আজ পবিত্র শবে মেরাজ
নিউজ ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
ছবি: সংগৃহীত
আজ শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) পবিত্র শবে মেরাজ। মেরাজ শব্দের অর্থ হলো ঊর্ধ্বগমন। লাইলাতুল মেরাজ বা মেরাজের রজনী এই উপমহাদেশে শবে মেরাজ হিসাবে অধিক পরিচিত। শবে মেরাজের রাতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) অলৌকিক উপায়ে উর্ধ্বাকাশে আরোহণ করেছিলেন এবং এই পবিত্র রাতে মহান আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
ইসলামি ইতিহাস অনুযায়ী, হিজরি সনের রজব মাসের ২৬ তারিখ রাতে মহান আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর দিদার লাভ করেন। রাতে আল্লাহর রাসুল (সা.) শুয়েছিলেন। তার চোখ তন্দ্রাচ্ছন্ন ছিল। কিন্তু নবীর হৃদয়-মানস ছিল জাগ্রত। সে সময় আগমন করলেন হযরত জিবরাঈল (আ.)। তিনি নবীজিকে উঠিয়ে নিয়ে যান জমজম কূপের নিকট। এরপর একটি স্বর্ণের পেয়ালা আনা হলো। তা ছিল ঈমান ও হিকমতে পূর্ণ; তাতে জমজমের পানি। জিবরাঈল (আ.) নবীজির বক্ষ মোবারক বিদীর্ণ করে বের করে আনলেন নবীজির হৃদয়। জমজমের পানি দিয়ে তা ধুয়ে আবার প্রতিস্থাপন করে দিলেন জায়গামত।
এরপর ঈমান ও হিকমতে পূর্ণ করে দেওয়া হলো নবীজির কলব। পরে নিয়ে আসা হলো নবীজিকে বহন করার জন্য সওয়ারী। প্রাণীটি গাধার চেয়ে বড়, ঘোড়া থেকে ছোট। নাম বুরাক। রং সাদা। এটা এতটাই ক্ষিপ্রগতির যার একেকটি কদম পড়ে দৃষ্টির শেষ সীমায় গিয়ে।
মহানবী (সা.) জিবরাইল (আ.) ও মিকাইলের (আ.) সঙ্গে বিশেষ বাহন বুরাকের মাধ্যমে মেরাজের রাতে সফর করেন। তিনি মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা হয়ে প্রথম আসমানে গমন করেন। এরপর ধারাবাহিকভাবে সপ্তম আসমান এবং সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত এবং সেখান থেকে একাকী রফরফ বাহনে আরশে আজিম পর্যন্ত ভ্রমণ করে মহান রাব্বুল আলামিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ লাভ করেন। পাশাপাশি জান্নাত-জাহান্নাম পরিদর্শন করে পৃথিবীতে ফিরে আসেন।
এই মহান ঘটনার কারণেই শবে মেরাজ রাতটি মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ একটি রাত হিসেবে বিবেচিত। এ রাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, নফল নামাজ আদায়, জিকির-আজকার, দোয়া ও অন্যান্য ইবাদত-বন্দেগিতে নিজেদের নিয়োজিত রাখেন।
ঢাকা/লিপি