মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর অবদান নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিবাদ
পটুয়াখালী (উপকূল) প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম পটুয়াখালী জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আব্দুল হক কাওসারী। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তার দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান বীর মুক্তিযোদ্ধারা (ডানে)
মহান মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কোনো অবদান ছিল না, বক্তব্যে এমন মন্তব্য করায় পটুয়াখালী জেলা জমিয়তে ইসলামের এক নেতাকে অনুষ্ঠান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের তীব্র প্রতিবাদের মুখে তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেয় জেলা প্রশাসন। জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা জানান, আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম পটুয়াখালী জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আব্দুল হক কাওসারী বলেন, ‘১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শেখ মুজিবুর রহমানের কোনো অবদান নেই।’ তার এই বক্তব্যের পরপরই উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আবদুল মতলেবের সন্তান কাজী দিলীপ দাঁড়িয়ে ‘অবজেকশন’ জানিয়ে তার বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন। পরে ১০ থেকে ১২ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা একযোগে ওই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান। এতে অনুষ্ঠানস্থলে হট্টগোলের সৃষ্টি হয় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে প্রতিবাদের মুখে মাওলানা আব্দুল হক কাওসারী প্রশাসনের সহায়তায় অনুষ্ঠান স্থল ত্যাগ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী, পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ, স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক (উপসচিব) জুয়েল রানা, জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা।
প্রতিবাদকারী কাজী দিলীপ জানান, জেলা প্রশাসনের আমন্ত্রণে তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ধারাবাহিক বক্তব্যের মধ্যে হঠাৎ এমন মন্তব্য শুনে তিনি প্রথমে আপত্তি জানান, পরে মুক্তিযোদ্ধারাও তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রতিবাদ করেন।
তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বাদ দিয়ে স্বাধীনতা, ৭ মার্চের ভাষণ, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান কিংবা মুক্তিযুদ্ধ কল্পনা করা যায় না। তার অবদান অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।” তিনি মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিরপেক্ষ বোর্ড গঠনের দাবি জানান।
এ বিয়ষয়ে জানতে চাইলে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম পটুয়াখালী জেলা শাখা সভাপতি মাওলানা আব্দুল হক কাওসারী জানান, তিনি ২৫ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কালকে বোঝাতে চেয়েছেন। তার দাবি, ওই সময়ে শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানে অবস্থান করায় সরাসরি কোনো ভূমিকা রাখতে পারেননি।
মাওলানা আব্দুল হক কাওসারী বলেন, “বক্তব্যের সময় কিছু মুক্তিযোদ্ধা উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং পরে প্রশাসনের অনুরোধে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।”
পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারকে সংবর্ধনা দিতে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এক রাজনৈতিক ব্যক্তি শেখ মুজিবুর রহমানকে জড়িয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দেন। এক মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বিষয়টির প্রতিবাদ জানান। পরে শহীদ পরিবারের সদস্যরা ক্ষিপ্ত হন এবং প্রতিবাদ শুরু করেন। রাজনৈতিক ওই ব্যক্তিকে অনুষ্ঠান স্থান ত্যাগ করতে বলা হলে তিনি চলে যান।
ঢাকা/ইমরান/মাসুদ