ঢাকা     শুক্রবার   ০৮ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২৫ ১৪৩৩ || ২০ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

বিপিএলে অবিশ্বাস্য ‘ক্রাইম’!

ক্রীড়া ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৮:২৬, ৮ মে ২০২৬  
বিপিএলে অবিশ্বাস্য ‘ক্রাইম’!

হট সিটে বসে তামিম ইকবাল কেবল একটি প্রশ্ন করেছিলেন, ‘ডু উই হ্যাভ এনাফ এভিডেন্স?’

উত্তর পাওয়ার পর স্রেফ অর্ডার, ‘‘এক্সিকিউট ইট।’’

আরো পড়ুন:

সঙ্গে এ-ও বলেছিলেন, ‘‘এখনই সময় বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য উদহারণ তৈরি করা। যেটা আরো আগে হওয়া দরকার ছিল।’’ কথা মতো কাজ হলো।

বিপিএলের দুর্নীতি তদন্ত হওয়ার পর অভিযুক্তদের সামনে এনে তামিম যে বার্তা দিয়েছেন তা নিঃসন্দেহে বিরল। পাশাপাশি বিসিবি প্রধান এক্সপোজ করেছেন এমন কিছু যা রীতিমত অবিশ্বাস্য ‘ক্রাইম’। ‘ক্রাইম’ ক্রিকেটাঙ্গনে ব্যবহৃত হবে সেটাই অবিশ্বাস্য। অথচ বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলার নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান একবার-দুইবার নয়, অন্তত পাঁচবার প্রায় ৩০ মিনিটের সংবাদ সম্মেলনে ক্রাইম শব্দটা টানলেন!

অপরাধটা আসলেও এতোটা গুরুতর বলে তামিম মানতে পারছিলেন না কিছুতেই। বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সদস্য ফাহিম সিনহা গড়গড় করে বললেন, ‘‘দুইটি দলের সঙ্গে এখনও পর্যন্ত চুক্তিই হয়নি বিসিবির, অথচ একটা আসর খেলে ফেলেছে।” ভরা সংবাদ সম্মেলন কক্ষের সবার কাছেই পুরো বিষয়টি অবিশ্বাস্য লেগেছে। ফাহিম সিনহার পাশে বসা তামিম নিজের অবয়ব দিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন, ‘‘এগুলোই হয়ে আসছে বাংলাদেশ ক্রিকেটে…!’’ সেজন্য এক্সপোজ করতে বাধ্য হলেন তামিম।

শুরুতে দলগুলোর নাম বলতে চাননি তারা। পরবর্তীতে কাগজ দেখে তামিম বলেছেন, ‘‘সিলেট টাইটান্স ও নোয়াখালী এক্সপ্রেস দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজিই ছিল নতুন। তাদের সঙ্গে বোর্ড কোনো চুক্তিই করেনি।’’ শুধু এক্সপোজ নয়, ভবিষ্যতে কেউ চ্যালেঞ্জ করলেও মোকাবেলায় প্রস্তুত তামিম, ‘‘আমি তো এক্সপোজ করেছি এবার। আগের সময় এক্সপোজ হয়নি। আমি একদম পুরো তথ্যসহ আপনাকে এক্সপোজ করেছি, যদি কেউ এটা চ্যালেঞ্জ করতে চায় দেন দে আর ওয়েলকাম টু ডু।”

অথচ দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ফারুক আহমেদ কিংবা আমিনুল ইসলাম বুলবুল এসে বিপিএলকে নিয়ে কেবল টানাহেঁচড়া করেছে। বিপিএল আয়োজন করতেই হবে এমন বাধ্যবাধকতা নিয়ে বসে ছিলেন তারা। আইসিসির দুর্নীতি বিরোধী বিভাগের প্রধান অ্যালেক্স মার্শালকে বিসিবি নিয়োগ দেয়। বিসিবি ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের প্রধান দল বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বিসিবিকে সতর্ক করেছিল। কিন্তু আমিনুলের বোর্ড সেসবে নজর তো দেন-ই নি বরং একজনকে দল পাইয়ে দিয়েছেন।

ফাহিম সিনহা জানালেন আদ্যোপান্ত, ‘‘ইন্টেগ্রিটি বিভাগের অ্যালেক্স মার্শাল আমাদেরকে জানিয়েছেন, ইওআইর (এক্সপ্রেশনস অব ইন্টারেস্ট) আগে দুজন ব্যক্তির ব্যাপারে বলা হয়েছিল যে ইন্টেগ্রিটি ইস্যু আছে, তাদেরকে যেন ফ্র্যাঞ্চাইজি না দেওয়া হয়। কিন্তু তখনকার গভর্নিং কাউন্সিলের কয়েকজন নাকি খুব ‘ইনসিস্ট’ করে একজনকে বাধ্য করেছে দল দিতে। আরেকজনের ক্ষেত্রে একটু ‘লিনিয়েন্সি’ দেখিয়ে ওই ব্যক্তি পেছনে থেকে আরেকজনকে সামনে দিয়ে দিয়েছে।’’

গত দুই বছর কেবল ১০ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টির কথাই শোনা গিয়েছিল বিবিবির দেয়ালে দেয়ালে। এতোবার, এতোভাবে বিসিবির হর্তাকর্তা মুখ দিয়ে ব্যাংক গ্যারান্টির ‘‘ফেনা তুললেও’’ আদতে কিছুই করতে পারেনি তারা,

‘‘একাদশ আসরে (২০২৪-২৫) আমাদের একটা বিশাল ধরনের ব্লান্ডার হয় ফ্র্যাঞ্চাইজি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে। যেমন ব্যাংক গ্যারান্টি দেওয়া ছিল বাধ্যতামূলক। এক হাজার কোটি টাকার টার্নওভার থাকতে হবে, যারা আবেদন করবে। তাদের প্রোফাইলে এগুলো চেক করে যে যে স্পেসিফিকেশন দেওয়া ছিল, এগুলো পরীক্ষা করে আমরা একটা দলকে ফ্র্যাঞ্চাইজি দেব। কিন্তু এসবের কিছুই হয়নি। যেভাবে মন চায়, যাকে মন চায় তাকেই দল দ্য়ো হয়েছিল।’’

এসব নোংরামি বছরের পর বছর খেলোয়াড় হিসেবে দেখছেন তামিম। এখন তিনি মসনদে। তাই আশ্বাস দিলেন, “জোড়াতালি দিয়ে দলের মালিকানা দিয়ে, (ব্যাংক গ্যারান্টি) ১০ কোটির জায়গায় ২ কোটিতে দিয়ে দেওয়ার চেয়ে টুর্নামেন্ট না করাই ভালো। আশা করি, ভবিষ্যতে আমি আসি বা যারা আসে, তারা এটা নিয়ে কাজ শুরু করবে। আমাদের এখানে অনেক বড় বড় কর্পোরেট আছে, যাদেরকে আমাদের কনভিন্স করতে হবে (দল নিতে)। আমিও বিপিএলের অনেক বড় ভক্ত। কিন্তু বছরের পর বছর শুধু বিপিএলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে না, ক্রিকেট বোর্ডের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়, ক্রিকেটারদের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়, দেশ হিসেবেও বাংলাদেশের ওপরও বাজে প্রভাব পড়ে।”

সঙ্গে এ-ও জানালেন, বিপিএলকে যারা কলুষিত করেছেন তাদেরকে জবাব দিহিতার আওতায় আনবেন। কিভাবে আনবেন তা পরবর্তীতে বোর্ড সভায় নেবেন সিদ্ধান্ত, ‘‘আমরা স্রেফ ঘোষণাটি দিলাম আজকে। আমরা নিজেরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, তাদেরকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে হবে। তাদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিত। আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেব কি না, এটা নিয়ে আলোচনা করতে হবে। হঠাৎ করে আমি যদি বলে দিই যে, আমরা মামলা করব, সেটা ঠিক হবে না।”

তবে এই ‘কালো’ তালিকাকে যদি সত‌্যিই জবাবদিহিতার আওয়ায় আনতে চান তামিম তাহলে বর্তমান সঙ্গী ফাহিম সিনহাকেও করতে হবে। কেননা ফারুকের বিপিএল আমলের গভর্নিং কমিটির মেম্বার ছিলেন তিনিও। যদিও তার দাবি, ‘‘গভর্নিং কাউন্সিলে আমি গতবার ছিলাম এটা ট্রু। তবে আমাদের না জানিয়ে সিদ্ধান্ত এসেছিল। কয়টা মিটিং হয়েছে? গভর্নিং কাউন্সিলের মিটিংয়ে যদি এই ধরণের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে, মিটিং মাইনটসে থাকে তাহলে আমিও রেসপনসিবল। তবে আমি নিশ্চিত আমি ওই সিদ্ধান্তগুলোতে ছিলাম না।’’

তাতে আরও বড় প্রশ্নও উঠছে? কেন তাহলে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল থেকে সরে যাননি তিনি? কেন অপরাধে শামিল হয়েছিলেন? উত্তরটা ফাহিম সিনহা অকপটেই দিয়েছেন, ‘‘আমরা উইথড্র করলাম এটা কি এনাফ না?’’ এই আমরা কারা? সেটাই বিরাট ধাঁধা! যে ধাঁধায় আটকে আছে বিপিএলের মান। দেশের সম্মান।

ঢাকা/ইয়াসিন

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়