চবির চারুকলায় বর্ষবরণের রঙিন প্রস্তুতি
চবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
বাংলা নববর্ষকে বরণ করতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) চারুকলায় চলছে উৎসবের মহা আয়োজন। নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে সৃজনশীল নানা কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিক্ষার্থীরা। রং-তুলির ছোঁয়া আর কল্পনার মেলবন্ধনে তৈরি হচ্ছে নানান শিল্পকর্ম।চারুকলা ইনস্টিটিউটের সামনে বাঁশ, কাগজসহ দেশীয় উপকরণ দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে শৈল্পিক কাঠামো, আলপনা, দৃষ্টিনন্দন মুখোশ ও ভাস্কর্য। প্রস্তুতির বেশিরভাগ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে, এখন চলছে রঙে রাঙিয়ে তোলার শেষ ধাপ।
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী ‘বৈশাখী উৎসব ও উদ্যোক্তা মেলা’র আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও ‘কারুবীথি’। আগামী ১৪ ও ১৫ এপ্রিল সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বুদ্ধিজীবী চত্বরে অনুষ্ঠিত হবে এ মেলা। এতে অংশ নিতে ইতোমধ্যে ৭৫টি স্টল নিবন্ধন করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ১৪ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টায় স্মরণ চত্বর থেকে জারুলতলা পর্যন্ত বৈশাখী শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে বর্ষবরণ শুরু হবে। এরপর বেলা ১১টায় জারুলতলায় অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা। বেলা ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত উন্মুক্ত মঞ্চ, মুক্ত মঞ্চ, বুদ্ধিজীবী চত্বর ও চাকসু প্রাঙ্গণে থাকবে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী পুতুলনাচ, বলী খেলা, কাবাডি ও বউচি খেলা।
দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জারুলতলায় বৈশাখী মঞ্চে আয়োজন করা হয়েছে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার। এতে জাতীয় সংগীত, বৈশাখের গান, নৃত্য ও লোকজ পরিবেশনা থাকবে। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকবে মনোজ্ঞ সংগীতানুষ্ঠান। পাশাপাশি দিনব্যাপী নাগরদোলা, পালকি, গরুর গাড়ি, ঘোড়ার গাড়ি ও বায়োস্কোপের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী জীবনধারা।
শিল্পী রশিদ চৌধুরী হল সংসদের ভিপি ও চারুকলার শিক্ষার্থী খন্দকার মাসরুল আল ফাহিম বলেন, “গত পাঁচ দিন ধরে পুরোদমে কাজ চলছে এবং প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন।” তিনি জানান, শিগগিরই বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট ও শহীদ মিনারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আলপনা আঁকা হবে। আগে সীমিত পরিসরে ক্যাম্পাসের বাইরে নববর্ষ উদযাপন হলেও এবার বড় পরিসরে সবার অংশগ্রহণে উৎসব আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে।”
চারুকলা ইনস্টিটিউটের পরিচালক তাসলিমা আকতার বলেন, “আগে শহরে অবস্থানের কারণে চারুকলার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আলাদাভাবে নববর্ষ উদযাপন করতেন। তবে, ইনস্টিটিউটটি মূল ক্যাম্পাসে স্থানান্তরিত হওয়ায় এবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় কেন্দ্রীয়ভাবে বর্ণাঢ্য আয়োজন করা হচ্ছে।”
উদ্যোক্তা মেলা প্রসঙ্গে চাকসুর ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান সোহান জানান, মেলার দ্বিতীয় দিনে সাংস্কৃতিক আয়োজন থাকবে এবং সেরা স্টলগুলোকে পুরস্কৃত করা হবে। স্টলগুলোতে বৈশাখী ঐতিহ্যভিত্তিক নানা সেমি-হ্যান্ডমেড ও হ্যান্ডমেড পণ্য প্রদর্শিত হবে। মানসম্মত পণ্য হলে ‘কারুবীথি’ উদ্যোক্তাদের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে বিপণন ও মার্কেটিংয়ে সহায়তা দেবে।
পহেলা বৈশাখ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন বলেন, “গতবারের ধারাবাহিকতায় এবারো জাঁকজমকপূর্ণভাবে নববর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। চারুকলা মূল ক্যাম্পাসে থাকায় আয়োজন এবার নতুন মাত্রা পেয়েছে।” পহেলা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব, নিজস্ব সংস্কৃতির আনন্দ সবাইকে একসঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ঢাকা/মিজানুর/জান্নাত
লিবিয়ায় ভূমধ্যসাগরের তীর থেকে ২ বাংলাদেশির মৃতদেহ উদ্ধার