ঢাকা     শনিবার   ৩০ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ১৬ ১৪৩৩ || ১৪ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

আগামীর সময় মোবাইল সাংবাদিকতার: ড. জামিল খান

রায়হান হোসেন || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২৩:২৩, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩   আপডেট: ২৩:৩০, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
আগামীর সময় মোবাইল সাংবাদিকতার: ড. জামিল খান

ড. জামিল খান, বর্তমানে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা, মিডিয়া এবং যোগাযোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। দেশের প্রাতিষ্ঠানিক মোবাইল সাংবাদিকতার চর্চা তার হাত ধরেই শুরু হয়েছে। বর্তমানে দেশে-বিদেশে বহু গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে তিনি মোবাইল সাংবাদিকতার প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। মোবাইল সাংবাদিকতা নিয়ে প্রথম বাংলায় বইও লিখেছেন তিনি।

মোবাইল সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ নিয়ে রাইজিংবিডির সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন ড. জামিল খান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রায়হান হোসেন।

রাইজিংবিডি: মোবাইল সাংবাদিকতা বা নিউমিডিয়ার ভবিষ্যৎ কী?

ড. জামিল খান: সাংবাদিকতার এখন যে স্রোত আমরা দেখছি, সাংবাদিকতা যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে; সেটি যদি বিশ্লেষণ করি তাহলে আমি বলবো- আগামীর সময়টা হবে পুরোপুরি তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সাংবাদিকতা। যেখানে মোবাইল প্রযুক্তি, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ৩৬০ ডিগ্রি কনটেন্টের মতো বিষয়গুলো চলে আসবে। সাংবাদিকরা তাদের পেশায় এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করতে বাধ্য হবেন। আধুনিক সাংবাদিকতা, নিউ মিডিয়া, মোবাইল সাংবাদিকতা ও ডিজিটাল সাংবাদিকতায় একটা বড় পরিবর্তন আসবে। সেজন্য প্রস্তুতিটা এখন থেকেই নিতে হবে। বিশ্বে সকল মিডিয়া এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের দিকে ঝুঁকছে। ইতোমধ্যেই মোবাইল সাংবাদিকতা গণমাধ্যমের জন্য একটি অপরিহার্য উপকরণ হয়ে ওঠেছে।

রাইজিংবিডি: মোবাইল সাংবাদিকতার ধারণাটা নতুন, এটার বিশেষ বৈশিষ্ট্য কী?

ড. জামিল খান: মোবাইল সাংবাদিকতা একেবারেই যে নতুন, তা বলা যাবে না। স্মার্টফোন বাজারে আসার পর থেকেই সাংবাদিকরা তাদের কাজে এটি ব্যবহার করে আসছেন। তবে সাংবাদিকতায় মোবাইল ফোনের ব্যবহারটা গত পাঁচ থেকে সাত বছর আমরা অতিমাত্রায় দেখতে পেয়েছি। এখন মোবাইলেই খুব ভালো মানের ক্যামেরা এবং ফোর-কে ভিডিও ধারণ করা যাচ্ছে। যার ফলে ব্যবহারটা দিন দিন বাড়ছে৷ অনেক ক্ষেত্রে টেলিভিশনের সাংবাদিকরাও ক্যামেরার জায়গায় তাদের মোবাইল ফোনকে ব্যবহার করছেন। মোবাইল ফোন খুব সহজে ব্যবহারের উপযোগী ও আকারে ছোট হওয়ায় বড় ধরনের কোনো ঘটনা কিংবা সংকটময় পরিস্থিতিতে মোবাইল ফোন সাংবাদিকতার ব্যবহার অতুলনীয়। একজন সাংবাদিক শুধু তার মোবাইল ফোনটি ব্যবহার করেই ছবি ও ভিডিও ধারণ, সম্পাদনা এবং অনলাইনে পরিবেশনের কাজটি করে ফেলবেন, এমন প্রত্যাশা করা হয়।

রাইজিংবিডি:মোবাইল সাংবাদিকতা কেন বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমগুলোর তাদের নিউজ রুমে নিয়ে আসা উচিত?

ড. জামিল খান: আমরা এখন যে সময়টায় আছি, যেকোনো ব্যক্তি নিউজ বের করতে পারে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার আগেই নিউজ পাওয়া যায়। যখন সাধারণ মানুষ সংবাদ প্রকাশ করে তখন সাংবাদিকদের দায়িত্ব আরো বেশি বেড়ে যায়। আমরা কেন পারছি না, করণীয় কী- সে ব্যাপারে গুরুত্ব দিতে হবে। দ্রুত সংবাদ পাঠানোর ক্ষেতে একজন সাংবাদিকের মোবাইল ফোনটি হতে পারে আদর্শ মাধ্যম। কারণ অন্য কোনো ডিভাইস দিয়ে এতো দ্রুত স্পট থেকে নিউজরুমে নিউজ পাঠাতে পারবেন না। এখন সময়টা হচ্ছে, মাল্টিমিডিয়ানির্ভর সময়। মানুষজন এখন ভিডিও দেখতে পছন্দ করে। তাই যারা প্রিন্ট, টেলিভিশন এবং অডিও সাংবাদিকতা করেন সবাইকে বলা হচ্ছে তারা যেন মোবাইল ব্যবহার করেন।

চিরায়ত পদ্ধতিতে সাংবাদিকতা করতে হলে একজন রিপোর্টারকে অনেক উপকরণ, যেমন- ভারি ক্যামেরা, বুম, সরাসরি সম্প্রচারের সরঞ্জাম এবং এগুলো পরিচালনার জন্য বাড়তি ক্রু বহন করতে হয়। ফলে তিনি চাইলেই যখন ইচ্ছে তখনই সংবাদ দেওয়া শুরু করতে পারেন না। কিন্তু একজন মোবাইল জার্নালিস্টের এসবের বালাই নেই। তিনি ইচ্ছে করলেই একা কাজ করতে পারেন। রিয়েল-টাইম সাংবাদিকতার জন্য বর্তমান বিশ্বে মোবাইল জার্নালিজম একটি অনন্য মাধ্যম হয়ে ওঠেছে। 

বর্তমানে গণমাধ্যমগুলো বিশেষ করে করোনা মহামারির পর থেকে তারা চিন্তা করে কীভাবে অল্প খরচে নিউজ রুম সাজানো যায়। মোবাইল সাংবাদিকতার মাধ্যমে টিভি চ্যানেল, এফএম রেডিও স্টেশন, দৈনিক পত্রিকা ও ম্যাগাজিন এবং অনলাইনভিত্তিক নিউজ ওয়েবসাইট একদিকে যেমন খরচ কমাতে পারবে, অন্যদিকে আরও বেশি সংবাদ ও রিপোর্ট প্রকাশ করতে পারবে। রাজধানী ঢাকার বাইরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সংবাদ সংগ্রহ ও পাঠানোর জন্যও মোবাইল সাংবাদিকতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

রাইজিংবিডি: আপনি যখন মোবাইল সাংবাদিকতা শুরু করছিলেন তখনকার অবস্থা কেমন ছিল?

ড. জামিল খান: আমি যখন মোবাইল সাংবাদিকতা চর্চা করেছি, সেটি ছিল ২০১২-১৩ সালের কথা। এরপর প্রথম আলোতে যোগদান করি। ওই সময়টাতে আমরা মোবাইল জার্নালিজমের জন্য খুব বেশি জিনিসপত্র পাইনি। তখন এগুলো খুবই সহজলভ্য ছিল না। ২০১৮ সালে যখন রাশিয়া ফিফা ওয়ার্ল্ডকাপ কাভার করতে যাই, তখন আমার সঙ্গে ছিল একটি ছোট ক্যামেরা, সাউন্ড রেকর্ডের জন্য একটি মাইক্রোফোন এবং একটি মোবাইল ফোন। এই তিনটি ছোট ডিভাইস দিয়েই রাশিয়াতে এক সপ্তাহ থেকে ওয়ার্ল্ড কাপ কাভার করেছি৷ আমাদের সময় গ্যাজেটের একটা সীমাবদ্ধতা ছিল। বর্তমানে গ্যাজেটের একটা ইন্ডাস্ট্রি হয়ে গেছে। ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির জন্য বাজারে নানা ধরনের গ্যাজেট পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে গ্যাজেটগুলো ব্যবহার করাটাও খুব সহজ হয়ে গেছে।

রাইজিংবিডি: যারা মোবাইল সাংবাদিকতা করতে চায় তাদের কী পরামর্শ দেবেন?

ড. জামিল খান: প্রথমেই যে কাজটি করতে হবে সেটি হলো সাংবাদিকতা শিখতে হবে। নিউজ বুঝতে হবে, ফিচার বুঝতে হবে। নিউজের যে নীতিমালা রয়েছে সেগুলো জানতে হবে।  মোবাইল সাংবাদিকতার যেসব পদ্ধতিগুলো রয়েছে সেগুলো সম্পর্কে জানতে হবে। বর্তমানে শেখার অনেক সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মোবাইল সাংবাদিকতার উপরে অনেক কোর্স করানো হচ্ছে৷ বাজারে মোবাইল সাংবাদিকতার উপরে অনেক বই রয়েছে বা বিভিন্ন রিসোর্স রয়েছে, সেগুলো পড়তে হবে। সাংবাদিকতার নীতিমালা ও বেসিক জিনিসগুলো জেনে তারপরেই এই লাইনে আসা উচিত।

রায়হান/ফিরোজ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়