ঢাকা     রোববার   ০৫ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ২২ ১৪৩২ || ১৬ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

মায়ের আঁচলে চোখের জল

গোলাম মোস্তফা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:২৫, ২১ এপ্রিল ২০২০   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
মায়ের আঁচলে চোখের জল

কল্পনার সাথে কথা বলার অভ্যাসটা বুঝি এখন নিয়মিত হয়ে যাচ্ছে আমার। স্বপ্নের বাড়িতে কেন জানি সবসময় থেকে যেতে ইচ্ছে করে। কারণ, অকারণে সংলাপ বলতে ভালো লাগে সবসময়। কিন্তু সময় চলে যায় তার মতো করে। ছোট অধ্যায়ে দুঃখ রাখতে নেই হৃদয়ে, তাই কল্পনার সাথে জীবনের সংলাপ বলে যে আনন্দ পেয়ে থাকি, তা অন্য কোথাও পাই না।

হঠাৎ কল্পনাতে মায়ের সাথে সংলাপ বলছি, কিন্তু মাকে দেখতে পাচ্ছি না কেন জানি, নাকি আমার কল্পনা আমার সাথে ছলনা করছে। এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে সকাল হলো খেয়াল করিনি, অন্য দিকে আমার পোষা ময়না গান গাইছে মনের সুখে।

অন্তর ব্যথা কেন জানি সকাল থেকে পেছন ছাড়ছে না। কোনো কাজ করতে ভালো লাগছে না, সকালবেলার নাস্তা না করে বের হয়ে গেলাম অন্তরের ব্যথা কমানোর জন্য। বাসের টিকেট কেটে জানালার পাশে বসলাম মেঘলা মন নিয়ে। গাড়ি ছেড়ে দিলো, আমি বাইরে তাকিয়ে রইলাম, আর আকাশের রঙ দেখছি মিনিটে মিনিটে বদলাছে। এভাবে হয়তো মানুষের মন বদলায়, যা আজ সকালবেলা আমার সাথে হলো।

আচ্ছা আমি যেখানে যাচ্ছি, সেখানে গিয়ে আগে কী বলবো, কেমন আছো জিজ্ঞেসা করবো, নাকি তোমার শরীর ভালো আছে এটা বলব? ছোট্ট জীবনের মায়া আমার কাছে তেমন নেই, তবে একটা জায়গাতে গিয়ে মনে হয় আমি হাজার বছর বাঁচতে চাই, বিদায় সুর জেন কখনো না আসে আমার। চোখের জলকে বলি তুমি থমকে যাও, আমি যে আমার ঠিকানার কাছে এসেছি।

মায়ের আঁচল যে আমার জীবনের বড় ঠিকানা। এই ঠিকানায় কোনো কষ্ট নেই, আছে মমতাময়ী মায়ের ভালোবাসা। কতো দিন হলো মাকে দেখি না, মা বলে ডাকি না। এই হৃদয় আয়নার যন্ত্রণা যে কাউকে দেখাতে পারি না, নষ্ট সমাজে কাকে বলব আমার কষ্টের কথা। শুনার মতো মানুষ নেই, তবে আড্ডা এবং খাওয়া-মজা করার অনেক মানুষ আছে আমার চারপাশে।

আমি আমার ঠিকানায় চলে এসেছি, বাস থেকে নেমে রিকশা নিয়ে আবার রওনা হলাম। হৃদয়ের মাঝে সাগরের ঢেউ শুরু হয়েছে। কারণ, আমি যে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছি, শক্তি হারিয়ে গিয়েছে শরীর থেকে, কথা বলতে পারছিলাম না, কলিং বেল দিতে পারছিলাম না কেন জানি। অনেক কষ্ট করে দরজায় নক দিলাম, ভেতর থেকে কে জানি বলল, আসছি।

দরজাটি খুলল আমার ছোট বোন আনিকা, আমাকে দেখে চিৎকার শুরু করল, আর মাকে বলছে মা মা আমাদের ভাই এসেছে। আনিকা বলল, ভাইয়া ভেতরে আসো, ওর সাথে ভেতরে গিয়ে বসলাম। আমাকে সবাই দেখে অনেক খুশি, ছোট বোন আমার জন্য নাস্তা আনতে শুরু করল।

দরজার আড়াল থেকে মা আমাকে দেখছে আমি প্রথমে খেয়াল করিনি, যখন দেখলাম নিজের অজান্তে চোখে জল আসতে শুরু করল। আমি খালি শুনতে পাচ্ছি মায়ের কান্নার শব্দ, আর এই ব্যথা যে অনেক দিনের জমা, আনিকাকে বললাম মা কোথায়? মা তো দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে তোমাকে দেখছে আর কান্না করছে।

আমি আওয়াজ করে মাকে বললাম, মা তুমি কেমন আছো? মা শুধু বলল, অনেক ভালো আছি, আমি বললাম তুমি সামনে আসো না কেন? কতো দিন তোমাকে দেখি না। কিছুক্ষণ পর মা আসলো আমার জন্য ফল নিয়ে, আমায় বললো তোর শরীর কেমন আছে বাবা?  বললাম, তোমাকে দেখে আমি এখন অনেক ভালো আছি।

মায়ের আঁচল চোখের জলে ভিজে গেছে! মায়েরা আসলে বড় অসহায় তার জীবনে। আমার মা সবসময় আমার জন্য কান্না করে, যা অন্য কেউ জানে না, তা আমি জানি মায়ের মন যে সন্তানকে ডাকে।

মমতাময়ী মা আমার পছন্দের সব খাবার রান্না করল, খাবার টেবিলে সবাইকে নিয়ে বসলাম, মাকেও বললাম তুমি আমাদের সাথে বসে পড়ো। মা বলল, আমাদের আগে খাওয়াবে তারপর। অনেক বলার পরেও বসাতে পারলাম না। তিনিই মা।

লেখক: শিক্ষার্থী, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ।


ঢাকা/হাকিম মাহি

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়