ঢাকা     রোববার   ১৫ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ২ ১৪৩২ || ২৬ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

অপেক্ষার প্রহর পেরিয়ে তানজিদের সেঞ্চুরি

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:৫৩, ১৫ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ১৯:০৪, ১৫ মার্চ ২০২৬
অপেক্ষার প্রহর পেরিয়ে তানজিদের সেঞ্চুরি

ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে ১৪ সেঞ্চুরি নিয়ে তামিম ইকবাল রয়েছেন সবার উপরে। নিজের প্রথম সেঞ্চুরি পেতে দেশের অন্যতম সেরা ওপেনারকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল ২৬ ইনিংস। তামিমসহ ওপেনিংয়ে সেঞ্চুরি আছে বাংলাদেশের আরো ৮ ক্রিকেটারের। লিটনের ৫টি, ইমরুল কায়েস ও শাহরিয়ার নাফিসের ৪টি করে, এনামুল হকের ৩টি, সৌম্য সরকারের ২টি এবং ১টি করে সেঞ্চুরি আছে রাজিন সালেহ, মেহরাব হোসেন অপি ও মেহেদী হাসান মিরাজের।

সেই তালিকায় রোববার নাম তুললেন তানজিদ হাসান তামিম। এজন্য তাকে অপেক্ষা করতে হলো ৩০ ইনিংস। পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতে ১০৭ রান করেছেন বাঁহাতি ওপেনার। এর আগে তার ফিফটি পেরোনো ইনিংস আছে ৫টি। কিন্তু সেঞ্চুরির স্বাদ কখনো। সর্বোচ্চ রান ছিল ৮৪, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চট্টগ্রামে।

আরো পড়ুন:

২০২৩ সালের আগস্টে ওয়ানডে ক্রিকেটে পথচলা শুরু তানজিদের। যুব বিশ্বকাপ জয়ী ক্রিকেটারকে অনেক প্রতিশ্রুতি নিয়ে এসেছেন বড়দের ক্রিকেটে। শুরুটা তেমন ভালো করতে পারেননি। শূন্যরানে শুরু পথচলা। পরের ইনিংসে রান ১৩। পরের পাঁচ ইনিংসেও বিশের ঘর ছুঁতে পারেননি। ২০২৩ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে পুনেতে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটির দেখা পান। পায়ের নিচের মাটি কিছুটা শক্ত হলেও তানজিদ ধারাবাহিক হতে পারছিলেন না। ফিফটির পর হাল ছেড়ে দেওয়া, ভালো শুরুর পর অযাচিত শটে আউট হওয়া এবং বারবার সুযোগ নষ্ট করে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি।

সেই আক্ষেপ, অপেক্ষা রোববার মেটালেন প্রথম তিন অঙ্ক ছুঁয়ে। আক্রমণাত্মক ব্যাটিং তানজিদের ব্র্যান্ড অব ক্রিকেট। নিজের শতরানেরও সেই ছাপ ছিল। ১০৭ বলে ১০৭ রান করেছেন ৬ চার ও ৭ ছক্কায়। উইকেটের চারিপাশে দৃষ্টিনন্দন সব শট খেলে দর্শকদের আনন্দে মাতিয়ে রাখেন। হারিস রউফকে ফ্লিক করে ছক্কা, মাআজ সাদাকাতকে মিড উইকেট দিয়ে উড়ানো কিংবা ফাহিম আশরাফকে ফাইন লেগ দিয়ে ছক্কা এবং আবরারকে পাড়ার বোলার বানিয়ে চার-ছক্কার স্রোতে ভাসানোর কাজটা তানজিদ করেছেন সুনিপুণভাবে। ৪৭ বলে পৌঁছান ফিফটিতে। সিরিজে তার দ্বিতীয় ফিফটি। আর প্রথম শতরানে পৌঁছান ৯৮ বলে। স্পিনার সালমান আগার বল এগিয়ে এসে লং অন দিয়ে উড়িয়ে ৯৪ থেকে সেঞ্চুরিতে পৌঁছান। তখন মাথায় হেলমেট ছিল না। শট খেলার পরপরই তাই তার মুখের চওড়া হাসি স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছিল।

সেঞ্চুরির পর দুই হাত তুলে দর্শকদের অভিবাদন জানান। এরপর সিজদাহতে নিজেকে সপে দেন। সতীর্থ লিটন এরপর তাকে আলিঙ্গন করে নেন। সেঞ্চুরি পেলেও পরে ইনিংসটি বড় করতে পারেননি। আবরারের লোপ্পা বলে মনোযোগ হারিয়ে ব্যাট এগিয়ে দিয়ে কাভারে ক্যাচ দেন ১০৭ রানে। তানজিদের ব্যাটে সেঞ্চুরির অপেক্ষায় ছিলেন তার কোচ হান্নান সরকার। সেঞ্চুরিটা স্পেশাল হান্নান তার কথাতে বুঝিয়ে দিয়েছেন, ‘‘ওয়ানডেতে তামিমের একটা সেঞ্চুরি দেখার অপেক্ষায় - প্রথম ম্যাচ শেষে লিখেছিলাম। সেই মুহূর্তটা অবশেষে এসেই গেল! প্রথম সেঞ্চুরি সবসময়ই স্পেশাল। আশা করি, ওয়ানডেতে তামিমের (তানজিদের) নামের পাশে অন্তত ২০টা সেঞ্চুরি দেখব। আমার বিশ্বাস, ওর পক্ষে আমার এই চাওয়াটাও পূরণ করা খুব ভালোভাবেই সম্ভব।’’

ঢাকা/ইয়াসিন/আমিনুল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়