ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ১৮ এপ্রিল ২০২৪ ||  বৈশাখ ৫ ১৪৩১

রাজশাহী-১

নৌকা ডুবাতে সরে গেল ঈগল, কাঁচিকে সমর্থন

রাজশাহী প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:০৩, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩  
নৌকা ডুবাতে সরে গেল ঈগল, কাঁচিকে সমর্থন

রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আখতারুজ্জামান আক্তার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তিনি এই আসনের আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম রাব্বানীকে সমর্থন দিয়েছেন। রাব্বানীর প্রতীক কাঁচি। আখতারুজ্জামান ঈগল প্রতীকে ভোটে নেমেছিলেন।

আখতারুজ্জামান ও রব্বানী দুই জনই আওয়ামী লীগের নেতা। এরমধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের নেতা আখতারুজ্জামান গোদাগাড়ীর দেওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) তিনবার চেয়ারম্যান ছিলেন। তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি গোলাম রাব্বানী মুণ্ডুমালা পৌরসভার মেয়র ছিলেন। এই দুজনই দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন।

শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন আখতারুজ্জামান। এ সময় তার সঙ্গে কাঁচি প্রতীকের প্রার্থী গোলাম রাব্বানীও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া মুণ্ডুমালা পৌরসভার মেয়র সাইদুর রহমানসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আখতারুজ্জামান বলেন, ‘মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে আমাদের দুই জনেরই প্রার্থিতা বাতিল হয়েছিল। পরে আমরা আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পাই। ভোটের মাঠে নেমে দেখেছি, সাধারণ মানুষ পরিবর্তন চায়। আওয়ামী লীগের পোড় খাওয়া নেতাকর্মীরাও পরিবর্তন চান। এই পরিবর্তন করতে হলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই আসনের নৌকার প্রার্থী টানা ১৫ বছর ধরে সংসদ সদস্য রয়েছেন। তিনি জনবিচ্ছিন্ন। নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার সম্পর্ক নেই। আমরা নৌকার বিরুদ্ধে নির্বাচন করছি না। একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে নির্বাচন করছি। গোদাগাড়ী-তানোরকে রাহুমুক্ত করতে আমাদের বিজয়ী হতে হবে। এই নির্বাচনে জয়ী হতেই আমি সরে দাঁড়াচ্ছি। আমার বড় ভাই গোলাম রাব্বানীর কাঁচি প্রতীকে সমর্থন দিচ্ছি।’

এ সময় গোলাম রাব্বানী ও আখতারুজ্জামান আক্তার কোলাকুলি করেন। গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘আখতারুজ্জামান আক্তার নির্বাচন থেকে সরে গিয়ে আমাকে সমর্থন দিয়েছেন। এ জন্য আমি তার কাছে কৃতজ্ঞ। গোদাগাড়ী-তানোরের মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে। তারা আগামী ৭ তারিখে কাঁচি প্রতীকে ভোট দিয়ে এই পরিবর্তন আনবেন।’

রাজশাহী-১ আসনে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র হিসেবে আরও দুজন প্রার্থী রয়েছেন। তারা হলেন- চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রী আয়েশা আখতার জাহান ডালিয়া। গোলাম রাব্বানী জানান, সমঝোতার বিষয়ে মাহিয়া মাহির সঙ্গে তার কথা বলার কোনো সুযোগ হয়নি। ডালিয়ার সঙ্গে কথা হয়েছে কি না তা তিনি স্পষ্ট করে বলেননি। তবে নির্বাচনের আগে অনেক কিছুই হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন গোলাম রাব্বানী।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী ওমর ফারুক চৌধুরী ২০০১ সাল থেকেই নৌকা পেয়ে আসছেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি প্রথমবার নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে নির্বাচিত হন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায়। পরে ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তিনি জয়ী হন। প্রথমবার এমপি হয়ে ওমর ফারুক চৌধুরী কিছুদিন শিল্প প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য বারবার সমালোচিত হয়েছেন তিনি।

কেয়া/মাসুদ

ঘটনাপ্রবাহ

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়