অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ এখন ২৯৫টি, দামও বেঁধে দিচ্ছে সরকার
নিউজ ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান।
জাতীয় অত্যাবশ্যক ওষুধের তালিকায় ওষুধের সংখ্যা বাড়িয়ে ২৯৫ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান। তিনি আরো জানান, এই সকল ওষুধের মূল্য নির্ধারণ করবে সরকার। এ জন্য মূল্য নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নতুন নীতিমালা করা হচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাজধানীর হেয়ার রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, ‘‘সাধারণ মানুষের কাছে ওষুধ সহজলভ্য করতে জাতীয় অত্যাবশ্যক ওষুধের হালনাগাদ তালিকা এবং ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নতুন নীতিমালা অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আজ (বৃহস্পতিবার) উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এই দুই প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। এর ফলে তালিকাভুক্ত ওষুধগুলো সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা যাবে না।’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘আজ একটি অত্যাবশ্যক ওষুধের তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে, যেখানে ২৯৫টি ওষুধ উপদেষ্টা পরিষদ অন্তর্ভুক্ত করেছে। এবারের তালিকায় আগের তালিকার তুলনায় ১৩৬টি ওষুধ বেশি। এসব ওষুধ সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করতে হবে এবং এই দামের বাইরে যাওয়ার সুযোগ থাকবে না।’’
তিনি বলেন, ‘‘এ সিদ্ধান্ত সরাসরি দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষের চিকিৎসা প্রাপ্যতা ও ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলবে। এটি বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।’’
সায়েদুর রহমান বলেন, ‘‘১৯৮২ সালে প্রণীত ওষুধ নীতির মাধ্যমে দেশীয় ওষুধ শিল্পের বিকাশ এবং সাধারণ মানুষের কাছে ওষুধ সহজলভ্য করার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, সময়ের সঙ্গে তা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়ে। ১৯৯৪ সালে এসে সব ওষুধের ওপর মূল্য নিয়ন্ত্রণ তুলে নিয়ে মাত্র ১১৭টি ওষুধে তা সীমিত করা হয়। গত প্রায় তিন দশক এই কাঠামো অপরিবর্তিত থাকায় নিয়ন্ত্রিত তালিকার বাইরে ওষুধের সংখ্যা বাড়তে বাড়তে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৩০০টিতে পৌঁছেছে।’’
সায়েদুর রহমান জানান, শিগগিরই এই সিদ্ধান্ত গেজেট আকারে জারি করা হবে। ভবিষ্যতে ওষুধের দাম নির্ধারণ ও নজরদারির জন্য বিদ্যমান ব্যবস্থার বাইরে একটি স্বাধীন ‘ন্যাশনাল ড্রাগ প্রাইসিং অথরিটি’ গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে। আপাতত এই দায়িত্ব পালন করবে ড্রাগ প্রাইস ফিক্সেশন কমিটি।
ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ও উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা/বকুল