পায়ারকে অংশগ্রহণ করতে দেখে খুব ভালো লাগলো। এটা ভালো কথা। কিন্তু আমি আগেই বলেছি যে এটা উন্নতির জন্য। আমরা এখানে যা করছি তার কোনও শেষ সীমা নেই।’’ 

‘‘কিন্তু অবশ্যই আমরা দলকে আরও শক্তিশালী করতে চাই। তাই আমরা ভবিষ্যতে যা করব তা হলো প্যানেলের আকার কমিয়ে পারফরম্যান্সের মান এবং ধারাবাহিকতা উন্নত করার দিকে নজর দেওয়া। খেলোয়াড়রা এটাই আশা করে এবং আমরাও তাই চাই। বিপিএল ফাইনাল এবং প্লেঅফের একটা দারুণ দিক হলো কেউ আম্পায়ারিং নিয়ে কথা বলছিল না। আমরা বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের ক্ষেত্রেও একই জিনিস চাই।’’ – যোগ করেন তিনি।

সাইমন টাফেল ২০০৪ থেকে ২০০৮- টানা পাঁচ বছর আইসিসির ‘আম্পায়ার অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার জিতে গড়েছেন অনন্য এক রেকর্ড। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ৭৪টি টেস্ট, ১৭৪টি ওয়ানডে ও ৩৪টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে আম্পায়ারিং করেছেন তিনি। ২০১২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক আম্পায়ারিং থেকে অবসর নিয়ে পরে আইসিসির আম্পায়ার কোচ হিসেবেও কাজ করেছেন।

এখন বিসিবি তার ঠিকানা। বিসিবি এজন্য প্রায় ৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকার মতো খরচ করছে। জানা গেছে, সায়মন তিন বছরের জন্য ৬ লাখ ৮৫ হাজার ডলার চেয়েছেন। যেখানে তার নিজের সম্মানী ২ লাখ ৭৫ হাজার ডলার। বাকি ৪ লাখ ১০ হাজার ডলার তার নিজের দলের। এছাড়া বাংলাদেশে আসা-যাওয়ার খরচ, আবাসন, খাওয়া, যাতায়াত সব বিসিবির বহন করতে হবে।

বাংলাদেশে তার খুব ভালো সময় কাটছে বলেই দাবি করছেন অস্ট্রেলিয়ার সাইমন, ‘‘খুবই প্রাণবন্ত, ব্যস্ত ও আবেগপূর্ণ। খাবার দারুণ। সূচি কঠিন হলেও টিম হিসেবে আমরা খুব উপভোগ করেছি। আম্পায়ার ট্রেনার তৈরির কোর্সও করেছি। নতুন আম্পায়ার কোচের প্রয়োজন আছে। আগ্রহীরা যোগাযোগ করতে পারেন। সব মিলিয়ে দারুণ অভিজ্ঞতা, তবে এখন বাড়ি ফিরতে মুখিয়ে আছি।’’

আম্পায়ারদের দুদিনের কর্মশালা আজ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে। কেমন কাজ করলেন আম্পায়াররা? কে ছিলেন সেরা সেসব নিয়ে প্রক্যাশে কিছু বলতে রাজি হলেন না সাইমন, ‘‘প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাই না। সে অন্যদের মতোই। পরের ম্যাচটাকে নিজের সেরা ম্যাচ বানাতে হবে। এমনটাই আমি বিশ্বাস করি। সব আম্পায়ারই ভুল করেন। আমিও করি। প্রযুক্তির ব্যবহার, ক্যামেরা কাভারেজ ও স্বচ্ছতা বাড়ানো জরুরি। ম্যাচ অফিসিয়াল ব্যবস্থাপনা কাঠামো শক্ত করতে হবে। ঘরোয়া পর্যায়ে ভালো মূল্যায়ন হলে বিপিএলের আগেই অনেক সমস্যা সমাধান করা যায়।’’

ক্রিকেট ও রাজনীতি উপমহাদেশে প্রায় সমান্তরালেই চলে। ক্রিকেটে রাজনীতে ঢুকে পড়ছে কিনা সেই প্রশ্ন করা হয়েছিল অভিজ্ঞ পরামর্শককে। সাইমনের সোজাসাপ্টা কথা, ‘‘এ বিষয়ে আমি কথা বলতে চাই না। আমরা ইতিবাচক দিকগুলো নিয়ে কাজ করছি।’’

ঢাকা/ইয়াসিন/আমিনুল

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়