বগুড়া-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী শাহে আলম কোটিপতি ব্যবসায়ী
বগুড়া প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
মীর শাহে আলম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী মীর শাহে আলম কোটিপতি ব্যবসায়ী। তিনি ১৩টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ব্যবসা করতে গিয়ে তার একক ও যৌথভাবে মোট ব্যাংক ঋণের পরিমাণ প্রায় ১৪ কোটি টাকা। নিয়েছেন অর্ধকোটি টাকার হোম লোনও। তার বিরুদ্ধে বগুড়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা আছে ৫টি।
এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন মীর শাহে আলম। তার বাড়ি বগুড়ার শিবগঞ্জ পৌরসভার বানাইলে। তিনি এমবিএ ডিগ্রিধারী।
মীর শাহে আলম তার নির্বাচনি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, তার বিরুদ্ধে ১৩৮ ধারায় বগুড়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মোট ৫টি মামলা আছে। মামলাগুলোতে তিনি জামিনে আছেন এবং সাক্ষ্যের জন্য দিন ধার্য আছে। ২০০৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে বগুড়া, গাজীপুর এবং ঢাকায় ১৩টি মামলা হয়েছিলো। এগুলোর মধ্যে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন ১১টি মামলায় আর খারিজ হয়েছে ২টি মামলা।
তিনি হলফনামায় নিজের ও তার ওপর নির্ভরশীলদের আয়ের উৎস করেছেন। কৃষি খাত থেকে তার বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৯ হাজার ৬০ টাকা, নির্ভরশীলদের আয় ৫৫ হাজার টাকা। বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট বাণিজ্যিক স্থান ও অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তি থেকে তিনি ভাড়া পান ৩৬ হাজার ২৬০ টাকা, নির্ভরশীলরা পান ৩ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। ব্যবসা থেকে তার বার্ষিক আয় ৮৮ লাখ ৯০ হাজার ৫০০ টাকা। উত্তর বাংলা ওভারসীজ লিমিটেড থেকে তিনি বার্ষিক সম্মানি পান ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
বগুড়া-২ আসনে বিএনপির এই প্রার্থী তার হলফনামায় অস্থাবর সম্পদ বিবরণীতে উল্লেখ করেছেন, তার নামে নগদ টাকা/ব্যবসায়িক পুঁজি/ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ৩ কোটি ২০ লাখ ৭৭ হাজার ৯৪৫ টাকা। তার স্ত্রীর নামে আছে ৭ লাখ ৮৫ হাজার ৭৭৮ টাকা। স্ত্রীর নামে পোস্টাল, সেভিংস সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ আছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। মীর শাহে আলমের নামে আছে ২৫ ভরি গহনা। যেগুলো তিনি দানসূত্রে, উত্তরাধিকার সূত্রে ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপহার সূত্রে পেয়েছেন। যার অর্জনকালীন মূল্য ৪০ হাজার টাকা। তার স্ত্রীর নামে ২০ ভরি গহনা আছে। তিনিও দানসূত্রে, উত্তরাধিকার সূত্রে ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপহার সূত্রে পেয়েছেন। এসবের অর্জনকালীনমূল্য ৪৫ হাজার টাকা।
মীর শাহে আলম হলফনামায় দেখিয়েছেন, তার অস্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য ৩ কোটি ২২ লাখ ৫৭ হাজার ৯৪৫ টাকা এবং তার স্ত্রীর নামে অস্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য ৯ লাখ ৯০ হাজার ৭৭৮ টাকা। বর্তমানে এগুলোর আনুমানিক দাম ৩ কোটি ৭১ লাখ ৭৭ হাজার ৯৪৫ টাকা। স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদের বর্তমান আনুমানিক মূল্য ৪৯ লাখ ৪৫ হাজার ৭৭৮ টাকা।
মীর শাহে আলমের স্থাবর সম্পদ
পৈত্রিক ও উত্তরাধিকার সূত্রে ১৮ দশমিক ১১ একর কৃষি জমির মালিক মীর শাহে আলম। এসব জমির ক্রয়মূল্য ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। তার স্ত্রীর নামে আছে ২৬ শতাংশ কৃষি জমি, যার ক্রয় মূল্য ৪১ হাজার টাকা। তার নামে অকৃষি জমি আছে ৩১ দশমিক ১৩ শতাংশ জমি, যার ক্রয়মূল্য ৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। ঢাকার তেজগাঁওয়ে ৯০০ স্কয়ার ফিটের ভবন আছে, যার ক্রয়কালীন মূল্য ২৬ লাখ ৩৪ হাজার ২৪০ টাকা। বগুড়া বিআরটিসি মার্কেটে ১৪৪ স্কয়ার ফিটের একটি দোকান আছে, যার মূল্য ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। ঢাকার মিরপুরে ১১৫০ ও ১৪৫০ স্কয়ার ফিটের ২টি ফ্ল্যাট রয়েছে তার নামে। এছাড়া তার স্ত্রীর নামে ২টি দোকান ও শিবগঞ্জের বাড়ি আছে।
মীর শাহে আলমের স্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য ১ কোটি ২০ লাখ ১০ হাজার ২৪০ টাকা। এর বর্তমান আনুমানিক মূল্য ৩ কোটি ৩১ লাখ ৭০ হাজার ৬০০ টাকা। তার স্ত্রীর নামে স্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য ৩ লাখ ২৮ হাজার টাকা, যার বর্তমান আনুমানিক মূল্য ২১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা।
মীর শাহে আলমের নামে লংকা বাংলা ফাইন্যান্সের ঢাকার মিরপুর শাখা থেকে ৫২ লাখ ৬৭ হাজার ১৪ টাকা হোম লোন নেওয়া হয়েছে। ইসলামী ব্যাংকের বড়গোলা শাখা, বগুড়া থেকে মীর শাহে আলমের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মীর সীমান্ত-দিগন্ত ফিলিং স্টেশন ও মীর লাবনী-সুনাত ফিলিং স্টেশনের নামে ৫০ লাখ টাকা করে ১ কোটি টাকা একক ঋণ নেওয়া হয়েছে। রোমা অটো রাইস মিলের নামে ৫০ লাখ ও রুপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস লিমিটেডের নামে ৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা ইসলামী ব্যাংক বড়গোলা শাখা এবং রোমা অটো রাইস মিলের নামে ঢাকা ব্যাংকের বগুড়া শাখা থেকে ৪ কোটি ৪০ লাখ ৬২ হাজার ৫০০ টাকা যৌথ ঋণ নেওয়া রয়েছে মীর শাহে আলমের। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রুপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মীর শাহে আলম। রোমা অটো রাইস মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং মীর সীমান্ত-দিগন্ত ফিলিং স্টেশন ও মীর লাবনী-সুনাত ফিলিং স্টেশনের প্রোপ্রাইটর মীর শাহে আলম।
২০২৫-২৬ সালে মীর শাহে আলমের আয়কর রিটার্নে আয়ের পরিমাণ দেখানো হয়েছে, ৯৪ লাখ ১৫ হাজার ৮২০ টাকা। আয়কর রিটার্নে সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৩ কোটি ৪৫ লাখ ৮ হাজার ৩৭১ টাকা। আয়কর দিয়েছেন ২৩ লাখ ৩৫ হাজার ৪৮৬ টাকা। তার স্ত্রীর নামে আয়কর রিটার্নে আয়ের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৪ লাখ ১২ হাজার টাকা। আয়কর রিটার্নে সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৭৭৮ টাকা। আয়কর দিয়েছেন ৩ হাজার টাকা। সন্তানের নামে রিটার্নে আয়ের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আয়কর রিটার্নে দেখানো সম্পদের পরিমাণ ২৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা। প্রদত্ত আয়করের পরিমাণ দেখিয়েছেন ৭৫ হাজার টাকা।
ঢাকা/এনাম/রফিক